ঢাকা, বুধবার 11 January 2017, ২৮ পৌষ ১৪২৩, ১২ রবিউস সানি ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

সুন্দরবনে গোলপাতা মওসুম শুরুর আগেই তৈরি করা হচ্ছে পেটকাটা নৌকা

খুলনা অফিস : আসন্ন গোলপাতা মওসুম সামনে নিয়ে শুরু হয়েছে পেটকাটা নৌকা মেরামত। সুন্দরবন পশ্চিম বনবিভাগের নলিয়ান রেঞ্জের পাঁচটি ষ্টেশন এলাকার বিভিন্ন গ্রামে এ নৌকা মেরামতের দৃশ্য চোখে পড়ে। সুতারখালী বাজারের উত্তর পার্শ্বে কেওড়াবনে ইন্দ্র ও মুজিবর মল্লিক যৌথভাবে বিশাল এক পেটকাটা নৌকা তৈরী করছে।

সুন্দবন পশ্চিম বনবিভাগের নলিয়ান, সুতারখালী, কালাবগী, বানীয়াখালী, হড্ডা, মৌখালী, বাশাখালী, গড়ইখালী, মহেশ্বরীপুর, মহারাজপুর, জোড়শিং, কাশিয়াবাদসহ বিভিন্ন এলাকায় পেটকাটা নৌকা মেরামত ও তৈরীর দৃশ্য দেখা যাচ্ছে। ধারন ক্ষমতার কয়েকগুণ বেশি এ নৌকা সুন্দরবনে প্রবেশের অনুমতি না পাওয়ার কথা। কিন্তু বনবিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অবৈধ অর্থের প্রলোভনে নৌকা মাপজোপ না করে বিএলসিধারী ও পাশ-পারমিট হলেই  মেলে সুন্দরবনে প্রবেশের অনুমতি। নিয়ম না  মেনে দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে এ পেটকাটা নৌকা দিয়ে গোলপাতা আহরণ করলেও কর্তৃপক্ষ রয়েছে নীরব। বিএলসি থেকে শুরু করে সবখানেই রয়েছে সরকারি নীতিমালা বহির্ভুত কর্মকান্ড। বিএলসি নবায়ন ও নতুন বিএলসি করার সময় নৌকাগুলো অফিস ঘাটে এনে মিল করার কথা থাকলেও তা’ মানা হচ্ছে না। এরপর সুন্দরবনে  ঢোকার পর কূপ কর্মকর্তারা নৌকাগুলো পুনরায় মাপার কথা থাকলেও তা’ মাপ করা হয় না। এতে করে সুন্দরবনের গোলপাতা অহরণ এক ট্রিপেই শেষ হয়ে যাচ্ছে। যা ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য হুমকিস্বরূপ। পরিবেশ সংরক্ষণেও রয়েছে বাঁধা। সমূলে বিনাশ হচ্ছে সুন্দরবন। মাঁজ পাতা রেখে গোলপাতা আহরণ করার কথা থাকলেও তা মানছে না বাওয়ালীরা। ঘের ফাইনাল না হওয়া পর্যন্ত নতুন করে ঘের দেয়া নিষিদ্ধ। কিন্তু বনবিভাগ এসব কোন কিছুই  তোয়াক্কা না করে ঘের ফাইনাল করে। এছাড়া পাশ-পারমিটে  ৩ থেকে সর্বোচ্চ ৫ জন শ্রমিক থাকার কথা থাকলেও দেখা যায় এক/একটি নৌকায়  ৮ থেকে ১২ জন শ্রমিক কাজ করছে। বিভিন্ন প্রজাতির  গাছ ধ্বংস হচ্ছে গোলপাতা আহরণ মওসুমে। অনিয়ম জেনো নিয়মে পরিণত হয়েছে। সুন্দরবন পশ্চিম বনবিভাগের নলিয়ান রেঞ্জের বিভিন্ন ষ্টেশন সংলগ্ন এলাকায় পেটকাটা নৌকা  মেরামত ও তৈরী হলেও বনবিভাগের কোন দায়দায়িত্ব নেই। খুব তাড়াতাড়ি পাশ-পারমিট ছাড়া হবে বলে সূত্র জানায়। আর এ জন্য এলাকায় চলছে তোড়জোড় করে পেটকাটা নৌকা মেরামত ও তৈরী। খুলনা রেঞ্জসহ অন্য ৩টি রেঞ্জে একই অবস্থা বিরাজ করছে । একশ’ মণ গোলপাতার রাজস্ব এক হাজার টাকা কিন্তু সে স্থলে নেয়া হয় এক হাজার ৬শ’ থেকে এক হাজার ৭শ’ টাকা পর্যন্ত। কূপলিং নেয়ার সময় এক হাজার ৫শ’ টাকা পর্যন্ত সম্পূর্ণ অবৈধ অর্থ গ্রহণ করে বনবিভাগের কতিপয় অসাধু কর্মকর্তা। ঝুল থাড়ি বন্ধ থাকার পরও তা’ অব্যহত আছে সুন্দরবনে।

সুন্দরবন বিশেজ্ঞরা জানান, সুন্দরবন রক্ষা করতে হলে সুন্দরবনের সকল বনজদ্রব্য অবাধে আহরণ বন্ধ করতে হবে। সম্প্রতি কাঁকড়া প্রজনন মওসুম চললেও থেমে নেই কাঁকড়া আহরণ। নলিয়ান রেঞ্জের বিভিন্ন নদী-খালে কাঁকড়া আহরণ করতে দেখা যাচ্ছে প্রকাশ্যে। গত শুক্রবার কোস্টগার্ড পশ্চিম জোন (নলিয়ান অফিস) অভিযান চালিয়ে তিনজন লোকসহ সুন্দরবন থেকে আহরণকৃত একটি কাঁকড়া বোঝাই ট্রলার আটক করে।

এ ব্যাপারে নলিয়ান স্টেশন কর্মকর্তার রাফি-উদ-দৌলার কাছে মুঠোফোনে জানতে চাইলে তিনি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, জব্দকৃত কাঁকড়া নিলামে বিক্রয় করে চারলাখ টাকা রাজস্ব আদায় করা হয়েছে। আটককৃত  ট্রলার ও ৩ নং আসামীর নামে বন আইনে মামলা দেয়া হয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ