ঢাকা, মঙ্গলবার 10 January 2017, ২৭ পৌষ ১৪২৩, ১১ রবিউস সানি ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

জানুয়ারির বিরল বন্যায় থাইল্যান্ডে ২১ জনের প্রাণহানি

৯ জানুয়ারি, রয়টার্স : প্রবল বৃষ্টি আর বন্যার পানি ঢুকে পড়ায় থাইল্যান্ডের দক্ষিণ প্রদেশের জাতীয় অভয়ারণ্য থেকে অন্তত ১০টি কুমির বেরিয়ে এসেছে রাস্তায়। দেশটির দুর্যোগ প্রতিরোধ ও নিরসন বিভাগ জানিয়েছে, বন্যায় গতকাল সোমবার পর্যন্ত প্রাণহানি সংখ্যা ২১ জনে দাঁড়িয়েছে। ৩ লাখ ৩০ হাজারেরও বেশি ঘর-বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দেশটির উপ-প্রধানমন্ত্রী প্রবিত ওংসুওন সাংবাদিকদের বলেন, “পরিস্থিতি সহজ করার লক্ষ্যে আমরা সেনা, পুলিশ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের পাঠিয়েছি।”
 মে থেকে নভেম্বর মাস পর্যন্ত থাইল্যান্ডে বর্ষাকাল। দেশটিতে জানুয়ারিতে বন্যা বিরল। অকাল বৃষ্টিতে দেশটির ৬৭টি প্রদেশের মধ্যে ১২টি প্রদেশে বন্যা ছড়িয়ে পড়েছে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। অঞ্চলটির রাবার উৎপাদন ব্যাপক মাত্রায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। গতকাল সোমবার দেশটির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে ত্রাণ-সহায়তা বাড়ানো হয়েছে।
থাইল্যান্ডের দক্ষিণাঞ্চল রাবার উৎপাদনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এই বন্যা রাবার চাষীদের জন্য দুর্যোগ বয়ে এনেছে বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির ন্যাচারাল রাবার কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট উথাই সোনলুকসাব। তিনি আরো বলেন, চাহিদার তুলনায় এ বছর রাবার সরবরাহ কমে যাবে বিধায় আন্তর্জাতিক বাজারে এর দাম বেড়ে যাবে। এর আগে শুক্রবার দেশটির প্রধানমন্ত্রী প্রায়ুথ চান-ওচা অঞ্চলটিতে সফর করেন।  দেশটিতে দক্ষিণাঞ্চলের সমুদ্র সৈকত ও রিসোর্টগুলোর জন্য এই সময়ই ব্যবসার মূল সময়। কিন্তু এই সময়ে ভারী বর্ষণের কারণে সৃষ্ট বন্যায় এই ব্যবসাও ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
এরআগে দেশটির বিমানবন্দর বিভাগ জানায়, শুধু শুক্রবার দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রদেশ নাকোন সি তামারাত বিমানবন্দরের ২৬টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়। বৃষ্টির কারণে রানওয়ে ডুবে গেলে এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দেশটির জাতীয় দুর্যোগ সতর্কীকরণ কেন্দ্রের একজন কর্মকর্তা বলেন, “অকাল ভারী বৃষ্টির কারণে ১ জানুয়ারি থেকে বন্যা শুরু হয়েছে।”
পানিতে রেললাইন তলিয়ে যাওয়ায় থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়ার মধ্যকার প্রধান রেল যোগাযোগ বন্ধ রাখা হয়েছে। ব্যাঙ্ককের এক দৈনিক জানিয়েছে, বন্যায় ভেসে গেছে থা লাড চিড়িয়াখানা। এটির দেখভালের দায়িত্বে থাকা দক্ষিণের মুয়াং জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা কাছাকাছি এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক করে দিয়েছেন। কারণ কুমিররা আর স্বস্থানে নেই! চিড়িয়াখানা সংলগ্ন সমডেট ফ্রা শ্রীনাগারিন্দ্র ৮৪ পাবলিক পার্কের বাসিন্দাদের জন্য সেটা মোটেই সুখবর নয়। উন্মুক্ত ওই চিড়িয়াখানায় বাস ১০টি কুমিরের। এদের কয়েকটি পাঁচ মিটারের কাছাকাছি লম্বা। বন্যার জেরে খাবারদাবার না পেয়ে তারা দল বেঁধে বেরিয়ে পড়েছে বাইরে। সেই ক্ষুধার্ত কুমিররা যদি চড়াও হয় মানুষের উপরে- তাই আগেভাগে সাবধান হতে বলেছে প্রশাসন।
বন্যায় অবস্থা এতটাই গুরুতর যে চিড়িয়াখানা থেকে প্রাণীদের সরানোর সুযোগটাও পাননি কর্তৃপক্ষ। এখন নৌকায় চড়ে বাইরে কুমির খুঁজে বেড়াচ্ছেন তারা। আবহবিদরা বলছেন, এই সময়ে তাইল্যান্ডে এমন বৃষ্টি অস্বাভাবিক। নভেম্বর থেকে আবহাওয়া ভালই থাকে। তাই এই সময় পর্যটকদের ভিড় জমে। বন্যায় তাই সমস্যায় পড়েছেন তারাও। জনপ্রিয় গন্তব্য সামুই এবং ফানগান দ্বীপে অনেকেই আটকে পড়েছেন। কারণ বেশ কিছু বিমান বাতিল করতে হয়েছে। বাস-ট্রেন চলাচল বন্ধ।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ