ঢাকা, বুধবার 11 January 2017, ২৮ পৌষ ১৪২৩, ১২ রবিউস সানি ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

এমপি লিটন হত্যা মামলার তেমন কোন অগ্রগতি নেই -আইজিপি

সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা) সংবাদদাতা : জঙ্গি, সন্ত্রাসীদের দেশ থেকে নির্মূল করা হবে। এসব হত্যাকারীরা যে ধরনের কৌশলই অবলম্বন করুক না কেন আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী তাদের খুঁজে বের করবে। এমপি লিটন হত্যাকারীরা রেহাই পাবে না। খুনের সাথে সম্পৃক্তদের খুব দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে। গতকাল মঙ্গলবার বিকালে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বামনড্ঙ্গাা আব্দুল হক ডিগ্রি কলেজ মাঠে আইন-শৃঙ্খলা বিষয়ক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে আইজিপি একেএম শহীদুল হক, পিপিএম এসব কথা বলেন। এসময় তিনি আরো বলেন, একটি বিশেষ রাজনৈতিক দল স্বাধীনতা বিরোধী চক্রের সঙ্গে হাত মিলিয়ে দেশে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের উত্থান ঘটাতে চায়। আমরা তাদের আশা সফল হতে দেব না। দেশে যারা ধর্মীয় রাজনীতির নামে মানুষ হত্যা করে তাদেরকেও বিচারের আওতায় আনা হবে। তিনি আরোও হুশিয়ারী উচ্চারণ করে বলেন, যারা এমপি লিটনকে হত্যা করেছে তারা ভেবেছে সন্ত্রাসী রাজত্ব কায়েম করবে। কিন্তু তাদের এ ধরনের আশা-আকাক্সক্ষা কোন অবস্থাতেই পূরণ করতে দেয়া হবে না। পরে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে তিনি বলেন, এমপি লিটন হত্যা মামলার তেমন কোন অগ্রগতি নেই। তবে এদেশের সর্বোচ্চ গোয়েন্দা সংস্থা ও পুলিশ প্রশাসন এ হত্যা কাণ্ডের সাথে জড়িতদের কখনো রেহাই দেব না। হত্যাকারীদের গ্রেফতার করে দ্রুত আইনের আওতায় আনতে পারবেন বলে সকলকে আশ্বস্ত করেন তিনি। 

পুলিশ সুপার আশরাফুল ইসলামের সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি খন্দকার গোলাম ফারুক, জেলা প্রশাসক আব্দুস সামাদ, কমিউনিটি পুলিশিং ফোরাম গাইবান্ধা জেলা ও রংপুর বিভাগীয় কমিটির আহ্বায়ক এম. আবদুস্ সালাম, মরহুম এমপি মঞ্জুরুল ইসলাম লিটন পত্নী সৈয়দা খুরশিদা জাহান স্মৃতি, নিহত এমপির বড় বোন আফরোজা বারী, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু বক্কর সিদ্দিক। 

নিহত এমপির বড় বোন আফরোজা বারী বলেন, হত্যাকাণ্ডের ১১ দিন পেরিয়ে গেলেও হত্যাকারীদের সনাক্তসহ গ্রেফতার করতে না পারায় আমরা অনিশ্চতার মধ্যে অবস্থান করছি। হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার করুন, শাস্তি দিন এ দাবি আজ জানাচ্ছি। 

নিহত এমপির সহধর্মীনী সৈয়দা খুরশিদ জাহান স্মৃতি আবেগ আপ্লুত হয়ে বলেন, স্বামীর নৃশংস হত্যাকারীদের শাস্তি দেখে যেতে চাই। বিচার নিশ্চিত করুন। এই আমাদের দাবি। এসময় তিনি কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন।

মতবিনিময় সভায় কমিউনিটি পুলিশিং ফোরামের সদস্য, শিক্ষক, রাজনীতি ব্যক্তিবর্গসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার হাজার হাজার নারী-পুরুষ অংশ গ্রহণ করেন। এসময় মরহুম এমপি লিটনের আত্মার শান্তি কামনা করে মোনাজাত ও দাঁড়িয়ে নীরবতা পালন করা হয়। পরে আইজিপি এমপির কবরস্থান জিয়ারত করেন এবং শোকাহত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ