ঢাকা, বৃহস্পতিবার 12 January 2017, ২৯ পৌষ ১৪২৩, ১৩ রবিউস সানি ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

চলনবিলে মাছ সংকট শুঁটকি উৎপাদন ব্যাহত

তাড়াশ : চলনবিলে শুঁটকি মাছ রোদে শুকানো হচ্ছে

তাড়াশ (সিরাজগঞ্জ) সংবাদদাতা: সিরাজগঞ্জে শুটকি তৈরীতে মাছের বড়  যোগান আসে মৎস্যভান্ডার হিসেবে খ্যাত চলনবিল থেকে। কিন্তু এবার একদিকে মাছ সংকটে ব্যাহত হচ্ছে শুঁটকি উৎপাদন অপরদিকে বাজারে শুঁটকির দাম না থাকায়  লোকসান গুনতে হচ্ছে শুঁটকি ব্যাবসায়ীদের।
ফলে দীর্ঘদিনের ব্যবসা শুঁটকি উৎপাদনে উৎসাহ হারাচ্ছে ব্যাবসায়িরা।   
সাধারণত আশ্বিন  থেকে চৈত্র মাস পর্যন্ত মৎস্যভান্ডার হিসেবে খ্যাত সিরাজগঞ্জের চলনবিলে চলে শুঁটকি উৎপাদন।
সিরাজগঞ্জের পাশাপাশি নাটোরের সিংড়া, গুরুদাসপুর ও পাবনার চাটমোহরের শতাধিক শুঁটকির চাতালে শুঁটকি উৎপাদন করা হয়। মাছ সংগ্রহের পর দীর্ঘ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে প্রতি মৌসুমে প্রায় ৮০-১০০ টন শুঁটকি উৎপাদন করে উত্তরাঞ্চলের নীলফামারী, সৈয়দপুর, রংপুর, দিনাজপুরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পাঠানো হয়। এখানে প্রায় ২৬ প্রজাতির  দেশীয়  মাছ থেকে সুস্বাদু ও ভালো মানের শুঁটকি তৈরি করা হয়।
প্রতিবছর চলনবিলে পর্যাপ্ত পরিমাণে শুঁটকি উৎপাদনের উপযোগী অবিক্রিত মাছ পাওয়া গেলেও এ বছল তা পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে অতিরিক্ত টাকা দিয়ে চলনবিল ছাড়াও অন্যান্য স্থান থেকে মাছ সংগ্রহ করতে হচ্ছে।
অপরদিকে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করেও প্রতিবছরের মত এবার ভালো দাম পাওয়া যাচ্ছে না। কারণ হিসেবে ব্যবসায়ীরা জানান, প্রতিবছর চলনবিলের শুঁটকি ভারতে রপ্তানি করা হলেও এ বছল ভারতে কোন মাছ পাঠানো যাচ্ছে না। যার ফলে শুঁটকির উপযুক্ত দাম পাওয়া যাচ্ছে না। আর এ অবস্থা থাকলে এই কাজের সাথে জড়িত কয়েক হাজার পরিবার কর্মহীন হয়ে পরবে বলে জানান, শুঁটকি উৎপাদনকারী, মোঃ নাছির উদ্দিন, মোঃ হবিবর  আলী, মোঃ যোহর আলী, আয়নুল হক।
তাড়াশ উপজেলা মৎস কর্মর্কতা  মোঃ হাফিজুর রহমান বলেন, চলনবিলে অবিক্রিত মাছ গুলো সংরক্ষণের জন্য একটি হিমাগার নির্মাণ করা গেলে কর্মসংস্থানের পাশাপাশি যেসব অঞ্চলে মাছের ঘাটতি রয়েছে সেখানে শুঁটকি মাছের চাহিদা পূরণ করতে পারে। আর আধুনিক পদ্ধতিতে শুঁটকি তৈরী করা হলে বিদেশেও রপ্তানি করা সম্ভব বলে মনে করেন এর সাথে সংশ্লিষ্টরা।
শুঁটকি উৎপাদনে মাছের বড় যোগান আসে চলনবিল থেকে। আর পর্যাপ্ত পরিমাণে মাছ পাওয়া গেলে এ মৌসুমে ১৮-২০ কোটি টাকা মুল্যের শুঁটকি তৈরি সম্ভব উল্লেখ করে শুঁটকি তৈরীতে নানা সমস্যার কথা জানালেন এই মৎস্য কর্মকর্তা।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ