ঢাকা, বৃহস্পতিবার 12 January 2017, ২৯ পৌষ ১৪২৩, ১৩ রবিউস সানি ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

কর্মদিবসে দিনের বেলায় গুলিস্তানে হকাররা নিষিদ্ধ ॥ বসবে শুধু সন্ধ্যার পর

স্টাফ রিপোর্টার : গুলিস্তান ও আশপাশের এলাকার রাস্তা ও ফুটপাতে আগামী রোববার থেকে কর্মদিবসগুলোতে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার আগে কোনো হকার বসতে দেয়া হবে না বলে জানিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র সাঈদ খোকন। গতকাল বুধবার নগর ভবন মিলনায়তনে হকার সমিতির নেতা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে এক বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয় বলে জানান তিনি। তিনি বলেন, নগরবাসীর যাতায়াত সহজ ও নির্বিঘœ করতে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
গতকালের সভা ছিল হকার্স পুনর্বাসন ও হলিডে মার্কেট চালু প্রসঙ্গে। সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা খান মোহাম্মদ বিলাল, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব আবদুল ওহাব ভূইয়া, ডিএমপির ডিসি মফিজ আহমেদ, প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা কামরুল ইসলাম চৌধুরী, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা এম কে বখতিয়ার প্রমুখ।
মেয়র বলেন, “সাপ্তাহিক কর্মদিবসে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার আগে আমরা কাউকে ফুটপাত ও সড়কে বসতে দেব না। সড়কে যানবাহন ও পথচারী চলাচলে কোনো প্রতিবন্ধকতা তৈরি করতে দেয়া হবে না।” “আমাদের এ কর্মসূচির আওতায় গুলিস্তান, মতিঝিল, পল্টন, জিরো পয়েন্ট, বায়তুল মোকাররম এলাকার ফুটপাত ও সড়ক থাকবে। আগামী রোববার থেকে কার্যকর করার সর্বাত্মক চেষ্টা করা হবে। এ ব্যাপারে আমাদের ম্যাজিস্ট্রেটরা কাজ করবেন। এ কাজে ঢাকা মহানগর পুলিশ সর্বাত্মক সহযোগিতা করবেন।” তবে সাপ্তাহিক ছুটির দিন হকাররা বসতে পারবেন বলে জানান তিনি।
মেয়র খোকন বলেন, আগামী রোববার থেকে দিনের বেলা সড়কে কেউ পণ্য নিয়ে বসলে, তাঁর বিরুদ্ধে সিটি করপোরেশনের ম্যাজিস্ট্রেট ঢাকা মহানগর পুলিশের সহায়তায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করবেন। মেয়র বলেন, ‘যাঁরা তালিকাভুক্ত হকার, তাঁরা যদি পেশা পরিবর্তন করে চাকরি বা বিদেশ যেতে চান, তাঁরা আমাদের কাছে আবেদন করতে পারেন। সরকার বা প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে ব্যবস্থা নেব।’
সভায় হকারদের আগে পুনর্বাসন করে পরে উচ্ছেদ বা অন্য সিদ্ধান্ত নেয়ার দাবি জানিয়েছেন হকার নেতারা।
হকারদের পুনর্বাসনে সিটি করপোরেশন সহায়তা করবে বলেও জানান মেয়র।“কেউ বিদেশ যেতে চাইলে সিটি করপোরেশনে আবেদন করতে হবে। প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করে সে বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়া হবে।“বিদেশ যাওয়ার জন্য বিভিন্ন রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক থেকে ঋণ নিতে সহায়তা করবে সিটি করপোরেশন। যেখানেই সুযোগ হবে, আমরা চাই তারা নিজেরা নিজেদের কর্মসংস্থান করবে।”
সভার শুরুতে হকার নেতাদের উদ্দেশ্য করে সাঈদ খোকন বলেন, “রাস্তা ও ফুটপাতে পথচারী চলাচল নির্বিঘ্ন করতে উচ্চ আদালতের নির্দেশ আছে। তাই সড়ক ও ফুটপাত থেকে হকার উচ্ছেদ করতেই হবে।”
সভায় হলিডে মার্কেট নিয়ে আলোচনা করা কথা থাকলেও সে বিষয়ে হকার্স নেতারা কিছু বলেননি। তবে তারা পুনর্বাসন না করে উচ্ছেদ না করা এবং হকারদের পরিচয়পত্র দেয়ার দাবি জানান।
কোনো নিয়ম না থাকায় রাজধানীতে হকার বাড়ছে বলে সভায় অভিযোগ করেন বাংলাদেশ জাতীয় হকার্স ফেডারেশনের সভাপতি আরিফ চৌধুরী। তিনি বলেন, “সিটি করপোরেশন এবং ট্রাফিক পুলিশের সমন্বয়ে একটি কমিটি গঠন করতে হবে। এ কমিটির কাছ থেকে টোকেন নিয়ে ফুটপাতে বসবেন এবং একটি নির্দিষ্ট  সময় পর উঠে যাবেন। আর কার্ড থাকলে বাইরের কেউ হকার সেজে বসতে পারবে না।”
বাংলাদেশ হকার্স ফেডারেশনের সভাপতি এম এ কাশেম অভিযোগ করেন, প্রশাসনের লোকজন ‘লাইনম্যানদের দিয়ে হকারদের কাছ থেকে চাঁদা আদায় করছে। লাইনম্যানদের কারণে ফুটপাতে শৃঙ্খলা আসছে না। “একেকটি এলাকায় ১০০ জন হকারের জন্য একজন করে লাইনম্যান বসিয়ে দেন। তারা প্রশাসনের নামে চাঁদা আদায় করে। এসব লাইনম্যানরাই হকারদের হলিডে মার্কেটে যেতে বাধা দিচ্ছে। তারা কারা এখন বলতে চাইনা। তালিকা আছে তা মেয়রের কাছে জমা দিব।”
চাঁদাবাজদের দৌরাত্ম বন্ধ করা হবে জানিয়ে মেয়র বলেন, “আমাদের কাছে তালিকা আছে, তালিকা অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। এটা বাস্তবায়ন করবে ঢাকা মহানগর পুলিশ।”
ফুটপাত থেকে হকার তুলে দিলে লাইনম্যান এমনিতেই উঠে যাবে বলে দাবি করেন ঢাকা মহানগর পুলিশের উপ-কমিশনার (ট্রাফিক) মো. মফিজ উদ্দিন আহমেদ। লাইনম্যানদের বিরুদ্ধে প্রায় প্রতিদিনই ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। আমরা একজনকে উঠাই, আরেকজন এসে বসে। তবে ফুটপাত থেকে হকার তুলে দিলে এসব লাইনম্যানের ব্যাপারও আর থাকবে না। রাস্তা ও ফুটপাত থেকে হকার পুরোপুরি তুলে দিতে পারলে ভালো। যদি রাখতেই হয় তাহলে মূল সড়কে না বসিয়ে আশপাশের কম গুরুত্বপূর্ণ সড়কে তাদের বসতে দেয়া যেতে পারে।
ঢাকা দক্ষিণে পাঁচ থেকে ছয় লাখ হকার রয়েছেন উল্লেখ করে বাংলাদেশ জাতীয় হকার্স লীগের সভাপতি মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম বলেন, ‘আমরাও চাই রাস্তায় কোনো হকার থাকবে না। কিন্তু রাস্তার বাইরে যে জায়গাটা আছে, সেখানে কিছু স্থান দিতে হবে। ...আগে হকার পুনর্বাসন করেন। এরপর উচ্ছেদ।’
সভায় লাইনম্যানদের প্রসঙ্গে মেয়র বলেন, লাইনম্যান নামধারীরা আসলেই চাঁদাবাজ। হকার নেতাদের তালিকা অনুযায়ী এ চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। হকারদের আইডি কার্ডের একটি প্রস্তাব এসেছে, সেটা চালু করা যায়।
বাংলাদেশ হকার্স ফেডারেশনের সভাপতি এম এ কাশেম লাইনম্যানদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার অনুরোধ জানান।
সপ্তাহে এক দিন হলিডে মার্কেট নির্ধারণ করা হয়েছে। সপ্তাহে এক দিন ব্যবসা দিয়ে তো সাত দিন চলবে না,এমন প্রশ্ন উঠলে মেয়র বলেন, শুক্রবারের পাশাপাশি শনিবারও হলিডে মার্কেট চালু করা যায়। এ ক্ষেত্রে শনিবার যেসব এলাকায় অফিস-আদালত ছুটি, সেসব এলাকায় হলিডে মার্কেট চালু করা যেতে পারে।
জাতীয় হকার্স ফেডারেশনের সভাপতি আরীফ চৌধুরী বলেন, হকারদের পুনর্বাসন করতে হবে। হলিডে মার্কেটে গেলে তাঁরা ফুটপাতে বসতে পারবেন কি না, এ নিয়ে হকারদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ