ঢাকা, বৃহস্পতিবার 12 January 2017, ২৯ পৌষ ১৪২৩, ১৩ রবিউস সানি ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

লাইটার ভেসেল বার্জ-কার্গো সংকটে মংলা বন্দরে পণ্য খালাস ব্যাহত

খুলনা অফিস : মংলা বন্দরে আগত বাণিজ্যিক জাহাজের পণ্য খালাসে তীব্র প্লেসমেন্ট (লাইটার ভেসেল বার্জ কার্গো) সংকট দেখা দিয়েছে। নির্ধারিত সময় প্লেসমেন্ট না পাওয়ায় বন্দরে আগত পণ্যবাহী জাহাজের পণ্য খালাসে বিলম্ব হচ্ছে। সময়মত পণ্য খালাস করে জাহাজগুলো বন্দর ত্যাগ করতে না পারায় একদিকে বন্দরের ভাবমূর্তি ক্ষুণœ হচ্ছে এবং অপরদিকে বিদেশী জাহাজ মালিকদেরকে অতিরিক্ত ভাড়া বাবদ হাজার হাজার ডলার পরিশোধ করতে হচ্ছে। অতিরিক্ত সময় জাহাজ বন্দরে অবস্থান করার কারণে পরিশোধ করা ভাড়া পণ্যের উপর বর্তানোর ফলে আমদানী করা পণ্যের মূল্য বাজারে বৃদ্ধি পাচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, মংলা বন্দরে আগত পণ্যবাহী জাহাজের পণ্য খালাসে বার্জ-কার্গোর তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। ভয়েজ (খেপ) বা টাইম চার্টার (সময়) চুক্তিতে বিদেশ থেকে পণ্য আমদানির পর বার্জ কার্গো সংকটে তা নির্ধারিত সময় মংলা বন্দরে খালাস হচ্ছে না। সময় বা খেপ চুক্তির সময়সীমা শেষ হওয়ার পর ওই সকল জাহাজের ক্ষেত্রে চুক্তি বাদে প্রতি দিনের জন্য জাহাজের ভাড়া বাবদ ১০ থেকে ১৫ হাজার ডলার পে (ভাড়া পরিশোধ) করতে হচ্ছে। খেপ বা সময় চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর পরিশোধ করা ডলার আমদানী পণ্যের সাথে যোগ হচ্ছে। এর ফলে পণ্যের মূল্যও বর্ধিত পাচ্ছে। আর এ সব বৃদ্ধি মূল্য ভোক্তাদেরই গুণতে হচ্ছে।
মংলা বন্দরে আমদানি করা পণ্য পরিবহনে বার্জ কার্গোর সংকটের কারণ সম্পর্কে জানা গেছে, ৯০ দশকের পর বন্দরের দুরাবস্থা চলছিল। ওই সময় মংলা বন্দর লোকসানী বন্দর হিসাবে দুর্নাম ছড়িয়ে পড়ে। গত ২০০১-০২ সালে ৮/১০ দিনেও বন্দরে একটি পণ্যবাহী জাহাজ ভিড়েনি বলে বন্দরের হারবার বিভাগ সূত্রে জানা যায়। তখন এ অঞ্চলের বার্জ-কার্গো মালিকদের ব্যবসা খুব খারাপ যাচ্ছিল। তবে ওই সময় বাজারে স্ক্র্যাপের (লোহার) মূল্য ঊর্ধ্বগতি থাকায় তখন এ অঞ্চলের বেশ কিছু বার্জ-ফ্লাট ও কার্গো স্ক্র্যাপ হিসাবে বিক্রি করা হয়। ওই অবস্থায় ৫/৭ বছর ঝিমিয়ে ঝিমিয়ে মংলা বন্দরের কার্যক্রম চলে। গত ২০০৯ইং সাল থেকে মংলা বন্দরে ক্ষমতাসীন সরকারের আমলে ব্যবসা-বাণিজ্যে গতি ফিরে আসে। বন্দরে জাহাজ আগমণের ধারাবাহিকতা ক্রমান্বয়ে বাড়তে থাকে। বর্তমানে বন্দরে কোন কোন দিন ৫/৬টি পণ্যবাহী জাহাজের আগমণ ঘটছে। বন্দরের বারথিং (জাহাজ আগমণ তালিকা) তালিকা থেকে জানা গেছে, বর্তমান সময় কোন কোন দিন বন্দরে একই সাথে ২০/২২টি জাহাজ পণ্য নিয়ে অবস্থান করছে। গতকাল বুধবার পর্যন্ত বন্দরে ১৯টি জাহাজ অবস্থান করছে। এখন অবস্থান করা ওই সকল জাহাজের পণ্য পরিবহনের জন্য লাইটার বার্জ-কার্গোর চরম সংকট দেখা দিয়েছে। বন্দরের পণ্য পরিবহনে লাইটার বার্জ কার্গো সংকট থাকা সত্ত্বেও ভারত থেকে ফ্লাইএ্যাস (ছাই) আনার জন্য এ বন্দর দিয়ে আরো শ’দুয়েক লাইটার ভেসেল নিয়োজিত থাকায় এর সংকটের তীব্রতা আরো বেড়েছে।
এদিকে বিদেশ থেকে খেপ বা টাইম চুক্তিতে ভাড়া করা পণ্য বোঝাই জাহাজসমূহ মংলা বন্দরে এসে লাইটার কার্গো সংকটে সময়মত পণ্য খালাসে ব্যর্থ হচ্ছে। লাইটারের অভাবে পণ্য খালাসে ব্যর্থ জাহাজ মালিককে এ দেশীয় পণ্য আমদানিকারকরা চুক্তি অনুযায়ী অতিরিক্ত সময়ে জাহাজগুলো বন্দরে অবস্থানের কারণে প্রতিদিন প্রতি জাহাজের জন্য ১০ থেকে ১৫ হাজার ডলার গচ্চা দিতে হচ্ছে।
হাজার হাজার ডলার এ সব গচ্চার অর্থ এ দেশের রিজার্ভ তহবিল থেকে বিনিময় করে পরিশোধ করতে হচ্ছে বলে জানান মংলা বন্দরের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও মেসার্স নূরু এন্ড সন্সের স্বত্বাধিকারী হোসাইন মোহাম্মদ দুলাল।
তিনি আরো জানান, তার কোম্পানীরই ৪টি জাহাজ গম, কয়লা ও সার নিয়ে বন্দরে অবস্থান করছে। লাইটার কার্গো সংকটে তা সময় মত খালাস ব্যাহত হচ্ছে। এ ব্যবসায়ী সরকারের কাছে আরো দাবি করেন মংলা বন্দরে আমদানী করা পণ্য নিরবচ্ছিন্নভাবে খালাসের জন্য আরো প্রয়োজন মতো লাইটার কার্গো ভেসেল নির্মাণে বেসরকারিভাবে সরকার যেন অনুমতি দেন।
মংলা বন্দরে আমদানি করা পণ্য খালাসে লাইটার কার্গো ভেসেল সংকটের কারণ নিয়ে খুলনা বিভাগীয় অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন মালিক গ্রুপ এসোসিয়েশনের আহ্বায়ক অহিদুজ্জামান পল্টু বলেন, বিগত বছরগুলোতে অন্য বিভাগের লাইটার ভেসেল মংলা বন্দরে এসে পণ্য পরিবহনে বাধ্যবাধকতা ছিল। বর্তমানে তা নেই। মংলা বন্দরকে সচল রাখার স্বার্থে মাসখানেক পূর্বে ওই নিয়ম শিথিল করা হয়েছে। তিনি বলেন, বন্দর থেকে পণ্য নিয়ে যশোরের নওয়াপাড়া, ফুলতলা, শিরোমনি ও খুলনার ৪নং ঘাটে প্রায় দুই শতাধিক লাইটার কার্গো পণ্য খালাসের অপেক্ষায় আছে। ট্রাক ও দক্ষ লেবার সংকটে সময়মত ওই সকল কার্গো বার্জ খালাস হয়ে ফিরে না আসাও মংলা বন্দরে লাইটার সংকটের একটি কারণ।
এ ব্যাপারে মংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান কমোডর ফারুক হাসান বিএন বলেন, তিনি এ বিষয়ে কার্গো-বার্জ মালিক গ্রুপের খুলনার নেতাদের সাথে কথা বলেছেন। তারা তাকে বলেছেন মংলা বন্দরের পণ্য খালাস স্বাভাবিক রাখতে মালিক গ্রুপ প্রয়োজনীয় লাইটার কার্গো-বার্জ সরবরাহ অব্যাহত রাখবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ