ঢাকা, বুধবার 11 January 2017, ২৮ পৌষ ১৪২৩, ১২ রবিউস সানি ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

শৈত্য প্রবাহে বিপর্যস্ত ইউরোপের শরণার্থীদের জীবন

১০ জানুয়ারি, সিএনএন, জিও নিউজ/এএফপি : বৈরি আবহাওয়ার কারণে ইউরোপের বিভিন্ন দেশের শরণার্থীরা মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন। গত চার দিনে শৈত্যপ্রবাহে অর্ধশতাধিক মানুষ নিহত হয়েছে তীব্র তুষারপাতে। বুলগেরিয়ায় শরণার্থীসহ বেশ কয়েক ডজন মানুষ নিহত হয়েছে বলে এফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
এর আগে জিও নিউজের এক সংবাদে বলা হয়, ইউরোপে গত চার দিনে প্রচণ্ড ঠাণ্ডায় কমপক্ষে ২৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এদের মধ্যে কয়েকজন অভিবাসী এবং গৃহহীনও রয়েছে।
রাশিয়ায় গত ১২০ বছরের মধ্যে এই প্রথম এমন তীব্র শীতে বড়দিন পালন করেছে। সপ্তাহজুড়ে এমন বৈরি আবহাওয়া বিরাজ করবে বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
ইউরোপজুড়ে নিহত ২৩ জনের মধ্যে ১০ জনই পোল্যান্ডের নাগরিক। শনিবার সেখানে তাপমাত্রা ছিল মাইনাস ১৪ ডিগ্রী সেলসিয়াস। পোলিশ গভর্নমেন্ট সেন্টার ফর সিকিউরিটি (আরসিবি)’র মুখপাত্র বোজেনা ওয়াইসোকা বলেছেন, তীব্র শৈত্যপ্রবাহে শুক্রবার ৭ জনের প্রাণহানি হয়েছে।
যে দিনটি ছিল চলতি শীত মৌসুমের সবচেয়ে প্রাণঘাতী দিন। ঠাণ্ডার কারণে ১ নভেম্বর থেকে ৫৩ জন ঠান্ডা জনিত রোগে আক্রান্ত  হয়েছে।
মঙ্গলবার সিএনএনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, গ্রীসের লিসবস দ্বীপের মারিয়া শরণার্থী শিবিরে শুক্রবার প্রায় ৪ হাজার মানুষের আশ্রয় নিয়েছে দেখা গেছে। তুষার ঝড়ের মধ্যে শরণার্থী শিবির থেকে খুবই আক্রান্ত ১২০ জন নারী, পুরুষ ও শিশুকে হোটেলে পাঠানো হয়েছে বলে জাতিসংঘের শরাণার্থী শিবিরের এক মুখপাত্র সোমবার সিএনএনকে জানিয়েছেন।
মারিয়া আশ্রয় কেন্দ্রের অবস্থা খুবই নাজেহাল। এখন পর্যন্ত ঠিক কতজন ওই শরণার্থী শিবিরে বাস করছে তা এখনো সঠিকভাবে বলা হয়নি সরকারের পক্ষ থেকে। তবে গ্রীসের অভিবাসী মন্ত্রী ইয়ানিস মৌজালাস এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, বৈরি আবহাওয়া বিরাজ করায় কোন শরণার্থী বা  অভিবাসী ঠান্ডা আবহাওয়ার মধ্যে থাকতে হচ্ছে না। তাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
গ্রীসের এই মন্ত্রীর বিবৃতির সঙ্গে বাস্তবে অমিল দেখা গেছে জাতিসংঘের স্বেচ্ছাসেবকদের কথায়। তারা জানিয়েছেন ভিন্ন কথা। তারা জানিয়েছেন এখনো আরো কয়েক হাজার শরণার্থী খোলা পরিবেশে তুষার শীতের মধ্যে বাস করছেন।
এছাড়া সিএনএনের এক প্রতিবেদনেও দেখানো হয়েছে এখনো তুষারপাতের মধ্যে মারিয়া শরণার্থী শিবিরের কয়েকটি তাবু ভেঙ্গে পড়েছে। এর মধ্যেই কয়েকজনকে দেখা গেছে আশ্রয়  কেন্দ্রের ভেতরে রয়েছে।
ইতালিতে গত ৪ দিনে প্রায় ঠান্ডায় প্রায়  এক ডজন মানুষের মৃত্যুবরণ করেছে। দক্ষিণ-পূর্ব এবং মধ্য ইতালিতে অতিরিক্ত শৈত্যপ্রবাহে শনিবার বারি ও ব্রিন্দিস এয়ারপোর্ট বন্ধ ঘোষণা করা হয়। সিসিলিতেও একই অবস্থা বিরাজ করছিল।
এদিকে প্যারাগুয়ের জরুরি সেবাকেন্দ্র তিনজনের মৃত্যুর সংবাদ নিশ্চিত করেছে। এছাড়া রাশিয়ার রাজধানী মস্কো ও সেইন্ট পিটার্সবার্গে রাতে তাপমাত্রা কমে যথাক্রমে ৩০ এবং ২৪ ডিগ্রী সেলসিয়াসে নেমে আসে। সেন্ট পিটার্সবার্গে একজনের মৃত্যু হয় এবং বুলগেরিয়ার দক্ষিণপূর্বের পাহাড়ি অঞ্চলে ২ জন ইরাকি অধিবাসীর মৃত দেহ উদ্ধার করা হয়। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে কর্তৃপক্ষের ধারণ।
অতিরিক্ত তুষারপাতে তুরস্কের রাজধানী ইস্তাম্বুলও পুরোপুরি অকেজো হয়ে পড়েছে। আবহাওয়ার কথা বিবেচনা করে শনিবার ইস্তাম্বুলের প্রায় শতাধিক ফ্লাইট বাতিল ঘোষণা করা হয়। উপকূলগুলোতে নৌ চলাচল সীমিত করা হয়েছে।
গত সপ্তাহে গ্রীসে শীতের তীব্রতা অনেক বেশি ছিল। এই অঞ্চলে প্রায় ৬০ হাজার সিরিয়ীয় অভিবাসী রয়েছে। শনিবার গ্রীসের রাজধানী এথেন্সের তাপমাত্রা ছিল শুন্য ডিগ্রী সেলসিয়াস এবং দেশটির উত্তরাঞ্চলে তাপমাত্রা ছিল মাইনাস ১৫ ডিগ্রী সেলসিয়াস।
শনিবার ইউরোপের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় সুইজারল্যান্ডের লা ব্রেভিন গ্রামে।  সেখানে তাপমাত্রা ছিল মাইনাস ২৯.৯ ডিগ্রী সেলসিয়াস। যা ১৯৮৭ সালের ১২ জানুয়ারির চেয়ে কম। ওই বছর সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় মাইনাস ৪১.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ