ঢাকা, বৃহস্পতিবার 12 January 2017, ২৯ পৌষ ১৪২৩, ১৩ রবিউস সানি ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

জাল সার্টিফিকেটে ১২ বছর চাকরি করেও পার পেলেন শিক্ষক নজরুল

খুলনা অফিস : জালাল আহমেদ ওরফে মো. নজরুল ইসলাম সহকারী শিক্ষক হিসেবে খুলনা সদর থানা এলাকার বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দীর্ঘ ১২ বছর জাল সার্টিফিকেটে (ভাইয়ের সার্টিফিকেটে) চাকরি করেছেন। বিষয়টি ফাঁস হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করে সত্যতা পান। কিন্তু অভিযোগ প্রমাণের পরও সদর থানা শিক্ষা অফিসারের সহায়তায় ওই শিক্ষক চাকরি থেকে ইস্তফার সুযোগ পেয়ে যান। ফলে তার বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়নি কর্তৃপক্ষ।
এ ঘটনা ধামাচাপাসহ সদর থানা শিক্ষা অফিসার রীনা পারভীনের বিরুদ্ধে বেআইনীভাবে টাইম স্কেল প্রদান, ক্ষমতার অপব্যবহার, দায়িত্বে অবহেলা, দাপ্তরিক কাজে অসহযোগিতা ও সজনপ্রীতিসহ বিভিন্ন বিষয়ে সম্প্রতি প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর ও দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) পৃথকভাবে লিখিত অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ২০১৪ সালের ৯ মার্চ’র প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী প্রধান শিক্ষকগণ দ্বিতীয় শ্রেণির কর্মকর্তার পদমর্যাদা পান। সে মোতাবেক ওই তারিখের পরে প্রধান শিক্ষকগণ তাদের পূর্ব চাকরিকাল গণনা সাপেক্ষে কোন টাইম স্কেল পাবেন না। কিন্তু সদর থানা শিক্ষা অফিসার রীনা পারভীন বেআইনীভাবে প্রভাতী রেলওয়ে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. জাহাঙ্গীর আলম, বাগমারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক করবী পাল ও সোনাপোতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুলতানা ফাতিমা রহমানকে টাইম স্কেল প্রদান করেছেন। এছাড়া জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার কর্তৃক জনকল্যাণ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুলতানা নাজনীনকে নতুন বাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বদলির নির্দেশনা থাকলেও তিনি তা উপেক্ষা করেন। এছাড়া তিনি সুলতানা নাজনীনকে বৈশাখী ও মহার্ঘভাতা থেকে বঞ্চিত করাসহ অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন বলেও অভিযোগ করা হয়।
সদর থানা শিক্ষা অফিসার রীনা পারভীন বলেন, সব অভিযোগ অসত্য। তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। তবে জাল সার্টিফিকেটধারী সহকারী শিক্ষক জালাল আহমেদ ওরফে মো. নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়ার দায়িত্ব জেলা প্রাথমিক অফিসারের বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ