ঢাকা, বুধবার 11 January 2017, ২৮ পৌষ ১৪২৩, ১২ রবিউস সানি ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

জাজিরায় আ’লীগের দু’গ্রুপের সংঘর্ষে ককটেলে নিহত ১ ॥ আহত ১০

নিহত হোসেন খার স্বজনদের আহাজারি -সংগ্রাম

শরীয়তপুর সংবাদদাতা : জাজিরার বড়কান্দি ইউনিয়নে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ফের স্থানীয় আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে ককটেল বোমার আঘাতে মাথার খুলি উড়ে গিয়ে হোসেন খা (৩২) নামে একজন নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় আরো অন্তত ১০ জন আহত হয়েছে। আহতদের মধ্যে গুরুতর অবস্থায় ৩ জনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। নিহতের পরিবারের দাবি হোসেনকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে প্রতিপক্ষের লোকজন মাথায় ককটেল বোমা ফাটিয়ে হত্যা করেছে। গতকাল মঙ্গলবার সকাল সারে ৬টার দিকে বড়কান্দি ইউনিয়নের মীর আলী মাদবরকান্দি গ্রামে ফসলী জমির মধ্যে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার পর নিহতের সমথর্করা প্রতিপক্ষের বাড়ি ঘরে হামলা চালিয়ে অর্ধশতাধিক বাড়িঘর ভাংচুর ও লুটতরাজ করেছে বলে অভিযোগ করা হয়। নিহত হোসেন খা একই এলাকার আব্দুল আলী বেপারী কান্দি গ্রামের মৃত জলিল খার ছেলে। এদিকে হোসেন খা নিহত হওয়ার পর এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। নতুন কোন সংঘাত এড়াতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

নিহতের পরিবার, জাজিরা থানা পুলিশ ও নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা যায়, শরীয়তপুর জেলার জাজিরা উপজেলার বড় কান্দি ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান সিরাজ সরদার ও সাবেক চেয়ারম্যান শফিউদ্দিন খলিফার মধ্যে দীর্ঘ দীর্ঘ দিন যাবত আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। এ নিয়ে গত রোববার থেকে উভয় পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় বড়কান্দি ইউনিয়নের খলিফাকান্দি, মীর আলী মাদবর কান্দি ও জাজিরা ইউনিয়নের দুর্বাডাঙ্গা ও পাথালিয়া কান্দিসহ ৫/৬টি গ্রামের দুইপক্ষের সমর্থকদের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও শতাধিক ককটেল বোমার বিষ্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এরই সূত্র ধরে গতকাল মঙ্গলবার সকালে উভয় পক্ষ ককটেল বোমা ও দেশীয় অস্ত্রসস্ত্রে সজ্জিত হয়ে বড়কান্দি ইউনিয়নের মীর আলী মাদবরকান্দি গ্রামের মজিবুর মাদবরের বাড়ির উত্তর পার্শ্বে ফসলী জমির মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। এ সময় সাবেক চেয়ারম্যান শফি খফিলার সমর্থক হোসেন খান ককটেল বোমার আঘাতে মাথার খুলি উড়ে গেলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। সংঘর্ষ চলাকালে উভয় পক্ষের আব্দুর রহমান বেপারী, জাহাঙ্গীর মাদবর, ইলিয়াস দড়ি, নুরু মিয়া খা, নুর হোসেন খা, সেকান্দার ছৈয়াল ও রজব আলী মাদবরসহ অন্তত ১০জন আহত হয়। আহতদেরকে জাজিরা উপজেলা স্বাস্থ কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। এদের মধ্যে গুরুতর আহত জাহাঙ্গীর মাদবর, নুরু মিয়া খা ও আব্দুর রহমান বেপারীর অবস্থা আশঙ্কাজনক হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। জাজিরা থানা পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য শরীয়তপুর সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করে। এ ঘটনার পর নিহতের সমর্থকরা প্রতিপক্ষ হামেদ সরদার, ফারুক মাদবর, দিল মোহাম্মদ বেপারী, জালাল বেপারী, আলী আহমদ বেপারী, ইসমাইল মাদবর ও সামেদ আলী মাদবরের বাড়িঘরসহ অর্ধশতাধিক বাড়ি-ঘর ভাংচুর ও লুটপাট করেছে বলে অভিযোগ ক্ষতিগ্রস্থদের। ঘটনার পর পুনরায় সংঘাত এড়াতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। 

নিহত হোসেন খানের মা ইয়ারুন নেছা বলেন, সোমবার রাতে আমার ছেলে ঢাকা থেকে আমার নাতনির বিয়ের অনুষ্ঠানের জন্য বাড়ি আসে। গতকাল মঙ্গলবার ভোরে মেম্বার বাবুল বেপারী, সাবেক ম্বেবার দিলু বেপারী হযরত আলী বেপারী, আজিজ ফকির ও মোক্তার বেপারী আমার ছেলেকে ঘর থেকে ডেকে নিয়ে মাথায় বোমা মেরে খুন করেছে। আমার ছেলের খুনিদের ফাঁসি চাই।

বড়কান্দি ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান শফিউদ্দিন খলিফা বলেন, চেয়ারম্যান সিরাজ সরদারের ভাই তোতা সরদার ও ভাগ্নে মাসুদের নেতৃত্বে স্থানীয় ও বহিরাগত সন্ত্রাসীরা আমার সমর্থক হোসেন খানকে বোমা মেরে খুন করে। বোমা হামলায় আমার সমর্থক হোসেন খার মাথার খুলি উড়ে গেছে। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে বিচার দাবি করছি। 

বড়কান্দি ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান এস এম সিরাজ সরদারের সাথে তার মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেস্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।

জাজিরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ নজরুল ইসলাম বলেন, বোমা হামলায় একজন নিহত হয়েছে। ঘটনার পর প্রতিপক্ষের লোকজন কয়েকটি বাড়িঘর ভাংচুর করার খবর পেয়েছি। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এখনো কাউকে আটক করা যায়নি। এলাকায় তল্লাশী করে টেটা, রামদা, সেনদা, ঢালসরকিসহ বেশ কিছু দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। নতুন করে সংঘাত এড়াতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ