ঢাকা, বৃহস্পতিবার 12 January 2017, ২৯ পৌষ ১৪২৩, ১৩ রবিউস সানি ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

ধলা সরকারি আশ্রয় কেন্দ্র দুর্নীতির আখড়া

ত্রিশাল (ময়মনসিংহ) সংবাদদাতা: ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলার ধলায় অবস্থিত ধলা সরকারি ভবঘুরে আশ্রয় কেন্দ্রের ২হাজার কেজি মালামাল  কোন প্রকার টেন্ডার ছাড়াই রাতের অন্ধকারে বিক্রি করে দিয়েছে আবুল কাশেম নামের একজন শিক্ষক ও ঠিকাদার সিরাজ মিয়া। বিক্রিত মালামালের মধ্যে রয়েছে ৫০টি সিলিং ফ্যান,  ৪০টি তাঁত মেশিন, ১২০০কেজি রড, ৩৮২কেজি লোহার টিউবয়েলের পাইপ, ৬২৩ কেজি ডেউটিন, ৫টি পানির মর্টার। গত  রোববার গভীর রাতে এমন ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা ও আশ্রয় কেন্দ্রের অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা  সহকারী পরিচালক মির্জা নিজুয়ারা প্রায় ১০ মাসে দায়িত্বে নেয়ার পর থেকে এ চক্রটি আরও বেপরোয়া হয়ে উঠে। উপজেলা সমাজ সেবা অফিসের  এক শ্রেনীর অসাধু কর্মকর্তাকে ম্যানেজ করে দিনের পর দিনের আশ্রমে লুটপাট চালাচ্ছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, রোববার রাত আনুমানিক ২টার দিকে ত্রিশাল উপজেলার বালিপাড়া ইউনিয়নের ধলা সরকারি আশ্রয় কেন্দ্রের শিক্ষক আবুল কাশেম ও ঠিকাদার সিরাজ মিয়া   লোক চক্ষুর অন্তরালে রাতের আধারে বালিপাড়া বাজারের একজন ভাঙ্গারী ব্যবসায়ীর কাছে আশ্রয় কেন্দ্রের মূল্যবান মালামাল (২ হাজার কেজি) বিক্রি করেন। মালামাল গুলো ওজন করে দেন স্থানীয় মোহাম্মদ আলীর ছেলে জামাল। এ সময় আশ্রয় কেন্দ্রের নিরপত্তার দায়িত্বে ছিল আনছার ফজলুল হক।
স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরে একটি মহল সরকারি আশ্রয় কেন্দ্রের মালামাল লুটপাট করে আত্মসাৎ করে যাচ্ছে। শিশুকিশোর সহ বন্দীদের জন্য বরাদ্ধকৃত সকল ধরনের আসবাবপত্র,খাবারের টাকা, কারিগরি প্রশিক্ষণ সরঞ্জামাদি ক্রয়, পোশাক পরিচ্ছেদ, চিকিৎসা ভাতাসহ সবধরনের টাকা আত্মসাৎ করে একটি সিন্ডিকেট। উর্র্ধ্বতন কতৃপক্ষের অবহেলায় এ চক্রটি দীর্ঘদিন যাবৎ আশ্রমকেন্দ্র লুটে নিচ্ছে।  শিক্ষক আবুল কাশেম ইতোপূর্বেও আশ্রয় কেন্দ্রের সরকারি গাছ কেটে বিক্রির সময় মিলে হাতে নাতে ধরা পড়েন। পরে গাছগুলো আশ্রয় কেন্দ্রে আনা হলেও অদৃশ্য শক্তির বলে তাও উধাও হয়ে যায়।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক ব্যক্তি জানায়, ধলা সরকারি আশ্রয় কেন্দ্রের মালামাল বালিপাড়া বাজারের একজন ভাঙ্গারী ব্যবসায়ী ২ হাজার কেজি ক্রয় করেন। তবে শিক্ষক আবুল কাশেম বলেন, সামান্য কিছু ভাঙ্গারী মালামাল বিক্রি করা হয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, আশ্রয় কেন্দ্রটি রক্ষনাবেক্ষণের জন্য যারা দায়িত্ব নিয়ে আসেন তারাই পরবর্তীতে এটিকে নিজেদের ইচ্ছেমতো ব্যবহার করেন। মূলত উপজেলা সদর থেকে ২০কিলোমিটার দূরে ও প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণহীনতার কারণে পরিত্যক্ত জমিদার বাড়িতে স্থাপিত এই ভবঘুরে আশ্রয় কেন্দ্রের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে এটি লুটপাত করা হয়। অভিযোগ রয়েছে আশ্রিতদের  নিম্নমানের খাবার দেওয়া , পুকুরের মাছ বিক্রি করে টাকা আত্মসাৎ, অবাধে গাছ বিক্রি অনেক অভিযোগ রয়েছে এ আশ্রয় কেন্দ্রের কর্তাদের উপর।
অভিযুক্ত শিক্ষক আবুল কাশেম জানান, ভাঙ্গারীর কিছু মালামাল বিক্রি করা হয়েছে। অন্য কোন তথ্য দিতে তিনি অপাগতা প্রকাশ করে বলেন, আপনার তথ্যের প্রয়োজন হলে কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে জেনে নিন।
ধলা সরকারী আশ্রয় কেন্দ্রের সাবেক সদস্য আব্দুল বাতেন জানান, বিষয়টি আমি আজ সকালে শুনেছি এবং বর্তমান সদস্য রুহুল আমিন জানান, টেন্ডার ছাড়া সরকারি কোন জিনিস বিক্রি করার নিয়ম নেই। আমি যতটুকু জানি কোন টেন্ডার বা ওকশন হয়নি।
ধলা সরকারি ভবঘুরে আশ্রয় কেন্দ্রের সহকারী পরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) ও উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মির্জা নিজোয়ারা  এ ব্যাপারে কোন সংবাদ না করার অনুরোধ করেন।
তিনি বলেন, আমি জানতাম কিছু ভাঙ্গারী আছে, বিক্রি হয়েছে কিনা তা আমার জানা নেই। সরকারি মালামাল বিক্রির নিয়ম অনুযায়ীকোন ওকশন হয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি জানান, কোন ওকশন হয়নি। আমি খোঁজ নিব।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ