ঢাকা, বৃহস্পতিবার 12 January 2017, ২৯ পৌষ ১৪২৩, ১৩ রবিউস সানি ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

নির্বাচন কমিশন গঠনে আইন প্রণয়নের নির্দেশনা চেয়ে রিট

স্টাফ রিপোর্টার : নির্বাচন কমিশন (ইসি) গঠনে আইন প্রণয়নের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট করা হয়েছে। সংবিধানের বিধান অনুসারে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও নির্বাচন কমিশনার নিয়োগে আইন তৈরির নির্দেশনা কেন দেয়া হবে না- তার কারণ জানতে রুল চাওয়া হয়েছে রিট আবেদনে। রিটের বিবাদীরা হলেন- প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি), মন্ত্রিপরিষদ সচিব, আইন সচিব। গতকাল বুধবার সকালে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ড.ইউনুছ আলী আকন্দ এই রিটটি করেন।
বিচারপতি কাজী রেজা-উল হক ও বিচারপতি মোহাম্মদ উল্লাহ সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট ডিভিশন বেঞ্চে আগামী সপ্তাহে রিট আবেদনটি উপস্থাপন করা হতে পারে। 
আইনজীবী ইউনুছ আলী আকন্দ জানান, সংবিধানের ১১৮ অনুচ্ছেদে নির্বাচন কমিশন গঠন ও দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে সংবিধান ও আইনের অধীনে পরিচালিত হওয়ার কথা বলা থাকলেও এখন পর্যন্ত আইন প্রণয়ন করা হয়নি। একটি গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান সংবিধানের বিধানের বাইরে চলতে পারে না। এজন্য আইন প্রণয়নের নির্দেশনা চেয়ে রিট করা হয়েছে।
সংবিধানের ১১৮ (১) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং অনধিক চার জন নির্বাচন কমিশনারকে নিয়ে একটি নির্বাচন কমিশন থাকবে এবং এ বিষয়ে প্রণীত কোন আইনের বিধানাবলী সাপেক্ষে রাষ্ট্রপতি প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনারকে নিয়োগ দেবেন।
১১৮ (৪) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, নির্বাচন কমিশন দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে স্বাধীন থাকিবেন এবং কেবল এই সংবিধান ও আইনের অধীন হবেন।
১১৮ (৫) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, সংসদ কর্তৃক প্রণীত যে কোনো আইনের বিধানাবলী সাপেক্ষে নির্বাচন কমিশনারদের কাজের শর্ত রাষ্ট্রপতি আদেশের মাধ্যমে নির্ধারণ করে দেবেন। তবে শর্ত হল, সুপ্রিম কোর্টের একজন বিচারককে যে পদ্ধতি ও কারণে অপসারণ করা যায়, তেমন পদ্ধতি ও কারণ ছাড়া কোনো নির্বাচন কমিশনারকে অপসারণ করা যাবে না।
আগামী ফেব্রুয়ারিতে কাজী রকিবউদ্দিন আহমেদের নেতৃত্বে বর্তমান নির্বাচন কমিশনের মেয়াদ শেষ হবে। এর আগেই নতুন কমিশন নিয়োগ দেবেন রাষ্ট্রপতি। তিনি যে কমিশন নিয়োগ দেবেন তার অধীনেই আগামী সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এ কারণে এই কমিশনে কে আসবে এ নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে নানা আগাম প্রতিক্রিয়া আছে। নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন করতে ইতোমধ্যে রাষ্ট্রপতি রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করেছেন। গতকাল ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সঙ্গে আলোচনার মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে রাষ্ট্রপতির সংলাপ।
এখন পর্যন্ত যেসব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে রাষ্ট্রপতি সংলাপ করেছেন তাদের মধ্যে বিএনপি ছাড়া প্রায় সব কটি দল নির্বাচন কমিশন গঠন নিয়ে আইন করার পর নিয়োগ নিয়ে সিদ্ধান্ত নেয়ার পরামর্শ দিয়েছে। এসব দলের মধ্যে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের দুই শরিক জাসদ এবং বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টিও আছে। আইনমন্ত্রী আনিসুল হক জানিয়েছেন, এ বিষয়ে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের নির্দেশনার অপেক্ষায় আছেন তারা। রাষ্ট্রপতি যেভাবে চাইবেন, সেভাবেই সরকার কাজ করবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
সংবিধানের ১১৮ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী নির্বাচন কমিশনে নিয়োগ চূড়ান্ত করবেন রাষ্ট্রপতি। তবে অন্য অনুচ্ছেদ অনুযায়ী এই সিদ্ধান্ত নিতে তিনি স্বাধীন নন। তিনি প্রধানমন্ত্রী পরামর্শ মেনে চলতে বাধ্য।
এরআগে গত বছরের ২১ নবেম্বর নির্বাচন কমিশন গঠনে আইন প্রণয়ন করার নির্দেশনা দিয়ে লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়। কিন্তু বেঁধে দেয়া সময়ে নোটিসের জবাব না দেয়াই এই রিট করা হয়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ