ঢাকা, বৃহস্পতিবার 12 January 2017, ২৯ পৌষ ১৪২৩, ১৩ রবিউস সানি ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

চ্যানেল সচল করা না গেলে পানিতে যাবে সরকারের সাড়ে ৩শ কোটি টাকা

বজলুর রহমান, রামপাল (বারেগহাট) : রামপালে ৮৩ রেকর্ডীয় নদী খাল সম্পূর্ণ উন্মুক্ত কর না গেলে মুখ থুবড়ে পড়তে পারে সদ্য খননকৃত মংলা-ঘষিয়াখালী চ্যানেল।
প্রায় সাড়ে ৩শ  কোটি টাকা ব্যয়ে খননকৃত আন্তর্জাতিক এ নৌ চ্যানেলটি স্থায়ীসচলের পথে চ্যালেঞ্জ সমূহের মধ্যে রয়েছে, ৮৩টি নদী খাল সম্পূর্ণ উন্মুক্ত ও দখলমুক্ত করন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের টাইডাল বেসিন স্থাপন, সার্বক্ষণিক সংরক্ষণ ড্রেজিং, জনবল ঘাটতিপূরণ, প্রয়োজনীয় অর্থের যোগান, পরিকল্পিত ও টেকসই পরিবেশ বান্ধব ডাইকিং এর মাধ্যেমে অব্যাহত খনন কার্যক্রম ও পলি অপসারণ, সংশ্লিষ্ট জনগোষ্টির ক্ষতি প্রসমন ও স্বার্থ সংরক্ষণে গুরুত্বারোপ, বর্ষা মৌসুমে জল¯্রােত থেকে জনগোষ্ঠীকে রক্ষার জন্য পর্যাপ্ত এলাকা রক্ষা বাঁধ নির্মাণ, দূর্নীতি ও অপচয় রোধ।
এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে চ্যানেলটি স্থায়ীভাবে সচল করণের গ্যারান্টি নিশ্চিত না করতে পারলে বিপুর পরিমাণ সরকারি অর্থ সম্পূর্ণ জলে যেতে পারে বলে আশঙ্কা সচেতন মহলের।
বিআইডব্লিউটিএ এর সূত্র মতে জানা গেছে, গত ২১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ১৮৭.৮৩ লক্ষ ঘনমিটার ড্রেজিং কার্জক্রম সম্পন্ন খরা হয়েছে। এর মধ্যে বিআইডব্লিউটিএ ১২ টি ড্রেজার দিয়ে ৬৫.৪৬২ ঘনমিটার মাটি খনন করেছে।  বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ৬টি ডেজার ও  স্কেভেটর মেশিন দ্বারা ১২২.৩৬৯ ঘনমিটার মাটি খনন করা হয়।
এর মধ্যে উন্নয়নমূলক খনন হয়েছে ১১৯.৬৮ ঘনমিটার বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ড্রেজার দিয়ে খনন হয়েছে ৭৯.৫২ লক্ষ ঘনমিটার মাটি। ড্রেজিংকৃত অংশে পলি ভরাটের কারণে সংরক্ষণ খননের আওতায় সর্বমোট পুনঃখনন করা হয়েছে ৬৮.১৫২ লক্ষ ঘনমিটার। বর্তমানে বিআইডব্লিউটিএ এর একটি ড্রেজার ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ৭টি ড্রেজার খনন কাজে নিয়োজিত রয়েছে। সূত্র আরও জানায়, বর্তমানে প্রশস্থকরণ ও সংরক্ষণ খনন কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। গত ০৬/০৫/২০১৫ তারিখ থেকে চ্যানেলটি নৌ চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে। সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্য মতে ছোটবড় মিলিয়ে প্রায় ৫০ হাজার মালবাহী নৌযান চলাচল করেছে।
স্থানীয় মংলা-ঘষিয়াখালী চ্যানেল রক্ষা সংগ্রাম কমিটিসহ পরিবেশবাদী বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দের দাবি উপেক্ষিত রয়েছে বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
চ্যানেলটি খনন সম্পন্ন হলেও শাখা নদী ও শাখা খাল  সম্পূর্ণভাবে উন্মুক্ত করা সম্ভব হয়নি।
নদী ও খালগুলি অবৈধ দখলদারদের হাত থেকে দখলমুক্ত এবং পলি অপসারণ সম্পন্ন না হওয়ায় চ্যানেলটি আবারও হুমকির মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করে খনন কাজে নিয়োজিত সংশ্লিষ্ট মহলের প্রতি বারবার দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলেও গত ৩ বছরেও তা সম্পূর্ণভাবে বাস্তবায়িত হয়নি। এব্যাপারে রামপাল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাজিব কুমার রায়ের কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, পানি উন্নয়ন বোর্ডের আওতাধীন ৮৩ টি নদী খাল খনন ও টাইডাল বেসিন নির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগে কাজ চলছে। অবৈধ দখলদারদের দখলে থাকা খাল ও নদীর বাঁধ অপসারণ অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এব্যাপারে বিআইডব্লিউটিএ এর উপ-প্রধান প্রকৌশলী মোঃ ফরহাদ উজ্জামান এর কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, স্থানীয় মানুষের সার্বিক সহযোগিতায় মংলা-ঘষিয়াখালী চ্যানেলটি সচল সম্ভব হয়েছে।
চ্যানেলটি যাতে ফের নাব্যতা সংকটে না পড়ে এজন্য যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। পরিবেশবাদী সংগঠন সেভ দ্যা সুন্দরবন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব লায়ন ডক্টর শেখ ফরিদুল ইসলাম জানান, ফলপ্রসূভাবে চ্যানেলটি স্থায়ী সচল করণ হলে তা শ্যালাসহ সুন্দরবন সংলগ্ন নদীর উপর চাপ কমবে এবং সুন্দরবনের জীব বৈচিত্র সংরক্ষণে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ