ঢাকা, রোববার 18 November 2018, ৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৫, ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

এনসিটিবির দুই কর্মকর্তা ওএসডি, তদন্ত কমিটি গঠন

অনলাইন ডেস্ক: পাঠ্যপুস্তকে ভুলত্রুটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগের বিভিন্ন মাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনা এবং পত্রপত্রিকায় লেখালেখির পর অবশেষে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) দুই কর্মকর্তাকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দিয়ে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) করা হয়েছে।

সোমবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, পাঠ্যপুস্তকে ভুলত্রুটির জন্য প্রাথমিক তদন্তের প্রেক্ষিতে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের প্রধান সম্পাদক প্রীতিশ কুমার সরকার ও উর্ধ্বতন বিশেষজ্ঞ লানা হুমায়রা খানকে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) করা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বই এনসিটিবির মাধ্যমে ছাপানো হলেও সরকারের এই সংস্থাটি আবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন। অন্যদিকে নতুন পাঠ্যপুস্তকে ভুলের ঘটনায় জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) দুই কর্মকর্তাকে ওএসডি করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। 

এনসিটিবি সূত্রে জানা গেছে, লানা হুমায়রা খান তৃতীয় শ্রেণির ‘আমার বাংলা বই’ পরিমার্জনের দায়িত্বে ছিলেন। এই বইয়েই কুসুমকুমারী দাশের  ‘আদর্শ ছেলে’ কবিতাটি ভুলভাবে ছাপা হয়েছে। তার কারণেই এই ভুলটি হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। অন্যদিকে প্রধান সম্পাদক হিসেবে প্রীতিশ কুমার সরকারকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। কারণ, প্রধান সম্পাদক হিসেবে তার দায় আছে মনে করছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

চলতি বছরের পাঠ্যবইয়ে বিভিন্ন ধরনের ভুলভ্রান্তি থাকায় এবং বর্ণ শেখাতে অসংলগ্ন উদাহরণ দেয়ায় বিতর্কের মুখে পড়েছে এনসিটিবি। কয়েকটি পাঠ্যপুস্তক থেকে আলোচিত কিছু গল্প-কবিতা বাদ দেয়ায় নতুন বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। কেউ কেউ বলছেন, এর মাধ্যমে পাঠ্যবইয়ে সাম্প্রদায়িক দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন ঘটেছে। এ নিয়ে কিছুদিন ধরেই ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছে। বিষয়টি নিয়ে কাল বেলা ১১টায় সংবাদ সম্মেলন ডেকেছেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ। অবশ্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং এনসিটিবি জানিয়েছে, যেসব বইয়ে ভুল হয়েছে, সে বিষয়ে একটি সাধারণ সংশোধনী দিয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে জানিয়ে দেওয়া হবে।

এদিকে, পাঠ্যপুস্তকে ভুলত্রুটি নির্ণয় এবং এসব ভুলত্রুটির জন্য দায়ী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে সুপারিশ দিতে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব রুহী রহমানকে আহ্বায়ক করে তিন সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন- মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের যুগ্ম সচিব মাহমুদুল ইসলাম এবং মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক (মাধ্যমিক)।

এ কমিটি আগামী ৭ কর্ম দিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করবে। এছাড়া, জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের অধীনে প্রকাশিত ২০১৭ সালের পাঠ্যপুস্তকে ভুলত্রুটি নির্ণয় ও এসব ভুলত্রুটির জন্য দায়ী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে যথাযথ সুপারিশ প্রদান করবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ