ঢাকা, মঙ্গলবার 10 January 2017, ২৭ পৌষ ১৪২৩, ১১ রবিউস সানি ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

সময়মতো এলএনজি সরবরাহ নিয়ে সংশয়

স্টাফ রিপোর্টার: নির্ধারিত সময়ে কক্সবাজারের মহেশখালি থেকে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহ নিয়ে শুরুতেই সংশয় দেখা দিয়েছে। আগামী ২০১৮ সালকে টার্গেট নেয়া হলেও মূল পর্বের কাজই এখনো শুরু করতে পারেনি পেট্রোবাংলা। যদিও আন্তর্জাতিক মান রক্ষা করে কাজ শেষ করতে সময় প্রয়োজন কমপক্ষে তিন বছর। 

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দেশে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহের লক্ষ্যে কক্সবাজারের মহেশখালীতে এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণের বিষয়টি আলোচনায় আসে ২০১০ সালে। এর পাঁচ বছর পর ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে এ সংক্রান্ত চুক্তি সই হয়েছে গত বছরের মার্চে। এখন পর্যন্ত টার্মিনাল নির্মাণে আর কোনো অগ্রগতি নেই। ফলে নির্ধারিত সময়ে অর্থাৎ ২০১৮ সালের মধ্যে এ টার্মিনাল নির্মাণ ও এলএনজি সরবরাহ নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে।

এদিকে আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী, এফএসআরইউ তথা ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণ ও বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু করতে তিন বছরের মতো সময় লাগে। তাই বাস্তবতার আলোকে ২০১৮ সালের মধ্যে এলএনজি সরবরাহ সম্ভব নয় বলে মনে করছেন জ্বালানি বিভাগের একাধিক কর্মকর্তাও।

 সংশ্লিষ্টদের মতে, সরকার ২০১৮ সালে এলএনজি দেয়ার কথা বললেও, তা আসলে সম্ভব হবে না। কারণ গ্যাস টার্মিনাল, স্টোরেজ ও পাইপলাইন নির্মাণসহ প্রধান কাজের কিছুই এখনো হয়নি। এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণের চারটি প্রধান ধাপ বা পর্যায় রয়েছে। এগুলো হচ্ছে গ্যাস সঞ্চালন প্রক্রিয়া, তরলীকরণ প্রক্রিয়া, স্টোরেজ প্রক্রিয়া এবং বিতরণ-পরিবহন ও রিগ্যাসিফিকেশন প্রক্রিয়া। মহেশখালী প্রকল্পে এখন পর্যন্ত এসব কাজ শুরুই হয়নি। সম্প্রতি শুধু জিও-ফিজিক্যাল ও জিও-টেকনিক্যাল স্টাডি শেষ হয়েছে।

এতসব অনিশ্চতায়তার পরেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই সব কাজ সম্পন্ন হবে বলে দাবি করেন পেট্রোবাংলার উপমহাব্যবস্থাপক (এলএনজি সেল) প্রকৌশলী মো. রফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, এরই মধ্যে একসিলারেট এনার্জি জিও-ফিজিক্যাল ও টেকনিক্যাল স্টাডি শেষ করেছে। আমাদের সময়সীমা অনুযায়ী কাজ করছে তারা। ফলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই এফএসআরইউ প্রথম ইউনিট থেকে উৎপাদন শুরু হবে।

এদিকে ইতোমধ্যে অভিযোগ উঠেছে বিদেশ থেকে আমদানি করা তরলীকৃত গ্যাসের সঞ্চলন লাইন স্থাপনে অর্থ লোপাটের আয়োজন শুরু হয়েছে। বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দ্রুত সরবরাহ বৃদ্ধির বিষয়ে ২০১০ সালের বিশেষ আইনের দোহাই দিয়ে তিনশ’ কিলোমিটার সঞ্চালন লাইন স্থাপনে এই অর্থ লোপাটের পথ সুগম হচ্ছে। সম্প্রতি জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের এক বৈঠকে মহেশখালিতে আমদানিকৃত এলএনজি জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করার লক্ষ্যে তিনটি নতুন লাইন স্থাপনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। যদিও এ তিনটির মধ্যে দুটি পাইপলাইনের প্রস্তাবিত ব্যয়ে আপত্তি রয়েছে পরিকল্পনা কমিশনের। আর বিশেষ আইনে পাইপলাইন নির্মাণের যৌক্তিকতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন বিশেষজ্ঞরা।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আমদানি করা তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) মহেশখালী থেকে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের জন্য তিনটি সঞ্চালন পাইপলাইন নির্মাণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে জ্বালানি বিভাগ। এসব পাইপলাইন নির্মাণ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হবে ‘বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দ্রুত সরবরাহ বৃদ্ধি (বিশেষ বিধান) আইন, ২০১০’-এর আওতায়।

জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সূত্রমতে, বর্তমানে দেশে গ্যাসের দৈনিক চাহিদা ৩ হাজার ২০০ মিলিয়ন ঘনফুট। এর বিপরীতে উৎপাদন হচ্ছে ২ হাজার ৭০০ মিলিয়ন ঘনফুট। এ হিসাবে ঘাটতি থাকছে দৈনিক ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস। তাই জ্বালানি চাহিদা পূরণ ও ভবিষ্যতে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এলএনজি আমদানির পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার।

সূত্র জানায়, চট্টগ্রামের সঙ্গে দেশের অন্যান্য অঞ্চলের গ্যাস সঞ্চালন লাইনের সক্ষমতা বাড়াতে তিনটি প্রকল্পে ২৯৪ কিলোমিটার পাইপলাইন নির্মাণের সিদ্ধান্ত হয়েছে। এগুলো হলো মহেশখালী থেকে আনোয়ারা পর্যন্ত ৮৩ কিলোমিটার, আনোয়ারা থেকে ফৌজদারহাট পর্যন্ত ৩০ কিলোমিটার এবং ফৌজদারহাট হয়ে ফেনী ও বাখরাবাদ পর্যন্ত ১৮১ কিলোমিটার সঞ্চালন পাইপলাইন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ