ঢাকা, শনিবার 07 January 2017, ২৪ পৌষ ১৪২৩, ০৮ রবিউস সানি ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

৫ জানুয়ারি গণতন্ত্রের বিজয় দিবস হিসেবে পালনকারীরা জ্ঞানপাপী -মওদুদ

গতকাল শুক্রবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে জাতীয় নাগরিক মঞ্চের উদ্যোগে ৫ জানুয়ারি ইতিহাসের কলঙ্ক শীর্ষক আলোচনা সভায় বক্তব্য পেশ করেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ -সংগ্রাম

স্টাফ রিপোর্টার : বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ বলেছেন, ৫ জানুয়ারিকে যারা গণতন্ত্রের বিজয় দিবস হিসেবে পালন করেন বা সমর্থন জানান সে সকল বুদ্ধিজীবীরা জ্ঞানপাপী। কারণ তারা নিজেরাই জানেন এটা ছিল জাতীর সঙ্গে প্রহসন, প্রতারণা। তিনি বলেন ৫ জানুয়ারির নির্বাচন ইতিহাসের কলঙ্ক হয়ে থাকবে। যা কোনোদিন মোচন হবে না।
গতকাল শুক্রবার জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে ‘৫ জানুয়ারি নির্বাচন : ইতিহাসের কলঙ্ক’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মওদুদ আহমদ বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার গণতন্ত্রের সব স্তম্ভকে ধ্বংস করে দিয়েছে। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে পাঁচ কোটি ভোটার ভোটকেন্দ্রেই যেতে পারেননি। কেননা, ১৫৩ জন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। পৃথিবীতে নির্বাচনের ইতিহাসে এর কোনো নজির নেই। আওয়ামী লীগও জানে সংবিধান অনুযায়ী এটি কোনো নির্বাচনই হয়নি। আর সেই নির্বাচনের দিনটিকেই আওয়ামী লীগ বলছে গণতন্ত্রের বিজয় দিবস।
তিনি বলেন, ৫ জানুয়ারিকে গণতন্ত্র হত্যা দিবস পালনের পেছনে অনেক কারণ আছে। এর মধ্যে জনগণের প্রতিনিধিত্ব নেই। জনগণকে নিরাপত্তা দিতে পারছে না তারা। দেশে গঠনতন্ত্রের চর্চাবোধ নেই। ২০০৯ সাল থেকে বর্তমান সরকার গণতন্ত্রের সকল খুঁটি ভেঙে ফেলেছে। অস্ত্র, পেশি শক্তি, পুলিশ ও র‌্যাব দিয়ে জনগণের আকাঙ্খা প্রতিনিয়ত ধ্বংস করছে সরকার।
সাবেক আইনমন্ত্রী মওদুদ বলেন, আওয়ামী লীগের কাছে গণতন্ত্রের সংজ্ঞা এক, আর অন্যদের কাছে আরেক। আওয়ামী লীগ যে গণতন্ত্রের কথা বলে, তা হাস্যকর, তা জাতির কাছে প্রতারণা, প্রহসন, জনগণকে হেয় করা, জনগণের অধিকারকে লঙ্ঘন করা বোঝায়। ৫ জানুয়ারি যারা গণতন্ত্রের বিজয় দিবস হিসেবে পালন করেন তারা জ্ঞানপাপী।
তিনি সরকারের উদ্দেশ্যে বলেন, আপনারা যে গণতন্ত্রের কথা বলছেন, গায়ের জোরে, পুলিশের ছত্র ছায়ায় বিজয় দিবস পালন করছেন, যেদিন ক্ষমতা ছেড়ে যাবেন, সেদিন মূল্যায়ন করবে জনগণ। সেদিন জনগণ ৫ জানুয়ারিকে গণতন্ত্রের হত্যা দিবস হিসেবেই পালন করবে।
বিএনপির এ সিনিয়র নেতা আরো বলেন, সরকার অনেক উন্নয়নের কথা বলে। কিন্তু তারা নতুন প্রজন্মের কাছে কোনো মূল্যবোধ দিতে পারেনি। কোনো ভবিষ্যত রেখে যায়নি। তারা পুলিশ প্রশাসন, বিচার বিভাগ ধ্বংস করেছে। জনগণের কাছে সরকারের প্রশাসনের কোনো জবাবদিহিতা নেই।
বিএনপিকে ৭ জানুয়ারি কেন সমাবেশ করতে দেয়া হবে না প্রশ্ন রেখে দলটির স্থায়ী কমিটির এ সদস্য বলেন, আওয়ামী লীগকে সমাবেশ করতে দেয়া হয়। তথাকথিত বিরোধীদল জাতীয় পার্টিকেও অনুমিত দেয়। কিন্তু বিএনপি দীর্ঘদিন ধরে সমাবেশ করার অনুমতির জন্য গেলেও তাদেরকে অনুমতি দেয়া হচ্ছে না।
মওদুদ অভিযোগ করেন, ৫ জানুয়ারি গণতন্ত্র হত্যা দিবস পালনে শান্তিপূর্ণ কালো পতাকা মিছিলে দেশের বিভিন্নস্থানে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী ও তাদের ছত্রছায়ায় থাকা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা হামলা চালিয়েছে।
আয়োজক সংগঠনের সভাপতি ইসমাইল তালুকদার খোকনের সভাপতিত্বে আরো বক্তব্য রাখেন, বিএনপির যুগ্মমহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, এলডিপির সিনিয়র যুগ্মমহাসচিব শাহাদাৎ হোসেন সেলিম, বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ, খালেদা ইয়াসমিন ও নিপূণ রায় চৌধুরী, সাবেক ছাত্রনেতা শাহজাহান মিয়া সম্রাট, মহানগর বিএনপি নেতা ফরিদ উদ্দিন, মিয়া মো: আনোয়ার, কাজী মনিরুজ্জামান মনির, মঞ্জুর হোসেন ঈসা, শাহবাগ থানা কৃষকদলের সভাপতি এম জাহাঙ্গীর আলম, মৎস্যজীবী দলের নেতা ইসমাঈল হোসেন সিরাজী, ঘুরে দাঁড়াও বাংলাদেশের সভাপতি কাদের সিদ্দিকী, স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা মোঃ মুসা ফরাজী, কৃষকদলের মনির হোসেন বেপারী, সাইফুল ইসলাম, জাতীয় গণতান্ত্রিক মঞ্চের নেতা হোসেন, ডালিম, শাকিব সরোয়ার, আব্দুর রহিম, জিন্নাহ রথি, মির্জা ঈমন, সুমন গাজী প্রমুখ।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ