ঢাকা, বুধবার 11 January 2017, ২৮ পৌষ ১৪২৩, ১২ রবিউস সানি ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

প্রথম আলো সম্পাদকের বিরুদ্ধে খুলনায় দু’টি মামলা

খুলনা অফিস : দৈনিক প্রথম আলো পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক মতিউর রহমানের বিরুদ্ধে দু’টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। খুলনা মহানগর হাকিম মো. ফারুক ইকবালের আদালতে একই বিষয়বস্তু উপস্থাপন করে গত সোমবার দুপুরে ৫০০/৫০১ ধারায় মামলা দু’টি করেন খুলনা মহানগর আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক জেড এ মাহমুদ ডন ও মহানগর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এস এম আসাদুজ্জামান রাসেল। দু’টি মামলাতেই আসামী করা হয়েছে স্টাফ রিপোর্টার আহমেদ জায়িফকে। আদালত আরজি দু’টি গ্রহণ করে খুলনা সদর থানার ওসিকে আগামী ২৬ জানুয়ারি তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন।
গত ৪ জানুয়ারি দৈনিক প্রথম আলো পত্রিকার প্রথম পাতায় ‘খুলনায় মাদক নিয়ে আওয়ামী লীগের তিন পক্ষের দ্বন্দ্ব, সবাই চায় সাংসদের আশীর্বাদ’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হয়। ওই সংবাদে ডন, রাসেল ও সংসদ সদস্য মিজানুর রহমান মিজানকে জড়িয়ে মিথ্যা সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে দাবি করেন ডন ও রাসেল।
এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, আহমেদ জায়িফ উক্ত প্রতিবেদনে এবং আসামী মতিউর রহমান এর সম্পাদনায় প্রকাশিত ‘দৈনিক প্রথম আলো পত্রিকার’ প্রোক্ত বর্ণনার সংখ্যা বাদীকে উদ্দেশ্য করে সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন সংবাদ প্রকাশ করেছে যেমন- প্রথম পাতার দ্বিতীয় কলামে এই তিনটি পক্ষ হচ্ছে রোহান গ্রুপ, ডন গ্রুপ ও রাসেল গ্রুপ, তৃতীয় কলামে এ দিকে ডন হঠ্যাৎ সংসদ সদস্যের ঘনিষ্ঠ  হয়ে উঠায় তারও সংগে খুলনা নগর ছাত্র লীগের সাধারণ সম্পাদক এস,এম আসাদুজ্জামান রাসেলের বিরোধ তৈরি হয়েছে, খুলনা শহরে বিভিন্ন ঘটনায় ডন ও রাসেল এবং অনুসারী নেতা কর্মীদের নামই সামনে আসছে। ৪র্থ পাতার ৫ নং কলামে পলাশ কারাগারে যাওয়ার পর প্রভাবশালী হয়ে উঠেন জেড  এ মাহমুদ ওরফে ডন ও আসাদুজ্জামান ওরফে রাসেল। দু’জনই সংসদ সদস্যের পক্ষের। কিন্ত কে সংসদ সদস্যের বেশি আনুকুল্য পাবেন, তা নিয়ে দু’জনের মধ্যে শুরু হয়েছে নতুন দ্বন্দ্ব, ৬ নম্বর কলামে গত মেয়াদে ২৭ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর ছিলেন। এ সময় তিনিও মাদক ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের পৃষ্ঠপোষক ছিলেন বলে অভিযোগ আছে, ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের মাদক ব্যবসা ও কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা নিয়ে ডনের সাথে বিরোধ বাঁধে পালাশের, সাম্প্রতিক সময়ে ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান রাসেল ও ডনের মধ্যে কিছু বিষয় নিয়ে দ্বন্দ্ব দেখা দেয়। এবং ৪র্থ পাতার ৭ নম্বর কলামে আরো উল্লেখ করেছেন সংসদ সদস্যের কাছাকাছি থাকা ২৭, ২৯ ও ৩০ নং ওয়ার্ডে মাদকের ব্যবসার আধিপত্য প্রতিষ্ঠা নিয়ে রাসেল ও ডনের মধ্যে দ্বন্দ্ব দেখা দেয়, গত সপ্তাহের ডনের ওপর হামলার চার থেকে পাচ দিন আগে নগরীর সাত রাস্তার মোড়ে রাসেলের ব্যক্তিগত কার্যালয়ে ভাংচুর চালান ডনের অনুসারী দাদো মিজান ও তার লোকেরা। ইত্যাদি প্রকাশিত বক্তব্য সমূহ সম্পূর্ন মিথ্যা, বানোয়াট, কাল্পনিক ও মানহানীকর। মিথ্যা ও ভিত্তিহীন সংবাদ প্রকাশ করে আসামীদ্বয় বাদীর সামাজিক, পারিবারিক, রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত মান- সম্মান ক্ষুন্ন করেছেন। এ ব্যাপারে দন্ডবিধির ৫০০/৫০১ ধারায় মামলা দায়ের করেন। মামলা দু’টির নং-সিআর-২৮/১৭ ও ২৯/১৭। আগামী ২৬ ফেব্রুয়ারি মামলা দু’টির পরবর্তী তারিখধার্য্য করা হয়েছে।
খুলনা জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও বাদি পক্ষের আইনজীবী সরদার আনিসুর রহমন পপলু বলেন, খুলনা মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান মিজান এমপি, মহানগর আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক জেড এ মাহমুদ ডন ও মহানগর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এস এম আসাদুজ্জামান রাসেলকে জড়িয়ে মাদক ব্যবসা ও দলীয় কোন্দলের কথা প্রকাশিত সংবাদে উল্লেখিত হয়। বিষয়টি নজরে আসার পর দুই বাদি ডন ও রাসেল আমাদের শরানাপন্ন হন। পরবর্তীতে আমাদের মাধ্যমে তারা আদালতে মামলা দায়ের করেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ