ঢাকা, বুধবার 11 January 2017, ২৮ পৌষ ১৪২৩, ১২ রবিউস সানি ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

২০১৬ সালে ধর্ষণের শিকার ১০৫০ নারী ॥ নির্যাতিত ১৪১৫ জন

স্টাফ রিপোর্টার : ২০১৬ সালে দেশে এক হাজার ৫০ জন নারী ধর্ষণের শিকার হয়েছে বলে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ দাবি করেছে। রোববার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় নিজ অফিসে এক সাংবাদিক সম্মেলনে এ তথ্য তুলে ধরে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ। সাংবাদিক সম্মেলনে মডারেটরের দায়িত্ব পালন করেন বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি আয়শা খানম।

মহিলাদের নিয়ে কাজ করা স্বেচ্ছাসেবী এই সংগঠনটি আরো জানায়, এদের মধ্যে ৪৪ নারীকে ধর্ষণের পর হত্যা এবং ১৬৬ নারীকে গণধর্ষণ করা হয়েছে। বক্তারা জানান, বিদায়ী বছরে ১২০ নারী যৌন হয়রানির শিকার হয়েছেন। সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রাখী দাশ পুরকায়স্থ ও সীমা মোসলেম, অ্যাডভোকেসী ডিরেক্টর জনা গোস্বামীসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতৃ ও সংগঠকবৃন্দ।

অন্যদিকে একই বছর যৌতুকের দায়সহ বিভিন্ন ঘটনায় সারা দেশে এক হাজার ৪১৫ জন নারী নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। এছাড়া এই সময়ে সারা দেশে অপহরণ হয়েছেন ৩৯৭ জন, অপহরণের পর জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে ১৮৯ জনকে এবং মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে ৭৩ জনের। সম্প্রতি গণমাধ্যমে পাঠানো বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সেন্টারের (এইচআরএসসি) বার্ষিক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক সংবাদপত্র এবং স্থানীয় প্রতিনিধিদের তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে বলেও এইচআরএসসি থেকে জানানো হয়।

প্রতিবেদনে উঠে আসে, ২০১৬ সালে দেশে পারিবারিক কলহের সংখ্যা ৪০৯টি। এসব ঘটনায় ২৮৯ নারী নিহত হয়েছেন, আত্মহত্যা করেছেন ৫৪ জন এবং আহত হয়েছেন ৬৬ জন। ধর্ষণের শিকার হয়েছেন ৭৩৯ জন নারী এবং ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে ৩৯ জনকে। প্রতিবেদনে বলা হয়, যৌতুকের জন্য নির্যাতনে ২২৭টি ঘটনায় নিহত হয়েছেন ১৫০ জন, আত্মহত্যা করেছেন ৫ জন এবং আহত হয়েছেন ৭২ জন নারী। এছাড়া এসিড নিক্ষেপের শিকার হয়ে ৩৫টি ঘটনায় নিহত হয়েছেন একজন এবং আহত হয়েছেন ৩৯ জন নারী। এছাড়াও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ২০১৬ সালে সারা দেশে অপহরণ হয়েছেন ৩৯৭ জন, অপহরণের পর জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে ১৮৯ জনকে এবং মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে ৭৩ জনের। এছাড়াও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী কর্তৃক ৩৪ জনকে অন্তর্ধান (গুম) করা হয়েছে এবং গুম করার পর ৯ জনকে বিচারবহির্ভূত হত্যা করা হয়েছে। এ বছরে ১৬৭টি বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী কর্তৃক ২১৭ জন নিহত হয়েছেন। এছাড়াও ২০১৬ সালে কারা হেফাজতে মারা যায় ২৭ জন।

এ বছরে ৭২৩টি সহিংস হামলার ঘটনায় নিহত হয়েছেন ৬৪৭ জন, আহত হয়েছেন ৬৭৩ জন এবং গুলিবিদ্ধ ১১৪ জন। এছাড়াও গণপিটুনির ১১১টি ঘটনায় নিহত হয়েছেন ১০৪ জন। বিভিন্ন স্থান থেকে পুলিশ ৩৬১ জনপুরুষের, ১৪৭ জন মহিলার এবং ২২৯ জনের অজ্ঞাতলাশ উদ্ধার করে। এতে আরো উল্লেখ করা হয়, ৪২৩টি রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনায় নিহত হয়েছেন ১০১ জন, আহত হয়েছেন ৩ হাজার ৬১৩ জন এবং গুলিবিদ্ধ ৮২ জন, যার অধিকাংশ ঘটনায় সরকারদলীয় কোন্দল ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ঘটেছে।

আর সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উপর ৮১টি হামলার ঘটনায় মন্দির ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান হামলাসহ নিহত হয়েছেন ১১ জন, আহত হয়েছেন ৬৩ জন। ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) কর্তৃক ৬৯টি হামলার ঘটনায় শারীরিক নির্যাতন ও গুলি করে ২৮ জন বাংলাদেশিকে হত্যা করা হয়েছে, আহত হয়েছেন ২৮ জন এবং গ্রেফতার ৩৫ জন। এছাড়াও মায়ানমারের সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিজিপি) কর্তৃক ৬টি হামলার ঘটনায় আহত হয়েছেন ৭ জন এবং গ্রেফতার করা হয় ১৫ জনকে।

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, গত বছর ১১ ফেব্রুয়ারি ২০১৬ নির্বাচন কমিশন ছয়টি ধাপে মোট ৪ হাজার ২৭৫টি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের শিডিউল ঘোষণা করার পর প্রথমবারের মতো দলীয় প্রতীকে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ২২ মার্চ নির্বাচন শুরু হয় এবং ছয়টি ধাপে এই নির্বাচন ৪ জুন শেষ হয়। প্রথম-ছয় ধাপের নির্বাচনী সহিংসতায় মোট ৮৬ জন নিহত, অন্ততপক্ষে ২ হাজার ৬০৫ জন আহত এবং গুলিবিদ্ধ হয়েছেন ২৩২ জন। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ও রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের হামলায় সাংবাদিক আহত হয়েছেন অন্ততপক্ষে ৬০ জন, গ্রেফতার হয়েছে ১০ জন। এছাড়াও লাঞ্ছনার শিকার হয়েছেন ১০ জন এবং হুমকির সম্মুখীন হয়েছেন ১১ জন সাংবাদিক। বিবৃতিতে মানবধিকার সংগঠনটি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে জনগণের মৌলিক ও সাংবিধানিক অধিকার নিশ্চিত করতে না পারলে দেশের সার্বিক মানবাধিকার পরিস্থিতি আরো অবনতির দিকে যাবে বলে মনে করে। তাই দেশের সব সচেতন নাগরিক, সাংবাদিক, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও দেশি-বিদেশি মানবাধিকার সংগঠনগুলোকে এসব ঘটনায় সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ