ঢাকা, মঙ্গলবার 10 January 2017, ২৭ পৌষ ১৪২৩, ১১ রবিউস সানি ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

বর্ষসেরা ব্যক্তিত্ব

আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যম আল জাজিরার জরিপে ২০১৬ সালের পারসন অব দ্য ইয়ার বা সেরা ব্যক্তিত্ব মনোনীত হয়েছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েব এরদোগান। উল্লেখ্য যে, আল জাজিরা আরবি বিভাগ এ জরিপ চালায়। কাতারভিত্তিক সংবাদ মাধ্যমটির ফেসবুক পেজের সংবাদ মাধ্যমে পরিচালিত ওই জরিপে ভোট দেয় প্রায় ১ লাখ ৩০ হাজার লোক। মোট ভোটের ৪০ শতাংশ লাভ করে বছরের সেরা ব্যক্তিত্ব নির্বাচিত হন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৩৪ শতাংশ ভোট পেয়েছে ৫ বছর বয়সী সিরীয় শিশু ওমরান দাকনিশ। সিরিয়ার সরকারি বাহিনীর বিমান হামলায় আহত ওমরানের ধূলোমলিন ছবি ছিল গত বছরের অন্যতম আলোচিত বিষয়। এছাড়া ফিলিস্তিনের প্রতিরোধ আন্দোলন হামাসের ড্রোন পরিকল্পনার নেপথ্য নায়ক ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ জাওরি ১৭ শতাংশ ভোট পেয়ে তৃতীয় হয়েছেন।
আমরা জানি যে, বর্তমান বিশ্ব সভ্যতায় মুসলিম উম্মাহ নানাভাবে নিপীড়িত বঞ্চিত, যেন পরাজয়ের এক যুগে বসবাস করছে তারা। বর্তমান সময়ে নানা ষড়যন্ত্র, প্রহসন ও বঞ্চনার বিরুদ্ধে কথা বলার মতো সাহসী লোক তেমন দেখা যায় না। তবে এ ক্ষেত্রে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোগান এক ব্যতিক্রমী ব্যক্তিত্ব। বেশ কয়েক বছর ধরেই বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী নেতা হিসেবে তিনি বিবেচিত হচ্ছেন। মুসলিম প্রধান দেশ তুরস্কের সমাজ ব্যবস্থায় ইসলামী মূল্যবোধকে সমুন্নত রেখে উন্নয়নের পথে চলার কারণেই তিনি স্বদেশসহ বিশ্বে একজন জনপ্রিয় নেতা হয়ে উঠেছেন। ১৯৫৪ সালে জন্ম নেয়া এরদোগান তুরস্কের ক্ষমতাসীন একে পার্টির অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা। ২০০৩ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত তিনি প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। এরপর নির্র্বাচিত হন প্রেসিডেন্ট। এর আগে তুরস্কের সবচেয়ে প্রাচীর নগরী ইস্তাম্বুলের মেয়র ছিলেন তিনি। তার হাত ধরেই তুরস্ক রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামরিক দিক থেকে বিশ্বের অন্যতম শক্তিতে পরিণত হয়েছে।
বর্তমান সময়ে আদর্শিক ও নৈতিক চেতনাকে সমুন্নত রেখে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার বিষয়টি আসলেই এক বড় চ্যালেঞ্জ। কিন্তু জাতীয় লক্ষ্যকে সামনে রেখে জনগণকে উজ্জীবিত করে কেউ যদি সাহসের সাথে সামনে এগিয়ে যেতে চায় তবে তা যে সম্ভবপর হতে পারে, তার এক উজ্জ্বল উদাহরণ এরদোগান। শুধু দেশের উন্নয়নই নয়, আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলেও মজলুম মুসলমানদের পাশে দাঁড়িয়ে কার্যকর অবদান রাখতে চেষ্টা করছেন তিনি। এ প্রসঙ্গে সিরিয়ার কথা উল্লেখ করা যেতে পারে। বিধ্বস্ত আলেপ্পোর নিপীড়িত মানুষদের রক্ষায় রাশিয়ার সাথে অর্থবহ সংলাপে সক্ষম হন তিনি। সিরিয়ায় আমেরিকার প্রতারণাময় কর্মকা-ের বিরুদ্ধে তিনি সত্য ভাষণে কুণ্ঠিত হননি। এসব কারণেই হয়তো আল জাজিরার বর্ষসেরা ব্যক্তিত্বে পরিণত হয়েছেন তিনি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ