ঢাকা, বুধবার 11 January 2017, ২৮ পৌষ ১৪২৩, ১২ রবিউস সানি ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

পাঠ্যপুস্তকে ভুলত্রুটি বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়া হবে - শিক্ষামন্ত্রী

যঁৎঃগতকাল মঙ্গলবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড বইয়ের ভুলত্রুটি বিষয়ে প্রেস ব্রিফিং করেন শিক্ষামন্ত্রী নূরুল ইসলাম নাহিদ -সংগ্রাম

স্টাফ রিপোর্টার : শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং জাতীয় পাঠ্যক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের আলোকে পাঠ্যপুস্তকে ভুল সংশোধনে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ। গতকাল মঙ্গলবার সচিবালয়ে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে শিক্ষামন্ত্রী এ কথা জানান। তিনি বলেন, ভুলের জন্য যাদের অবহেলা পাওয়া যাবে, তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হবে। মানুষের ভুলত্রুটি হতেই পারে। তবে কিছু ভুল হওয়া উচিত ছিল না। এই ভুলের জন্য বিচার হওয়া উচিত। যারা ভুল করেছেন, তারা রেহাই পাওয়ার যোগ্য নন। এদিকে ভুলের জন্য জাতীয় পাঠ্যক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) আর্টিস্ট কাম ডিজাইনার (চিত্র ও নকশাকার) সুজাউল আবেদিনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
সাংবাদিক সম্মেলনে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. সোহরাব হোসাইন, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক এস এম ওয়াহিদুজ্জামানসহ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। চলতি শিক্ষাবর্ষে মাধ্যমিক, নিম্ন মাধ্যমিক ও প্রাথমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের ৩৬ কোটি ২১ লাখ ৮২ হাজার ২৮৫টি বই বিনামূল্যে বিতরণ করা হচ্ছে। প্রাথমিক ও মাধ্যমিকদের কয়েকটি বইয়ের ভুলত্রুটি নিয়ে ইতোমধ্যে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও এসব নিয়ে সমালোচনার ঝড় বইছে।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, মন্ত্রণালয়ের একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাকে দিয়ে একটি একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ কমিটির কাছ থেকে সাত কর্মদিবসের মধ্যে সার্বিক রিপোর্ট পাব। এনসিটিবির তদন্ত কমিটির প্রাথমিক ফাইন্ডিংয়ের ভিত্তিতে ২ জনকে ওএসডি করা হয়েছে। সেই কমিটিও প্রতিবেদন জমা দেবে। দিলে আমরা ব্যবস্থা নেব। তিনি বলেন, অবস্থা বুঝে কীভাবে কী (ভুলের) সমাধান করা যায়, সে বিষয়ে ব্যবস্থা নেব। আমরা আশা করি, এতে আমাদের শিক্ষার্থীরা বড় ধরনের কোনো ক্ষতির সম্মুখীন হবে না।
নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেন, কিছু ভুল থাকতে পারে ছাপার ভুল, সেগুলো আমরা সংশোধনী দিয়ে সবাইকে জানিয়ে দিতে পারি। বড় ধরনের ভুল যেগুলো আমাদের সংশোধন করতে গেলে ওই জায়গাটা রিপ্লেস করতে হবে, সে ক্ষেত্রে আমরা সেই ব্যবস্থা নেব। কিছু ভুল আছে যেগুলো থাকা উচিত ছিল না, সেগুলো বাদ দেয়ার জন্য সবখানে নির্দেশ পাঠিয়ে দেব। পাতাগুলো ছিঁড়ে নেব বা ব্লক করে দেব। এভাবে অবস্থা বুঝে আমরা ব্যবস্থা নেব, আমরা রিপোর্টের অপেক্ষায় আছি।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, আমরা সবাইকে বুঝিয়ে দিচ্ছি, যারা এই ভুল করছেন তারা রেহাই পাওয়ার যোগ্য নয়। পরিপূর্ণ রিপোর্ট পাওয়ার পর আরও কারা কারা আছেন, কার ভুল, কে কতটুকু দায়ী সে অনুসারে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
ছেলেমেয়েদের উৎসাহিত করার নৈতিক দায়িত্ব আমাদের সকলের- মন্তব্য করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, যে কথাগুলো তাদের (শিক্ষার্থী) ওপর নেগেটিভ প্রভাব ফেলে আমি মনে করি সেটা করাটা কখনো সঠিক নয়। রেজাল্টের ব্যাপারেই হোক, বই বিতরণের ক্ষেত্রেই হোক। তাদেরকে উৎসাহিত করে, আমরা যারা (পাঠ্যবইয়ের ভুলের জন্য) দায়ী আমরা ভুল করছি আমাদের শাস্তির কথা বলা যেতে পারে, আমাদের ভুল ধরিয়ে দেয়া যেতে পারে। তিনি বলেন, আমরা সবার সহযোগিতা চাই। ভুলত্রুটি আছে, ভবিষ্যতেও ভুলত্রুটি হবে। কোনো ফেরেশতা এসে এগুলো করবে না, মানুষই করবে। মানুষের ভুলত্রুটি হতেই পারে। আমাদের বেশি হতে পারে। বেশি হয়তো হচ্ছে। কিন্তু এটাই শেষ কথা নয়।
শিক্ষামন্ত্রী জানান, বই ছাপার ক্ষেত্রে মাদ্রাসার বই মাদ্রাসা বোর্ড চূড়ান্ত বই তৈরি করে এনসিটিবিকে দেয়। এ ছাড়া মাধ্যমিকের বই মাউশি, প্রাথমিকের বই প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং কারিগরির বই কারিগরি বোর্ড চূড়ান্ত করে এনসিটিবিকে দেয়। এনসিটিবি বইয়ের ভুলত্রুটি সংশোধন করে তা ছাপার জন্য পাঠায়। এরপর ছাপা হওয়া বই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পৌঁছে দেয়া পর্যন্ত আমাদের কাজ। এনসিটিবি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন একটি দফতর।
নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেন, বই যার যারটা তৈরি করে দেন। সেই অনুযায়ী এডিট করা, আরও উন্নত করা এনসিটিবির দায়িত্ব। এসব বিভিন্ন পর্যায়ে আমাদের কিছু ত্রুটি থাকতে পারে, বাস্তবতার কারণে কিছু বাধা থাকতে পারে। ভুলও থাকতে পারে।
ছাগল আমগাছে উঠে আম খাচ্ছে এমন একটি ছবি তুলে ধরে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, প্রথম শ্রেণির বইয়ে ছাগল আমগাছে উঠে আম খাচ্ছে বলে ছবি দিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। পরে প্রথম শ্রেণির বাংলা বই খুলে শিক্ষামন্ত্রী সাংবাদিকদের দেখিয়ে বলেন, আম খাব-বোঝাতে আমগাছের নিচে একটি ছাগলের ছবি দেয়া হয়েছে। এই জিনিসটা দেয়া ঠিক হয়েছে কি না সেটা আমরা দেখব। তবে অমিলটা আমি আপনাদের দেখালাম।
হিন্দুধর্মের একটি বইয়ের পেছনের প্রচ্ছদে ‘ডু নট হার্ট অ্যানিবডি’ লেখা হয়েছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘এই হার্টটা আমাদের হৃদয় নয়। এর অর্থ হবে আঘাত বা কষ্ট দেয়া। এর বানান হবে hurt, কিন্তু বানান লেখা হয়েছে heart। এটা বড় ভুল এটাকে আমরা ক্ষমা করতে পারি না। তিনি বলেন, আদর্শ ছেলে কবিতাটি ভুল করে ছেপেছেন। এটি যিনি ভুল করে ছাপবেন তিনি তো এ বই এডিট করার যোগ্য নন।
হেফাজতে ইসলামের আন্দোলনকে প্রাধান্য দিয়ে পাঠ্যক্রম পরিবর্তন করা হয়েছে কি না- একজন সংবাদিক জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, এখানে কারও আন্দোলনকে প্রাধান্য দেয়ার কোনো সুযোগ নেই। আমরা সবার মতামত নিয়েছি। সঠিকটাকেই গ্রহণ করার চেষ্টা করেছি।
এনসিটিবির চিত্রকার বরখাস্ত : প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের পাঠ্যপুস্তকে ভুলের জন্য এবার জাতীয় পাঠ্যক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) আর্টিস্ট কাম ডিজাইনার (চিত্র ও নকশাকার) সুজাউল আবেদিনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা বিভাগের উপ-সচিব সুবোধ চন্দ্র ঢালী গতকাল এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
চলতি শিক্ষাবর্ষে মাধ্যমিক, নিম্ন মাধ্যমিক ও প্রাথমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের ৩৬ কোটি ২১ লাখ ৮২ হাজার ২৮৫টি বই বিনামূল্যে বিতরণ করা হচ্ছে। প্রাথমিক ও মাধ্যমিকদের কয়েকটি বইয়ের ভুলত্রুটি নিয়ে ইতোমধ্যে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও এসব নিয়ে সমালোচনার ঝড় বইছে।
ঘটনা তদন্তে এনসিটিবি’র সদস্য (অর্থ) অধ্যাপক কাজী আবুল কালামকে আহ্বায়ক করে গঠিত তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়। এ কমিটির প্রাথমিক তদন্তের ভিত্তিতে সোমবার এনসিটিবি’র প্রধান সম্পাদক প্রীতিশ কুমার সরকার ও ঊর্ধ্বতন বিশেষজ্ঞ লানা হুমায়রা খানকে ওএসডি করা হয়েছে।
এ ছাড়া সোমবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব রুহী রহমানকে প্রধান করে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে আগামী সাত কর্মদিবসের মধ্যে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের অধীনে প্রকাশিত ২০১৭ সালের পাঠ্যপুস্তকে ভুলত্রুটি নির্ণয় ও এসব ভুলত্রুটির জন্য দায়ী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে যথাযথ সুপারিশসহ প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ