ঢাকা, শনিবার 07 January 2017, ২৪ পৌষ ১৪২৩, ০৮ রবিউস সানি ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

খুলনায় সিলিন্ডার ও গ্যাসের দাম বৃদ্ধি

খুলনা অফিস : খুলনায় লিকুইড পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রতি সিলিন্ডার গ্যাসে ৫০ টাকা এবং সিলিন্ডারের দাম বাড়ানো হয়েছে তিনশ’ টাকা হারে। আন্তর্জাতিক বাজারে কাঁচামাল, লিকুইড তেলের দাম না বাড়লেও কোন কারণ ছাড়াই গ্যাস ও সিলিন্ডারের দাম বৃদ্ধিতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ব্যবসায়ীরা। বছরের শুরু থেকে বর্ধিত দামে বিক্রি হচ্ছে গ্যাস। তবে ডিলাররা এর জন্য তদারকির অভাবকে দায়ী করেছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, খুলনায় বছরের শুরুতেই এলপি গ্যাসের দাম বাড়িয়েছে কোম্পানি ও পরিবেশকগণ। খুলনার বাজারে ১২ কেজি ওজনের গ্যাস ভর্তি সিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছে সাড়ে ৯শ’ টাকা হারে। যা বিক্রি হতো ৯শ’ টাকায়। সিলিন্ডার বিক্রি হতো এক হাজার থেকে ১১শ’ টাকায়। সেই সিলিন্ডারের দাম বেড়ে হয়েছে এক হাজার ৪শ’ টাকা। খুলনায় বিক্রি হয় সাধারণত বসুন্ধরা, যমুনা, ওমেরা, ক্লিনহীট, টোটাল ও সেনা কল্যান সংস্থার গ্যাস। এরমধ্যে বসুন্ধরা, যমুনা ও ওমেরা কোম্পানি দাম বাড়িয়েছে। তবে ডিলাররা বলেন এদের দেখাদেখি অন্য কোম্পানিও এবার দাম বাড়াবে। ফলে দুর্ভোগে পড়বে জনগণ। সূত্রটি আরও জানিয়েছে, এখন সিলিন্ডার প্রতি পরিবেশকগণ লাভ করে দুই থেকে আড়াইশ’ টাকা। অথচ বেশী লাভের আশায় আবারও বাড়ানো হয়েছে দাম।
দাম বৃদ্ধির বিষয়ে খুলনা এলপি গ্যাস ডিলার সমিতির সভাপতি শেখ তোবারেক হোসেন তপু বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে সব কিছুর মুল্য স্থীতিশীল। বরং গ্যাসের কাঁচামাল, লিক্যুইড পেট্রোল ও জ্বালানি তেলের দাম কমতির দিকে। সেখানে কোন কারণ ছাড়াই দেশের কোম্পানিগুলোর দাম বাড়ানো অন্যায় এবং অযৌক্তিক। এগুলো সরকারকে বেকায়দায় ফেলার একটি অংশ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন।
জানা গেছে, খুলনায় বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি) থেকে সরবরাহ করা গ্যাসের পর্যাপ্ত সরবরাহ না থাকায় বেসরকারি কোম্পানিগুলো নিজেদের ইচ্ছেমত দাম বাড়াচ্ছে। খুলনায় বর্তমানে প্রায় এক লাখ গ্রাহক এলপি গ্যাস ব্যবহার করেন। সে তুলনায় বিপিসি খুলনায় সরবরাহ করে মাত্র সাড়ে ৭শ’ সিলন্ডার গ্যাস। যার অধিকাংশ চলে যায় সেনাবাহিনীর কল্যাণে। ফলে বিপুল পরিমাণ মানুষকে নির্ভর করতে হয় বেসরকারি কোম্পানিগুলোর জন্য। গ্যাসের এ দাম বৃদ্ধির নেতিবাচক প্রভাব পড়বে জীবনযাত্রায়। গ্রাহকদের মাঝে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে।
খুলনার ২৭ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা গৃহিনী কানিজ ফাতেমা বলেন, গত মাসেও গ্যাস কিনেছি ৯শ’ টাকা করে। এ মাসে সেই গ্যাসের দাম এখন সাড়ে ৯শ টাকা। কি কারনে বাড়লো এর কোন কারণও তো বুঝতে পারছি না। অপর গ্রাহক মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘শুনেছি কম দামে সরকারিভাবে গ্যাস দেয়া হয়। যার দাম কম। তবে সেটা শুধু শুনেছিই চোখে দেখিনি কখনও। সরকারি গ্যাসের সরবরাহ বাড়লে হয়তো কোম্পানিগুলো দাম বাড়াতে পারত না। গ্রাহকদের সিংহভাগ বেসরকারি কোম্পানিগুলো গ্যাস ব্যবহার করায় সিন্ডিকেট করেই দাম বাড়ায়। এছাড়াও সরকারের তদারকির অভাবে ইচ্ছেমত দাম বাড়ায়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ