ঢাকা, শনিবার 07 January 2017, ২৪ পৌষ ১৪২৩, ০৮ রবিউস সানি ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

মন্ত্রী-আমলাদের বেতন দ্বিগুণ করা হয়েছে শ্রমিকের কথা উঠলেই আইনের অজুহাত

স্টাফ রিপোর্টার : রাজধানীতে এক আলোচনা সভায় বক্তারা জীবন-যাপনের ব্যয় বৃদ্ধি ও মুদ্রাস্ফীতির ফলে বিদ্যমান মজুরিতে শ্রমিকদের পক্ষে বেঁচে থেকে উৎপাদনশীলতা রক্ষা করা সম্ভব হচ্ছে না বলে মন্তব্য করেছেন। তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, মন্ত্রী-আমলাদের বেতন বাড়িয়ে দ্বিগুণ করা হয়েছে, অথচ শ্রমিকের কথা উঠলেই আইনের অজুহাত তোলা হয়। সব খাতের শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ১৫ হাজার টাকা করা সময়ের দাবি।
রাজধানীর পুরানা পল্টনের মুক্তি ভবনে গতকাল শুক্রবার সকালে গার্মেন্ট শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র (টিইউসি) আয়োজিত ‘পোশাক শিল্পের বর্তমান পরিস্থিতি : সমাধান কোন্্ পথে’ শীর্ষক এক আলোচনা অনুষ্ঠানে শ্রমিক নেতা, অর্থনীতিবিদ ও এনজিও সংগঠকরা এ কথা বলেন। টিইউসি’র সভাপতি এডভোকেট মন্টু ঘোষের সভাপতিত্বে ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জলি তালুকদারের সঞ্চালনায় এ আলোচনায় অংশ নেন শ্রমিকনেতা সহিদুল্লাহ চৌধুরী, তেল গ্যাস, খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির সদস্য সচিব অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ, এনজিও সংগঠক রোকেয়া কবির, টিইউসির সাধারণ সম্পাদক কাজী রুহুল আমিনসহ বিভিন্ন কারখানার শ্রমিক ও শ্রমিক সংগঠনের নেতারা।
শ্রমিকনেতা সহিদুল্লাহ চৌধুরী বলেন, বর্তমান মজুরিতে খেয়েপরে বেঁচে থেকে উৎপাদন ও উৎপাদনশীলতা রক্ষা করা শ্রমিকদের পক্ষে কোনোভাবেই সম্ভব হচ্ছে না। শ্রমিকদের জীবনের ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে, মুদ্রাস্ফীতি হয়েছে। তিনি বলেন, মন্ত্রী, এমপি, আমলা, সরকারি, চাকরিজীবীদের বেতন-ভাতা দ্বিগুণ করা হয়েছে। কিন্তু গার্মেন্ট শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির দাবি তুললেই মন্ত্রী-এমপিরা শ্রম আইনের অজুহাত দেন। কিন্তু প্রচলিত শ্রম আইনেই ৩ বছর পর মজুরি বৃদ্ধির বিধান রয়েছে।
আলোচনায় অংশ নিয়ে অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেন, পোশাক শিল্পের শ্রমিকদের বাঁচার মতো উপযুক্ত মজুরি, নিরাপত্তা ছাড়া টেকসই শিল্প সম্ভব না। কিন্তু পোশাক শিল্পের শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির প্রশ্ন উঠলেই মালিক পক্ষ এবং তাদের লোকেরা সক্ষমতা ও উৎপাদনশীলতার কথা বলেন।
তিনি বলেন, বাস্তবতা হলো, বাংলাদেশ পোশাক শিল্পের শ্রমিকরা পৃথিবীর অন্যান্য দেশের শ্রমিকদের তুলনায় সবচেয়ে কম মজুরি পায়। কিন্তু এদেশের পোশাক শিল্প মালিকদের মুনাফার হার সবচেয়ে বেশি। এতে প্রমাণ হয় শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির দাবি উঠলে যেসব প্রতিবন্ধকতা দেখানো হয়, তার সবই মিথ্যা। সব খাতের শ্রমিকদের জন্য ন্যূনতম বেতন ১৫ হাজার টাকা করা উচিত বলে মন্তব্য করেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের এই অধ্যাপক।
নারীনেত্রী রোকেয়া কবির বলেন, সরকার কথায় কথায় মুক্তিযুদ্ধের চেতনার কথা বলে। শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি থেকে বঞ্চিত করে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়ন কোনোভাবেই সম্ভব না।
টিইউসির সাধারণ সম্পাদক কাজী রুহুল আমিন অভিযোগ করেন, শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির আন্দোলনকে দমন করার জন্য নানা বিভ্রান্তি, অসত্য তথ্য প্রচার করা হচ্ছে। তিনি বলেন, সরকার ও বিজিএমইএর পক্ষ থেকে বলা হলো- শ্রমিকদের পক্ষ থেকে কোনো দাবিনামা পেশ করা হয়নি।
অন্য শ্রমিক নেতারা বলেন, সম্প্রতি ঢাকার আশুলিয়ায় মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে গড়ে ওঠা পোশাক শ্রমিকদের আন্দোলনের পর ছাঁটাইয়ের পাশাপাশি শ্রমিক ও নেতাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের পোশাক শিল্পে আরও অস্থিতিশীল পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ