ঢাকা, বুধবার 11 January 2017, ২৮ পৌষ ১৪২৩, ১২ রবিউস সানি ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

আটকের ৫ দিন পরও কোন খোঁজ নেই সাব্বির আশরাফুল ও জহুরুলের

গাইবান্ধা সংবাদদাতা : রাজধানীতে পুলিশের হাতে গ্রেপ্তারকৃত সন্তানদের সন্ধানের দাবিতে সুন্দরগঞ্জে সাংবাদিক সম্মেলন করেছেন সুন্দরগঞ্জ উপজেলা জামায়াতের আমীরের স্ত্রী মোছাঃ রেবেকা বেগম। এক সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি বলেন, আমার ছেলে সাব্বির আহমেদ তিতুমীর কলেজ থেকে মাস্টাস পাস করে বর্তমানে গ্রামীণ ডেকো কোম্পানীতে কর্মরত আছে ও আশরাফুল আলম ড্রাফোডিল ইউনিভার্সিটি বিবিএ ৩য় বর্ষের ছাত্র। গত ৪ জানুয়ারি/১৭ রাজধানীর উত্তর বাড্ডা স্বাধীনতা শরণী ২৭/২ বাসার ফ্লাট থেকে অন্যায়ভাবে তাদের গ্রেফতার করে নিয়ে যায় পুলিশ। কিন্তু গ্রেপ্তারের পর ৫ দিন পার হয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত আইন অনুযায়ী আদালতে হাজির করা হয়নি। আমরা বার বার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন সংস্থার কাছে শরনাপন্ন হয়েও তার সন্ধান পাচ্ছি না। 

আমি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের কাছে আমার সন্তানদের নিরাপত্তা দাবি করছি। তাকে আটক বা গ্রেফতারের কথা অস্বীকার করায় আমরা আমাদের সন্তানদের ব্যাপারে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছি। আমার জানামতে আমার ছেলেরা কোন অপরাধের সাথে জড়িত নয় এর পরেও প্রশাসনের নিকট যদি আমার ছেলেদের বিরুদ্ধে যদি কোন অভিযোগ থাকে তাহলে আমার আকুল আবেদন তাকে যেন আইন অনুযায়ী দ্্রুত আদালতে উপস্থাপন করা হয়। আমার সন্তানরা যদি সত্যিই কোনো অপরাধ করে থাকে তাহলে তাকে আদালতে বিচারের সম্মুখীন করা হোক। দেশের অন্য সকল নাগরীকের মত আইনের আশ্রয় নেয়ার অধিকার আমাদেরও আছে। শুধু জামায়াত নেতার ছেলে হবার অপরাধে যেন তাকে সরকারের অত্যাচারের মুখে পড়তে না হয়। আমরা জাতীয় মানবাধিকার সংস্থাসহ দেশী বিদেশী বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠনের কাছে আমার সন্তানের আইনের আশ্রয় পাবার অধিকারের ব্যাপারে সোচ্চার হওয়ার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করছি। আমার ছেলে সাব্বির আহমেদ ও আশরাফুল ইসলামের জান মালের কোন ক্ষতি হলে তার দায়ভার সরকার ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকেই নিতে হবে।

তিনি অবিলম্বে ছেলের সন্ধান ও আদালতে সোপর্দ করার দাবি জানান। দয়া করে আমাদের আদরের সন্তানদেরকে আমার বুকে ফিরিয়ে দিন। একজন মায়ের আকুতি পদদলিত করবেন না। আমাদের ছেলেদের সন্ধানের জন্য সাংবাদিক ভাইদের একান্ত সহযোগিতা কামনা করছি।

অপরদিকে উপজেলা জামায়াতের আমীরের চাচি রেহেনা পারভীন পৃথকভাবে সাংবাদিক সম্মেলনে বলেন, আমার স্বামী জহুরুল ইসলাম ব্যবসায়ী কাজে ঢাকায় গিয়ে ছিলেন । গত ৪ জানুয়ার/১৭ রাজধানীর উত্তর বাড্ডা স¦াধীনতা শরণী ২৭/২ বাসার ফ্লাট থেকে অন্যায়ভাবে গ্রেফতার করে নিয়ে যায় পুলিশ। কিন্তু গ্রেপ্তারের পর ৫ দিন পার হয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত আইন অনুযায়ী তাকে আদালতে হাজির করা হয়নি। আমরা বার বার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন সংস্থার কাছে শরনাপন্ন হয়েও তার সন্ধান পাচ্ছি না। 

আমি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের কাছে আমার স্বামীর নিরাপত্তা দাবি করছি। তাকে আটক বা গ্রেফতারের কথা অস্বীকার করায় আমরা গভীরভাবে উদ্বীগ্ন হয়ে পড়েছি। আমার জানামতে আমার স্বামী কোন অপরাধের সাথে জড়িত নয় এর পরেও প্রশাসনের নিকট যদি আমার স্বামীর বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ থাকে তাহলে, আমার আকুল আবেদন তাকে যেন আইন অনুযায়ী দ্্রুত আদালতে উপস্থাপন করা হয়। আমার স্বামী যদি সত্যিই কোনো অপরাধ করে থাকে তাহলে তাকে আদালতে বিচারের সম্মুখীন করা হোক। দেশের অন্য সকল নাগরীকের মত আইনের আশ্রয় নেয়ার অধিকার আমাদেরও আছে। আমরা জাতীয় মানবাধিকার সংস্থাসহ দেশী বিদেশী বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠনের কাছে আমার স্বামীর আইনের আশ্রয় পাবার অধিকারের ব্যাপারে সোচ্চার হওয়ার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করছি। আমার স্বামী জহুরুল ইসলাম মেম্বার জান মালের কোন ক্ষতি হলে তার দায়ভার সরকার ও আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকেই নিতে হবে।

আমি অবিলম্বে আমার স্বামীর সন্ধান ও আদালতে সোপর্দ করার দাবি জানাচ্ছি। দয়া করে মাননীয় প্রধান মন্ত্রীর কাছে আমার আবেদন আমার স্বামীকে আমার কাছে ফিরিয়ে দিন। একজন স্ত্রী আকুতি পদদলিত করবেন না।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ