ঢাকা, মঙ্গলবার 10 January 2017, ২৭ পৌষ ১৪২৩, ১১ রবিউস সানি ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

মুসলিম সামরিক জোটের নেতৃত্বে পাকিস্তানের সাবেক সেনাপ্রধানের চুক্তি চূড়ান্ত

৯ জানুয়ারি, গার্ডিয়ান : পাকিস্তানের সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল রাহিল শরিফকে ৩৯ মুসলিম দেশের নতুন সামরিক জোটের কমান্ডার ইন চিফ হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে, যে জোটে বাংলাদেশও আছে।
যুক্তরাজ্েযর গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাঁচ লাখ সৈন্েযর পাকিস্তানি বাহিনীকে তিন বছর নেতৃত্ব দেওয়া রাহিলের নাম ঘোষণার পর তার নিজের দেশেই শুরু হয়েছে বিতর্ক। পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা মোহাম্মাদ আসিফ গত শুক্রবার জিও টিভির এক আলোচনা অনুষ্ঠানে রাহিলের এই নতুন নিয়োগের খবর প্রকাশ করেন।
তিনি জানান, এ বিষয়ে কয়েক দিন আগে একটি চুক্তি চূড়ান্ত করা হয়েছে, তবে ওই চুক্তির বিস্তারিত তিনি জানেন না। আসিফ বলেন, পাকিস্তান সরকারের সম্মতিতেই গতবছর নভেম্বরে অবসরে যাওয়া জেনারেল (অবসরপ্রাপ্ত) রাহিলকে জোটের প্রধান হিসেবে বেছে চূড়ান্ত করা হয়েছে। জেনারেল রাহিল শরিফ পাকিস্তানের সেনাপ্রধান হিসেবে অবসরে যান গত নভেম্বরে সন্ত্রাস ও উগ্রবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সৌদি আরবের নেতৃত্বে মূলত সুন্নি মুসলিম দেশগুলোর এই জোটের প্রথম ঘোষণা আসে ২০১৫ সালের ডিসেম্বরে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলী ১৫ ডিসেম্বর জানান, সৌদি আরবের আমন্ত্রণে ‘ইসলামিক মিলিটারি অ্যালায়েন্স টু ফাইট টেরোরিজম’ নামের এই নতুন জোটে বাংলাদেশের যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে ওই জোটের অধীনে সামরিক অভিযানে বাংলাদেশ সৈন্য পাঠাবে কি না- সে বিষয়ে সরকারের তরফ থেকে কখনোই কিছু বলা হয়নি। ৩৯ দেশের এই জোটের সদরদপ্তর হবে রিয়াদে। তবে জোটের কাজের ধরন কেমন হবে, সে বিষয়টিও এখনও স্পষ্ট করা হয়নি। 
 সে সময় সৌদি আরবের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছিল, সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা, প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ এবং কৌশল প্রণয়নের কাজ ওই অপারেশন সেন্টার থেকেই হবে। জাতিসংঘ সনদ, ওআইসি সনদ এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক সনদ ও চুক্তি অনুসরণ করেই পরিচালিত হবে এর কার্যক্রম।
আবার আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াতের মত কট্টর সুন্নি দল রাহিল শরিফের এই নিয়োগকে পূর্ণ সমর্থন দিয়েছে। পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞ হাসান আশকারি রিজভী তাদের সরকারকে সতর্ক করে বলেছেন, ইসলামিক মিলিটারি অ্যালায়েন্স টু ফাইট টেরোরিজম এখনও কার্যক্রম শুরু করেনি। এ জোট নেটোর মডেল অনুসরণ করবে, না জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী বাহিনীর মত ভূমিকা নেবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। পাকিস্তানে তালেবানবিরোধী অভিযান চালিয়ে জঙ্গিবাদ কমিয়ে আনতে পারায় প্রশংসিত হন অবসরপ্রাপ্ত জেনারেল রাহিল শরিফ। সেই সঙ্গে সেনাবাহিনীর প্রচারের কৌশল বদলে দিয়েও তিনি সাফল্য পান।
পাকিস্তানে জোর গুঞ্জন ছিল, রাহিল শরিফকে ফিল্ড মার্শাল হিসেবে পদোন্নতি দিয়ে আরও কিছুদিন সেনাপ্রধানের দায়িত্বে রেখে দেওয়া হতে পারে। তবে শেষ পর্যন্ত গত নভেম্বরেই অবসরে যান তিনি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ