ঢাকা, বৃহস্পতিবার 05 January 2017, ২২ পৌষ ১৪২৩, ০৬ রবিউস সানি ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

২৬২ কোটি টাকার খনন কাজ চালালেও কপোতাক্ষ যৌবন ফিরে পায়নি 

খুলনা অফিস : খুলনা-সাতক্ষীরা ও যশোর জেলার উপর দিয়ে প্রবাহিত এক সময়কার খরস্রোতা কপোতাক্ষ নদের যৌবন ফেরেনি। কালের বিবর্তনে নদ হারিয়েছে তার নাব্যতা ও গতিপথ। দখলদারিত্বের প্রভাব তো ছিল শুরু থেকেই। সরকার ২৬২ কোটি টাকা ব্যয়ে খনন কাজ চালালেও নদী তার নাব্যতা ফিরে পায়নি। বরং খনন কাজ শেষ হতে না হতেই দু’তীরের জেগে উঠা চরগুলো মুহূর্তের মধ্যেই দখল হয়ে গেছে। বিলীন হয়েছে কপোতাক্ষের সাথে যুক্ত থাকা শত শত শাখা খাল। ২০০ কিলোমিটার জুড়ে বিস্তৃত এ কপোতাক্ষ নদ সাতক্ষীরা জেলার তালা উপজেলার উপর দিয়ে প্রবাহিত।

এই নদকে কেন্দ্র করে জীবিকা নির্বাহ করতো তীরবর্তী লাখো মানুষ। এসব জেলে সম্প্রদায়ের মানুষগুলো এখন যেন অসহায়। অনেকটা নিরুপায় হয়েই জীবন জীবিকার তাগিদে মাছ ধরার তাগিদে ছুটে যেতে হয় সাগরে।

এমন এক জেলে সাতক্ষীরার তালার গোপালপুর গ্রামের সুকমল বিশ্বাস বলেন, কপোতাক্ষের মৃত্যুর সাথে সাথেই আমাদের ভাগ্যের মরণ হয়েছে। এই নদীতেই এক সময় জাল টেনে মাছ ধরতাম। নদীতে কি স্রোত ছিল। ১৫ বছর আগের কথা, এ নদীতে মাছ ধরেই সংসার চলতো আমার মত হাজারো মানুষের। এখন আর নদী নেই তাই সাগরে যাই মাছ ধরতে। সেখানে গেলে দস্যুরা জিম্মি করে। চাঁদা দিয়ে মাছ ধরতে হয়। আবার কখনো সাগরের জোয়ারে ভেসে যেতে হয় আমার কোন ভাইয়ের।

কপোতাক্ষের অপমৃত্যুর কারণ হিসেবে তিনি বলেন, দখলদারিত্বের প্রভাব। ২০১০ সালের পর থেকে কপোতাক্ষ একেবারেই মৃত্যুর মুখে পড়ে যায়। তীরে জেগে উঠা চরগুলো মুহূর্তেই দখল হয়ে যায়। সে সময় যদি এগুলো ঠেকানো যেতো তবে কপোতাক্ষের এমন করুণ পরিণতি আমাদের দেখতে হতো না।

খানপুর গ্রামের আব্দুল সামাদ সরদারের ছেলে আব্দুল গফুর সরদার জানান, নদীতো এখন নেই। নামে মাত্র রয়েছে। তীরে থাকা শত শত খালগুলো সব দখল হয়ে গেছে। অনেকটার কিছু চিহ্ন থাকলেও অধিকাংশ খালের চিহ্ন পর্যন্ত নেই। সরকার চাইলেও এসব সরকারি খালগুলো উদ্ধার করতে পারবে না বলে আমি মনে করি।

তালার মহল্লাপাড়া এলাকার কাজী জীবন বলেন, সরকার ২৬২ কোটি টাকা ব্যয়ে কপোতাক্ষ খননের নামে প্রহসন করা হয়েছে। ঠিকাদার শাহিন চাকলাদারের সাথে হাত মিলিয়ে প্রভাবশালীরা কাজের সুষ্ঠু তদারকি করেননি। তাছাড়া সরকারি কর্মকর্তারা টাকার বিনিময়ে অবৈধভাবে মানুষদের কপোতাক্ষের জমি ইজারা দিয়েছে। এসব কারণে দখলদারিত্বের প্রভাব বিস্তৃতি লাভ করায় কপোতাক্ষ এখন মৃত।

কপোতাক্ষের পূর্বের অবস্থায় ফিরে না যাওয়ার একমাত্র কারণ হিসেবে পানি উন্নয়ন বোর্ডের গাফিলতিকে উল্লেখ করে তালা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. ফরিদ হোসেন বলেন, খনন কাজ পরিচালনার সময় পানি উন্নয়ন বোর্ড যথযথভাবে কাজটি বুঝে নেয়নি। যেটুকু খনন করার কথা সেটুকুও ঠিকাদাররা খনন করেনি। তবে তারপরও জলাবদ্ধতার হাত থেকে কিছুটা হলেও তীরবর্তী মানুষগুলো রক্ষা পেয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ