ঢাকা, বৃহস্পতিবার 12 January 2017, ২৯ পৌষ ১৪২৩, ১৩ রবিউস সানি ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

ভারতীয় তিন টেলিভিশন চ্যানেল বন্ধে রুলের শুনানি ১৯ জানুয়ারি পর্যন্ত মুলতবি

স্টাফ রিপোর্টার : বাংলাদেশে ভারতীয় তিনটি টিভি চ্যানেল স্টার জলসা, স্টার প্লাস ও জি বাংলার সম্প্রচার বন্ধে জারি করা রুলের শুনানি আগামী ১৯ জানুয়ারি পর্যন্ত মুলতবি করেছেন হাইকোর্ট। এদিকে তিনটি চ্যানেলেল পক্ষে আইনজীবী নিয়োগ হয়েছে রুলের শুনানিতে অংশ নিতে।
গতকার বুধবার বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি জে বি এম হাসান সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট ডিভিশন বেঞ্চ শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।
আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী একলাছ উদ্দিন ভূঁইয়া। সরকার পক্ষে ছিলেন ডেপুটি এটর্নি জেনারেল মোতাহার হোসেন সাজু।
আইনজীবী একলাছ উদ্দিন ভূঁইয়া বলেন, আদালত পরবর্তী শুনানির জন্য ১৯ জানুয়ারি দিন ধার্য করেছেন। এর আগে গত ৮, ৯ ও ১০ জানুয়ারি তিন কার্যদিবস রুলের ওপর শুনানি করেন তিনি।
স্টার জলসা ও স্টার প্লাসের বাংলাদেশের পরিবেশনকারী প্রতিষ্ঠান ডিজি জাদু বব্রব্যান্ড লিমিটেডের পক্ষে রুলের শুনানিতে অংশ নেন আইনজীবী ও সরকার দলীয় সংসদ সদস্য আব্দুল মতিন খসরু। এছাড়া জি বাংলার বাংলাদেশের পরিবেশনকারী প্রতিষ্ঠান ন্যাশন ওয়াইড মিডিয়া লিমিটেডের পক্ষে রুল শুনানিতে রয়েছেন ব্যারিস্টার সামসুল হাসান।
এ বিষয়ে ব্যারিস্টার সামসুল হাসান জানান, জি বাংলার বাংলাদেশের পরিবেশনকারী প্রতিষ্ঠান ন্যাশন ওয়াইড মিডিয়া লিমিটেডের পক্ষে রুল শুনানিতে পক্ষভুক্ত আমাদের আবেদন আদালত গ্রহণ করেছেন।
২০১৪ সালের ১৯ অক্টোবর এ রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি শেষে ভারতীয় এ তিন টিভি চ্যানেল বন্ধে নির্দেশ কেন দেয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি মো. আশরাফুল কামাল সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট ডিভিশন বেঞ্চ। সরকারের তথ্য সচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব, বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ টেলিভিশনের মহাপরিচালক, পুলিশের আইজি এবং ডিজি জাদু ব্রডব্যান্ড লিমিটেডের চেয়ারম্যানকে চার সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়।
সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী শাহীন আরা লাইলী ২০১৭৪ সালের ৭ আগস্ট ভারতীয় তিন টিভি চ্যানেলের সম্প্রচার বন্ধের নির্দেশনা চেয়ে রিট আবেদনটি করেন। পরবর্তীতে ২৬ আগস্ট বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ ও বিচারপতি আবু তাহের মো. সাইফুর রহমান সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের অবকাশকালীন বেঞ্চ উত্থাপিত হয়নি মর্মে আবেদনটি খারিজ করেেেদন। এরপর আবার নতুন করে আবেদনটি করা হয়।
এডভোকেট একলাছ উদ্দিন ভূঁইয়া বলেন, ভারতে বাংলাদেশের কোনো টিভি চ্যানেল প্রচার হয় না। অথচ বাংলাদেশে ভারতীয় টিভি চ্যানেলের অবাধ সম্প্রচারের ফলে যুব সমাজ ধংসের সম্মুখীন। সর্বশেষ তাদের একটি টিভি চ্যানেল স্টার জলসার ‘বোঝেনা সে বোঝেনা’ সিরিয়ালের পাখি চরিত্রের নামে পোশাক কিনতে না পেরে বাংলাদেশে অনেকে আত্মহত্যা করেছে।
তিনি জানান, ভারতীয় বিভিন্ন চ্যানেল বাংলাদেশে দেখানো হলেও ভারতে বাংলাদেশের কোনো চ্যানেল দেখানো হয় না। অন্যদিকে ভারতের টিভি চ্যানেলগুলো বাংলাদেশে অবাধে সম্প্রচার হচ্ছে। এসব চ্যানেলে অপসংস্কৃতি, বাংলাদেশের সাংস্কৃৃতিক ও সামাজিক জীবনে বিরূপ প্রভাব ফেলছে। ফলে দেশের যুব সমাজ ধ্বংসের সম্মুখীন।  তিনি জানান, স্টার জলসায় ‘বোঝে না সে বোঝে না’ সিরিয়ালে পাখি চরিত্রে অভিনয়কারীর পোশাকে (পাখি ড্রেস) আকৃষ্ট হয়ে কিনতে না পেরে বাংলাদেশে একাধিক কিশোরী আত্মহত্যা করেছে। সংবিধানের ২১ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, বিবাদীদের দায়িত্ব হচ্ছে জনগণকে রক্ষা করা এবং প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ নেয়া। আইনগত কারণে তারা পদক্ষেপ গ্রহণে বাধ্য। যেখানে বলা হয়েছে, ‘(১) সংবিধান ও আইন মান্য করা, শৃঙ্খলা রক্ষা করা, নাগরিক দায়িত্ব পালন করা এবং জাতীয় সম্পত্তি রক্ষা করা প্রত্যেক নাগরিকের কর্তব্য। (২) সকল সময়ে জনগণের সেবা করার চেষ্টা করা প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিযুক্ত প্রত্যেক ব্যক্তির কর্তব্য ৷ এক্ষেত্রে বিবাদীরা দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হচ্ছেন। এটি সংবিধানের লঙ্ঘন।
এর আগে ২০১৪ সালের ৩ আগস্ট ভারতীয় চ্যানেল বন্ধ করতে তথ্য সচিবকে লিগ্যাল নোটিশ দেন আইনজীবী। নোটিশের জবাব না পেয়ে হাইকোর্টে রিট করা হয়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ