ঢাকা, বুধবার 11 January 2017, ২৮ পৌষ ১৪২৩, ১২ রবিউস সানি ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

গণপরিবহন সংকট ও যানজটে ভোগান্তিতে রাজধানীবাসী

গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীতে ছিল তীব্র যানজট, বাংলামোটর এলাকার দৃশ্য -সংগ্রাম

স্টাফ রিপোর্টার : বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আওয়ামী লীগের জনসভার কারণে তীব্র যানজট দেখা দেয় রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে। গতকাল মঙ্গলবারের এই সমাবেশের কারণে পুলিশ কয়েকটি সড়ক বন্ধ করে দেয়ায় গাড়ি না পেয়ে দুর্ভোগেও পড়েতে হয়েছে নগরবাসীকে। সমাবেশস্থলে নেতাকর্মীদের খ- খ- মিছিল এবং পিকআপভ্যান আশপাশের বিভিন্ন মোড়ে রাখায় রাজধানীতে প্রচ- যানজট লেগে থাকে।
জানা গেছে, সকাল থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে ডাইভারশন করে যানবাহনকে বিকল্প পথে চলাচলের ব্যবস্থা করে দেয় ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। বন্ধ সড়কের প্রভাবে যাত্রীদের ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে। শুধু তাই নয় সমাবেশকে কেন্দ্র করে নগরীতে গণপরিবহন সংকট দেখা দেয়। ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকেও পরিবহনের সন্ধান মিলেনি। অনেককেই নির্দিষ্ট সময়ের কয়েক ঘন্টা পর গন্তব্যে পৌঁছতে হয়েছে।
রাজধানীর রামপুরা, শাহবাগ, কাঁটাবন, মৎস্যভবন, ফার্মগেট, মিরপুর, যাত্রাবাড়ী, সায়েদাবাদ, এয়ারপোর্ট, গাবতলী, মোহাম্মদপুর, গুলিস্তান, পল্টন, কারওয়ান বাজার এলাকায় গণপরিবহন সংকটে মানুষ পায়ে হেঁটেই যাতায়াত করতে দেখা গেছে। হাতিরঝিলে সাধারণ গণপরিবহনে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও সমাবেশে আসা নেতাকর্মীদের বহনকারী বাসগুলো অহরহ প্রবেশ করতে দেখা গেছে। 
দুপুরে আফজাল হোসেন নামে এক পথচারী বলেন, এখনই সবাই যদি গন্তব্যে পৌছে যান তাহলে ভাল। না হলে যখন সমাবেশ শেষ হবে তখন মানুষকে আরও বেশি ভোগান্তিতে পড়তে হবে। আজ মানুষের তিনগুন কর্মঘণ্টা নষ্ট হবে। বেসরকারি টেলিকমিউনিকেশন কোম্পানিতে কর্মরত ক্রিসটিন ডি কস্টা বলেন, সমাবেশের কথা মাথায় রেখে আজ অফিস যাওয়ার জন্য দুইঘণ্টা আগে বাসা থেকে বের হয়েছি। জানি না সময় মত ফিরতে পারব কিনা। দেরি করে ঢুকলে তো কর্মঘণ্টা কেটে রেখে দেবে কোম্পানি। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রোগি দেখতে আসা স্বরূপ পারভেজ বলেন, রাস্তার অবস্থা আর বলবেন না। আমাদেরই যে কষ্ট করে রোগী দেখতে হাসপাতালে আসতে হয়েছে। বুঝুন যদি কোন অসুস্থ রোগিকে হাসপাতালে আনতে হয় অথবা কাউকে চেকআপের জন্য চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যেতে হয় তাহলে তাদের কি পরিমাণ ভোগান্তির শিকার হতে হবে।
অন্যদিকে দুপুর ২টার পর থেকে জিপিও মোড় জিরো পয়েন্টে, প্রেস ক্লাব থেকে পল্টন মোড়, কাকরাইল মসজিদ মোড় থেকে মৎস্য ভবনমুখী রাস্তা, সোনারগাঁ থেকে শাহবাগ পর্যন্ত রাস্তা, এলিফ্যান্ট রোডের বাটা সিগন্যাল মোড় থেকে শাহবাগ এবং দোয়েলচত্বর থেকে শাহবাগ এবং হাই কোর্টের মাজার গেট পর্যন্ত সড়ক বন্ধ করে দেয়া হয়। ফলে এই গন্তব্য যাদের, তাদের গণ পরিবহন না পেয়ে হেঁটেই চলতে হচ্ছে। 
এছাড়া সদরঘাট থেকে গুলিস্তান, মতিঝিল থেকে পল্টন, আসাদ গেট থেকে এলিফ্যান্ট রোড, ফার্মগেট-খামারবাড়ি থেকে বিজয় সরণি, মগবাজার থেকে কাকরাইল সড়কগুলোতে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়েছে। দীর্ঘক্ষণ আটকে থেকে বাস থেকে নেমে পড়া বীমা কর্মকর্তা মনির হোসেন জানান, দুপুরে মহাখালী থেকে মতিঝিল রওনা হয়ে সাত রাস্তা এলাকায় প্রায় ১ ঘণ্টা বাসে বসে থাকার পর হেঁটে মতিঝিলে চলে আসেন তিনি। পুরান ঢাকার ব্যবসায়ী সুভাষ গাবতলীর উদ্দেশে বাহদুর শাহ পার্ক থেকে যাত্রা শুরু করলেও পরে রায়সাহেব বাজারে নেমে পড়েন। তিনি বলেন, ৫০০ গজের রাস্তা যেতে আধা ঘণ্টা সময় লাগায় পরে নেমে পড়েছি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ