ঢাকা, শুক্রবার 06 January 2017, ২৩ পৌষ ১৪২৩, ০৭ রবিউস সানি ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

জীবনের গান

লী কনরাড / তরজমা : হোসেন মাহমুদ : সাগরের স্বভাবের সাথে মানুষের স্বভাবের মিল আছে। মানুষ এমনিতে শান্ত, কিন্তু খুব দ্রুতই রেগে উঠতে পারে। সাগরও ঠিক তাই।
ঝড় যখন এগিয়ে এল তখন বাতাসের জোর বাড়ল আর তা পূর্ণ শক্তিতে জাহাজের অগ্রভাগে আছড়ে পড়ল। সাগরের ঢেউ সাপের ফণার মত ছোবল মারতে থাকল জাহাজের গায়ে। বৃষ্টির আক্রমণ থেকে বাঁচতে ক্রুরা বর্ষাতি দিয়ে শরীর ঢাকল।
জাহাজটি ছিল মার্কিন নৌবাহিনীর একটি ডেস্ট্রয়ার। ১৯৬৯ সালে এটিকে ভিয়েতনামে মোতায়েন করা হয়। সাগর তীরবর্তী ভিয়েতনামী গ্রাম ও শত্রুঘাঁটিগুলোর উপর গোলাবর্ষণ করে জাহাজের নৌসেনারা। নৌসেনাদের মধ্যে কিছু লোক, জাহাজটি থেকে গোলাবর্ষণ করে যে ধ্বংসকা- চালানো হয়, তার দুঃসহ স্মৃতি ভুলে থাকার চেষ্টা করে। তারা জানে যে জাহাজের সব গোলাই শত্রুদের উপর পড়ে না।০ এদের মধ্যে একজন ছিল সিগন্যালম্যান কেভিন গেইল। মনে হত, বারুদের তীব্র গন্ধ, আগুনে জ¦লতে থাকা বাড়িঘর আর মৃত্যু বাতাসে ঝুলে আছে।
১৯৪২ সালে তৈরি হলেও জাহাজটি সাগরে চলাচলের সম্পূর্ণ উপযোগী ছিল। আর সব নৌসেনার মত কেভিনও দেশে ফেরার জন্য অপেক্ষা করছিল। কারণ, ভিয়েতনাম উপকূলে তাদের এক বছরের অ্যাসাইনমেন্টের মেয়াদ শেষ হয়ে গিয়েছিল। নিকটস্থ বন্দর থেকে একদিনের দূরত্বে ছিল তারা। আজকের ঝড়ের প্রচ-তা কেভিনের আসন্ন বাড়ি ফেরার আনন্দকে ম্লান করতে পারল না।
ডেস্ট্রয়ারটি ক্যালিফোর্নিয়ার নৌবন্দরে নোঙর ফেলল ঠিকমতই। কেভিন তার কর্তব্যস্থল জাহাজের সবচেয়ে উঁচুস্থান সিগন্যাল ব্রিজে দাঁড়িয়ে বাইনোকুলার দিয়ে শহরটি দেখছিল। তার চোখে পড়ে শহরের সবুজ পার্কটি, তার মধ্যে আবার একটি ছোট লেক। মাসের পর মাস কূল-কিনারাহীন সাগর আর আকাশ দেখে ক্লান্ত চোখের কাছে এ সবুজের কদর অতুলনীয়। পার্কটিকে তার কাছে স্বর্গোদ্যান বলে মনে হয়। তার চোখে পড়ে আধা ঝুলন্ত, মরচে পড়া, রোদ-বৃষ্টির কামড়ে জীর্ণপ্রায় একটি সাইনবোর্ড। তাতে লেখা: আসুন, ক্লান্তিমোচন করুন। আপনাকে স্বাগতম। কেভিন জানে, জাহাজ মেরামতের জন্য ড্রাইডকে তোলা হবে। তাতে কিছুদিন লাগবে। এ সময়টা তীরে গিয়ে নৌসেনারা আনন্দ-ফুর্তি করবে, ঘুরে বেড়াবে। সে সাথে মেরামত করে নেবে তাদের ভাঙাচোরা মনও।
ডিউটি শেষে পোশাক পরিবর্তন করার জন্য মেসে ফিরে কেভিন সহকর্মীদের হৈচৈ শুনতে পায়। সবার মধ্যে তীরে নামার প্রচন্ড ব্যস্ততা দেখা যাচ্ছে। তার বন্ধু বিল এলি কাছে এগিয়ে আসেÑ
ঃ কি ব্যাপার! নামার জন্য প্রস্তুত হচ্ছ না যে? জলদি কর। পানশালাগুলো  আমাদের জন্য অপেক্ষা করছে। সবাই একসাথে নামি।
ঃ না, আমার একটু অন্য কাজ আছে। আমি শহরে ঘুরতে যাব। তোমরা যাও। আমি পরে  যোগ দেব তোমাদের সাথে। বলে কেভিন।
রসিকতা করে বিল বলেÑ
ঃ দেখো বন্ধু, এখানে যেন হারিয়ে যেও না। এখানে হারানোর অনেক কিছু পাবে।
বেশি দেরি হয় না। কয়েকজন ছাড়া নৌসেনাদের প্রায় সবাই জাহাজ থেকে নেমে যায়। এদিকে কেভিনের মনে সেই পার্কটির কথা ঘুরছিল। তাদের বাড়ির কাছেও ছিল একটি সুন্দর পার্ক। এ মুহূর্তে সেই পার্কটি ও ছোটবেলার শান্তিময় দিনগুলোর স্মৃতি তার মনে ভিড় করে।
কেভিনের জন্ম উত্তর নিউ ইয়র্কের এক শহরতলিতে। নৌসেনাদের কারো কারো মত সে বেপরোয়া শহুরে বালক ছিল না। বরং ছিল ভীষণ শান্ত ও পড়–য়া। অবসর সময়ে সে একটি ছায়াভরা গাছের নিচে বসে বই পড়ত। হাইস্কুল পাস করার পর জ্ঞাতি ভাইদের উৎসাহে সে নৌবাহিনীতে যোগ দেয়। তারা আগেই সে কাজটি করেছিল। তারা তাকে বলেছিল, সেনাবাহিনীর চেয়ে নৌবাহিনী ভালো। বাছাই পরীক্ষায় সাঁতারে সে কোনো রকমে উৎরে গিয়েছিল। তবু নৌবাহিনী তাকে নিয়ে নেয়। কেভিনের সবচেয়ে ভালো বন্ধু রিচার্ড চেয়েছিল তারা দু’জনই একসাথে সেনাবাহিনীতে যোগ দেবে। মাঝে তাদের মধ্যে আর যোগাযোগ ছিল না তেমন। তবে জেনেছিল, সর্বশেষ রিচার্ড ভিয়েতনামে একটি হুয়েই হেলিকপ্টারে ডোর গানার ছিল। পরে দেশ থেকে আসা এক চিঠিতে জানতে পারে যে একবার অভিযানে গিয়ে রিচার্ডের হেলিকপ্টার ঘাঁটিতে ফেরেনি, আর সে নিখোঁজ তালিকাভুক্ত।
জাহাজ থেকে নামে কেভিন। দ্রুত পায়ে এগোয় শহরের পথে। জাহাজঘাটার পানশালায় বিয়ারের গন্ধের সাথে পচা মাছের গন্ধ মিলে পেট গুলিয়ে ওঠার যোগাড়। পথের দু’ধারের বাড়িগুলোতে স্বচ্ছলতার চিহ্ন অনুপস্থিত। অনেক বাড়িই মেরামত করা দরকার। বিভিন্ন বাড়ির লোকজন কেভিনকে দেখছিল। কেউ তার সাথে কথা বলল না বটে, তবে তাদের মুখে ছিল বন্ধুত্বপূর্ণ হাসি। মনে হচ্ছিল, জাহাজটির উপস্থিতি তারা পছন্দ করেনি এবং তাদের কাছে তা অনাকাক্সিক্ষতও বটে, কারণ বন্দরটি তার সুদিন হারিয়েছিল।
নৌসেনার উর্দি পরা কেভিন অচিরেই বুঝতে পারে, এ শহরে কারোরই বুঝতে অসুবিধা হচ্ছে না যে সে বহিরাগত বই নয়। এতে তার একটু খারাপ লাগলেও লেকের পাড়ে পৌঁছে তার মন ভালো হয়ে যায়। 
দু’ তরুণ ও এক তরুণীকে পেরিয়ে যায় সে। তারা তাকায় তার দিকে। কেভিন লেকের ঢালু পাড়ে বসানো পিকনিক টেবিলের কাছে পৌঁছে একটি সিগারেট ধরায়।
ঃ এই যে নৌবাহিনী, এক শলা হবে নাকি? কেভিনের হাতের সিগারেটের দিকে ইঙ্গিত করে দু’ তরুণের একজন।
বিদঘুটে টাইপের সম্বোধনে বিরক্ত হলেও কেভিন বলেÑ
ঃ অবশ্যই, নাও না দুটো। জাহাজে আমরা খুবই সস্তায় সিগারেট পাই। নিজের প্যাকেটটা তার দিকে বাড়িয়ে দেয় কেভিন।
তরুণটি  ছয়টি সিগারেট বের করে নেয় প্যাকেট থেকে । সঙ্গী অপর তরুণের দিকে চেয়ে বলেÑ
ঃ তোকে বলেছিলাম না নৌসেনাটি ভালো লোক! দেখ, আমার কথাটা ঠিক হল তো !
তরুণটির বয়স সতেরো বা আঠারো হতে পারে। কেভিনের চেয়ে মাত্র কয়েক বছরের ছোট। তবে তাদের অভিজ্ঞতার ফারাক যে এক জীবনের তাতে সন্দেহ নেই। শে^তাঙ্গ এ তরুণটির স্বাস্থ্য ভালো, লম্বা চওড়া। সে জানায় তার নাম জিমি। তার সঙ্গী মাথায় হেডব্যান্ড বাঁধা ও বেল-বটমস পরা এক কৃষ্ণাঙ্গ তরুণ। জিমি তার নাম জানায়, নেট। একই বয়স। তারপর মেয়েটির সাথে পরিচয় করিয়ে দেয়Ñ ও হচ্ছে ডেলিয়া। সোনালি চুল আর ট্যান করা ত্বক  শে^তাঙ্গিনী তরণীর বয়স সতেরো।  
ডেলিয়া বলেÑ
ঃ আমরা তোমাদের জাহাজটিকে আসতে দেখেছি।
জিমিকে যুদ্ধের ব্যাপারে বেশি আগ্রহী মনে হয়Ñ
ঃ তা বলুন দেখি, যুদ্ধ থেকে ফিরলেন ?
তাকে হতাশ করে বলে কেভিনÑ
ঃ না না, যুদ্ধে ছিলাম না আমরা।
আসলে যুদ্ধের যে বীভৎসতা সে চোখে দেখে এসেছে তা আর কারো কাছে বলার মানসিকতা তার ছিল না।
ঃ বাদ দাও। আমার ভাই একজন মেরিন। আমিও খুব শিগগিরই যোগ দিচ্ছি। বলে জিমি।
নেট তার বাহুতে খোঁচা দেয়। বলেÑ
ঃ তোর সমস্যা কোথায় বুঝতে পারছি না। তুই দেখছি ববি থমসনের মত মরতে চাস! সময় এখন খারাপ যাচ্ছে। কিন্তু আমরা যে খুব খারাপ আছি তা নয়। এ শহর, পার্ক আছে আমাদের। কেন ভিয়েতকংদের গুলি খেতে যাবি?
তাদের চেয়ে বছর তিনেকের বড় এ শহরের ছেলে ববি সেনাবাহিনীতে যোগ দিয়েছিল। সম্প্রতি ভিয়েতনামে গিয়ে যুদ্ধে মারা গেছে সে। নেটের কথার জবাবে জিমি বলেÑ
ঃ ববির তেমন সাহস ছিল না। আমি তার চেয়ে অনেক সাহসী।
জিমি ও নেট তাদের কথা ছোঁড়াছুড়ি বন্ধ করে লেকের পাড়ে গিয়ে পৌঁছে। তার পর দু’জন পাথর কুচি কুড়িয়ে পানিতে ছুঁড়তে থাকে।
ডেলিয়া ও কেভিন হেঁটে গিয়ে পিকনিক টেবিলে বসে। লেকের পানির দিকে চেয়ে থাকে তারা, নিজেদের চিন্তায় নিমগ্ন। প্রথমে নীরবতা ভাঙ্গে ডেলিয়া। মৃদু হেসে বলেÑ
ঃ আপনি খুব লাজুক। ব্যাপার কি, আপনি কি মেয়েদের পছন্দ করেন না? 
কেভিন হো হো করে হেসে ওঠে। বলেÑ
ঃ  আমি মেয়েদের পছন্দ করি। তো! আমি বিভিন্ন বন্দরে অনেক মেয়ে দেখেছি, কিন্তু তোমার মত কাউকে নয়।
ডেলিয়া বলেÑ
ঃ জানি আপনি ভাগ্যবান। এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় যেতে পারেন। আমাদের মত হাত-পা বাঁধা নয় আপনার।
ঃ হ্যাঁ, আমিও এক সময় সে রকমই মনে করতাম। বলে কেভিন।
বাতাস জোরালো হচ্ছিল। খুব ঠান্ডা। দু’জন লেকের পানির দিকে তাকিয়ে থাকে।
পার্কে ঢোকার সময় কেভিন বিরাটদেহী এক লোককে দেখেছিল। তার মুখটাতে ছিল শিশুর মত সারল্য। এখন সে মানুষটিকে লেকের পানির দিকে হেঁটে আসতে দেখে।  জিমি ও নেট যেখানে দাঁড়িয়ে পানিতে পাথর ছুঁড়ছিল  লোকটি তাদের ও লেকের মাঝে বাধা সৃষ্টি করে দাঁড়িয়ে পড়ে।
জিমি ভীষণ বিরক্ত হয়। তার কারণে সে আর পাথর ছুঁড়তে পারছিল না।  চিৎকার করে বলেÑ
ঃ এই যে,  সরে যান তো!
লোকটি তার কথায় কোনো কান দেয় না। এতে ক্ষেপে যায় জিমি। একটি পাথর লোকটির মাথা লক্ষ্য করে ছোঁড়ে সে।
স্বপ্ন থেকে জেগে ওঠা মানুষের মত ঘোর লাগা গলায় লোকটি বলে Ñ
ঃ আমাকে একা থাকতে দাও।
জিমি ও নেটের উপর তার কথার কোনো প্রভাব দেখা যায় না। বরং আরো ক্ষেপে যায় তারা।  দু’জনে মিলে লোকটির উপর পাথরকুচি ছুঁড়তে থাকে। মৌমাছির কামড়ে দিশাহারা মানুষের দৃষ্টি নিয়ে লোকটি তাকায় তাদের দিকে।
আর বসে থাকতে পারে না কেভিন। জিমি ও নেটকে থামাতে উঠে দাঁড়ায় সে। ওদিকে লোকটিও উঠে দাঁড়ায়। পাথর বৃষ্টি থেকে বাঁচতেই হয়ত কয়েক পা হেঁটে গিয়ে সে ঝাঁপিয়ে পড়ে লেকের পানিতে। দুই হামলাকারীর মুখে ফুটে ওঠে বিজয়ের হাসি।
কিছুটা সময় পেরিয়ে যায়। কিন্তু লোকটিকে পানি থেকে উঠতে দেখা যায় না। উদ্বিগ্ন স্বরে বলে ওঠে নেটÑ
ঃ একটা গোলমাল ঘটেছে মনে হচ্ছে। লোকটা উঠছে না কেন?
জিমির মুখে ভয়ের ছায়া দেখা যায়। নেটকে লক্ষ্য করে বলেÑ
ঃ তাকে খুঁজে দেখি চল।
মুহূর্তের মধ্যে সে ঝাঁপিয়ে পড়ে লেকে। তাকে অনুসরণ করে নেট।
পানি তোলপাড় করে লোকটিকে খোঁজে তারা। পায় না। এ সময় জিমি চিৎকার করে কেভিনকে তাদের সাথে যোগ দেয়ার জন্য ডাকেÑ
ঃ এই নৌবাহিনী! আমাদের সাহায্য করুন।
কেভিন তাকে বলেÑ
ঃ আমি পানিতে নামতে পারব না। সাঁতার জানি না।
লোকটিকে খুঁজে না পাওয়া জিমি তার কথা শুনে রেগে ওঠেÑ
ঃ আপনি নৌবাহিনীর লোক হয়ে সাঁতার জানেন না?
ঃ আমাকে তো কখনো সাঁতরাতে হয়নি!
কেভিনের মনে ভেসে ওঠে ভিয়েতনামী গ্রামগুলোতে তাদের জাহাজ থেকে ভয়াবহ গোলাবর্ষণ, মানুষের মৃত্যু, দিশাহারা অনেকের সাগরের পানিতে ঝাঁপিয়ে পড়ে প্রাণ হারানোর দৃশ্য।
নিজের জুতো খুলে ফেলে কেভিন। প্যান্ট গুটিয়ে তোলে হাঁটুর উপর। ডেলিয়াকে বলে সে যেন দ্রুত গিয়ে পুলিশকে খবর দেয়। পানির দিকে দৌড়ে যেতে বোতলের ভাঙ্গা কাঁচে লেগে ক্ষতবিক্ষত হয় তার দু’পা।
ততক্ষণে লোকটিকে খুঁজে না পেয়ে ক্লান্ত, মন খারাপ জিমি ও নেট তীরে উঠে এসেছিল। হাঁফাচ্ছিল তারা। তাদের পাশে বসে কেভিন।
তাড়াতাড়িই পুলিশ এসে যায়। সাথে রাবারের উদ্ধারকারী নৌকাও এনেছে তারা। শুরু হয় তল্লাশি। কেউ পানিতে খোঁজে, কেউ পাড়ে। দেরি হয় না। লাশটি পেয়ে যায় তারা। আর সে মুহূর্তে শুরু হয় মুষলধারে বৃষ্টি। 
জিমি, নেট ও ডেলিয়াকে জিজ্ঞাসাবাদের পর কেভিনের পালা। তার নৌসেনার উর্দির দিকে তাকিয়ে পুলিশ অফিসার বলেনÑ
ঃ আপনি এদের সাথে কীভাবে জড়ালেন?
ঃ আর বলবেন নাÑ বলে কেভিন, আমি তো জাহাজ থেকে নেমেছিলাম ঘোরার জন্য। এসে পৌঁছি এ পার্কে। দেখা হয় এদের সাথে।
অফিসার বলেনÑ
ঃ আপনার বেড়ানো কী রকম হল তা তো বুঝতেই পারছি।
লেকের পাড়ে পড়ে থাকা লাশটা তখন বডিব্যাগে ঢোকানোর ব্যবস্থা হচ্ছিল। সেদিকে তাকিয়ে তিনি বলেনÑ আপনি জাহাজে ফিরে যান। প্রয়োজনে আপনাকে খবর দেব আমরা।
ধুম বৃষ্টির মধ্যে ভিজে বন্দরের ঘাটে জাহাজের দিকে ফিরতে থাকে কেভিন। রাস্তায় কাদা-পানি। জুতো জোড়া তার হাতে। পায়ের কাটা অংশে পানি লেগে জ¦লুনি হচ্ছে। এ সময় এক পানশালার দরজায় দেখা যায় বিল এলিকে। কেভিনকে দেখে যেন আঁতকে ওঠে সেÑ
ঃ আরে বৃষ্টিতে ভিজছ কেন কেভিন? আমি তো আগেই তোমাকে সতর্ক করেছিলাম যেন এখানে হারিয়ে যেও না। বল, আমি কি বলিনি?
পিছনের দিকে তাকায় কেভিন। পার্কে পুলিশের গাড়ি এখনো আছে। তারা মৃত লোকটির লাশ একটি অ্যাম্বুলেন্সে তুলছে যে লোকটি পার্কে এসেছিল একটু শান্তিতে সময় কাটানোর জন্য।
বিল এলির দিকে ফেরে সেÑ
ঃ আমি তো এক হারানো মানুষই বন্ধু, কিন্তু আমিই একমাত্র লোক নই যে হারিয়ে গেছে।
জাহাজের দিকে হাঁটতে থাকে কেভিন।
*লী কনরাডের জন্ম ১৯৪৯ সালে নিউ ইয়র্কের বিংহ্যামটনে।  গল্পকার হিসেবে খ্যাতি লাভ করেছেন। তার এ গল্পটি ‘এলিউসিভ শেল্টার’ নামে ইন্টারনেটে প্রকাশিত হয়। গল্পটিতে যুক্তরাষ্ট্রের ভিয়েতনাম যুদ্ধের ছায়াপাত ও মানব চরিত্রের বিচিত্র পরিচয় আছে।  

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ