ঢাকা, বুধবার 11 January 2017, ২৮ পৌষ ১৪২৩, ১২ রবিউস সানি ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

চলনবিলে কৃষিজমি কেটে পুকুর খনন কমে যাচ্ছে খাদ্যশস্য উৎপাদন

তাড়াশ (সিরাজগঞ্জ) সংবাদদাতা: চলনবিলে আবাদে লোকসান হওয়ায় অধিক লাভের আশায় কৃষকেরা ধানী জমিতে পুকুর খনন করে মাছের চাষ করছে। এভাবে পুকুর খনন হওয়ায় উৎপাদন কমে আসবে খাদ্যশস্যের। তাড়াশ উপজেলার বিভিন্ন সড়কগুলোতে সরকারী খাল বন্ধ করে পুকুর খননকরায় পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ হয়ে সৃষ্টি হচ্ছে স্থায়ী জলাবদ্ধতা। এতে অনেক জমিতে চাষাবাদ ব্যাহত হচ্ছে।তারপরও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের টনক নড়ছে না। জানা যায় চলনবিলে সরকারী নিয়ম নীতি উপেক্ষা করে অবাধে পুকুর খনন করা হচ্ছে। তাড়াশ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বিল খনন করে পুকুর তৈরির কাজ চলছে। নির্বিচারে এই পুকুর খননের ফলে তিন ফসলি কৃষি জমি কমে যাচ্ছে। নষ্ট হচ্ছে চলন বিলের জীববৈচিত্র্য। এদিকে পুকুর খনন বন্দের জন্য অভিযোগ করা হয়েছে। তাড়াশ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম জানান রবি শস্য, ইরি বোরো, ভুট্টা গম, ধান, পাটসহ সকল প্রকার আবাদি জমিতে এভাবে পুকুর খনন মোটেই সমুচিত নয়। বর্ষা কালে উন্মুক্ত জলরাশিতে তলিয়ে গেলেও সেখানে বোনা আমন ও উঁচু জমিতে রোপা আবাদ হয় বছর জুড়েই। জল রাশিতে থাকে দেশিয় প্রজাতির নানা রকম মাছ। এক শ্রেণীর মানুষ মাছ ধরে সারা বছর জীবিকা নির্বাহ করে। মাছের লোভে নানা প্রজাতির পাখি সেখানে বিচরণ করে। তাড়াশের মহিষলুটির পশ্চিম পাশে একপ্রকার অসাধুরা আবাদি জমি নষ্ট করে পুকুর খনন কাজে লিপ্ত, মাগুড়া বিনোদ ইউনিয়নের হামকুড়িয়া বাজারের দক্ষিন পাশে মাটি কেটে বিল উজার করছে। তাড়াশ সদরের চারি পাশে ড্রেজার মেশিন দিয়ে মাটি কেটে সাবার করছে। নিয়মনীতি উপেক্ষা করে নির্বিচারে পুকুর খননকরা হলে আবাদি জমিকমে যাবে। সৃষ্টি হবে স্থায়ীজলা বদ্ধতা। বিপন্ন হবে জীববৈচিত্র্য। বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে অবহিত করা হয়েছে বলে এলাকাবাসী জানিয়েছেন। তাড়াশ উপজেলার নির্বাহী অফিসার জিল্লুর রহমান বলেন কৃষি জমিতে পুকুর খননের সুযোগ নাই। কেউ পুকুর খনন করতে চাইলে জেলা প্রশাসনের নিকট আবেদন করে জমির শ্রেণী পরিবর্তন করে পুকুর খনন করতে পারেন। কিন্তু চলনবিলেন পুকুর খননকারীরা সেই পন্থা অবলম্বন করেন নাই। মান্নান নগর এলাকার ব্যবসায়ী আঃ করিম জানান এবছর চলনবিল এলাকায় প্রায় ৫০টি পুকুর খনন করা হয়েছে, কিন্তু প্রশাসনের কোন নজরদারি নাই। আরো ২০টি পুকুর খননের কাজ চলছে। এসব পুকুরের পাড়গুলি উঁচু হওয়ার কারনে সাধারণ কৃষকের জমিগুলো নিচু পড়েছে। ফলে তাদের জমিতে চলাচলের পথ বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। চাষের লাঙ্গল, সার কীটনাশক নিয়ে যাওয়া কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে। পানি নিষ্কাশনের পথগুলো সংকুচিত হয়ে পড়ায় অনেক জায়গা থেকে জমে থাকা পানি নামতে পারছে না। বর্ষাকালে বিলে স্থায়ী জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হবে। তখন কৃষকদের কষ্টের সীমা থাকবে না। তারা কৃষি, কৃষক ও জীববৈচিত্র্য রক্ষার জন্য এখনই প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেয়ার জন্য প্রশাসনের নিকট দাবি জানান।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ