ঢাকা, বৃহস্পতিবার 12 January 2017, ২৯ পৌষ ১৪২৩, ১৩ রবিউস সানি ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

কাল থেকে শুরু হচ্ছে তাবলীগের ৫২তম ইজতিমা

গাযী খলিলুর রহমান, টঙ্গী থেকে : টঙ্গীতে বিশ্ব ইজতিমার সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। বিশ্ব ইজতিমা অনুষ্ঠানের জন্য টঙ্গী এখন পুরোপুরি প্রস্তুত। কাল শুক্রবার থেকে আ’ম বয়ানের মধ্য দিয়ে শুরু হচ্ছে তাবলীগ জামাতের প্রথম পর্বের ৩ দিনব্যাপী বিশ্ব ইজতিমা। বিশ্ব ইজতিমা ময়দানে বুধবার থেকে মুসল্লীরা দলে দলে আসতে শুরু করেছেন। রবিবার আখেরী মোনাজাতের মধ্য দিয়ে শেষ হবে প্রথম পর্বের বিশ্ব ইজতিমা। চারদিন বিরতি দিয়ে দ্বিতীয় পর্ব শুরু হবে ২০ জানুয়ারি শুক্রবার থেকে। ২২ জানুয়ারি রবিবার আখেরী মোনাজাতের মধ্যে দিয়ে সমাপ্তি ঘটবে ২০১৭ সালের বিশ্ব ইজতিমা। টঙ্গীর এই বিশ্ব ইজতিমা ময়দানে এটি হবে ৫২তম বিশ্ব ইজতিমা। মুসল্লীদের চাপ কমাতে ২০১১ সাল থেকে দুই পর্বে বিশ্ব ইজতিমা অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। দেশের ৬৪ জেলাকে ৪ ভাগে ভাগ করে এ বছর প্রথম পর্বে ১৬ জেলা, দ্বিতীয় পর্বে ১৬ জেলার মুসল্লীরা অংশগ্রহণ করবেন। বাকী ৩২ জেলার মুসল্লীরা আগামী ২০১৮ সালের বিশ্ব ইজতিমায় অংশগ্রহণ করবেন।

দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলসহ দেশ বিদেশের লাখ লাখ ধর্মপ্রাণ তাবলীগ অনুসারী মুসল্লী বিশ্ব ইজতিমায় অংশগ্রহণ করবেন বলে আশা করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে ইজতিমার মুসল্লীদের নিরাপত্তায় ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে র‌্যাব, পুলিশ, আনসার ও বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা সংস্থার সদসদের নিয়ে।

গাজীপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আলহাজ্ব এড. আ.ক.ম মোজাম্মেল হক এমপি, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও স্থানীয় সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মোঃ জাহিদ আহসান রাসেল ও গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের ভারপ্রাপ্ত মেয়র আসাদুর রহমান কিরন বিশ্ব ইজতিমার সর্বশেষ প্রস্তুতি পরিদর্শন করেন। 

ইতোমধ্যে সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ার ব্রিগেডের সদস্যরা তুরাগ নদীর ওপর ৭টি স্থানে ভাসমান সেতু নির্মাণের কাজ সমাপ্ত করেছে। এবছর ২০১৭ সালের ৫২তম ইজতিমার দুই পর্বে অংশ নেয়া ৩২ জেলাগুলো হলো- ময়মনসিংহ, কিশোরগঞ্জ, গাজীপুর, মানিকগঞ্জ, টাঙ্গাইল, মুন্সিগঞ্জ, গোপলগঞ্জ, রাজবাড়ী, শরীয়তপুর, পাবনা, কুষ্টিয়া, সৈয়দপুর, রংপুর, লালমনিরহাট, দিনাজপুর, জয়পুরহাট, নওগাঁ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, মেহেরপুর, যশোর, বাগেরহাট, কক্সবাজার, বান্দরবান, রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি, নোয়াখালি, বরিশাল চাঁদপুর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার ও সাতক্ষীরা।

আগামী ১৩ থেকে ১৫ এবং মাঝে ৪দিন বিরতি দিয়ে ২০ থেকে ২২ জানুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য দুই পর্বের বিশ্ব ইজতিমা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার জন্য প্রশাসনের বিভিন্ন সংস্থার পক্ষ থেকে বিভিন্ন কর্মসূচী নিয়েছে। এবারও ৫ স্তরের র‌্যাব-পুলিশের বিশেষ নিরাপত্তার চাদরে ঢাকা থাকবে পুরো ইজতিমা ময়দান ও আশপাশের এলাকা। ইজতিমায় আগত মুসল্লীদের চিকিৎসা সেবায় ১৪টি অ্যাম্বুলেন্স সার্বক্ষণিক প্রস্তুতি থাকবে। মুসলীøদের চিকিৎসার জন্য পর্যাপ্ত সংখ্যক চিকিৎসক ও ওষুধের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। ইজতিমা ময়দানের পশ্চিমে তুরাগ নদীর ওপর ৭টি পন্টুন ব্রিজ তৈরি করে সেনাবাহিনী, ইজতিমায় আগতদের তিন স্তরে নিরাপত্তা দেবে র‌্যাব। এ ছাড়া মোটরসাইকেল টহল, নৌ টহল ও হেলিকপ্টারে টহলে থাকবে র‌্যাব সদস্যরা। বিপুল সংখ্যক র‌্যাব ও আইনশৃংখলা বাহিনীর সদস্য সাদা পোশাকে পুরো ইজতিমা ময়দানে অবস্থান করবেন। র‌্যাবের ৯টি পর্যবেক্ষণ টাওয়ার থেকে ইজতিমা ময়দানকে পর্যবেক্ষণে রাখা হবে।

ইজতিমার মোনাজাতের দিন ১১৫টি ট্রেন যাত্রাবিরতি করবে টঙ্গী স্টেশনে। মুসল্লীর জন্য ওজু, বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ, অতিরিক্ত টিকিট কাউন্টার ও ভ্রাম্যমাণ টিকিট বিক্রি করা হবে। বিআরটিসির ৩৫০টি বাস মুসল্লীদের যাতায়াতের জন্য প্রস্তুত থাকবে। এ ছাড়া বিদেশী মেহমানদের কাকরাইল মসজিদ এবং বিমানবন্দর থেকে ইজতিমা ময়দানে আনার জন্য পর্যাপ্ত এসি বাস বরাদ্দ থাকবে। ইজতিমা ময়দানের বিদেশী নিবাসে প্রশাসনের পক্ষ থেকে এবার নতুন একটি কন্ট্রোল রুম স্থাপন করা হবে।

ইজতিমার আগের দিন থেকে ইজতিমা শেষ হওয়ার পর দিন পর্যন্ত পুলিশ মুসল্লিদের নিরাপত্তায় নিয়োজিত থাকবে। ৫ স্তরের নিরাপত্তা পার হয়ে ইজতিমা ময়দানে প্রবেশ করতে হবে সবাইকে। এ ছাড়া ইজতিমা শুরুর আগে ২০টি মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে ইজতিমা ময়দানের আশপাশে অবৈধ দোকানপাট উচ্ছেদ, বিলবোর্ড ও ময়লা-আবর্জনা অপসারণ করা হবে। যানজট নিয়ন্ত্রণে ট্রাফিক পুলিশ ও কমিউনিটি পুলিশ সার্বক্ষণিক কাজ করবে। এছাড়াও বিশুদ্ধ খাবার নিশ্চিত, বিদ্যুৎ, টেলিফোন, গ্যাস, চিকিৎসাসেবা বাস্তবায়ন এবং সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসন ও পুলিশসহ বিভিন্ন দপ্তরের পক্ষ থেকে ব্যাপক প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। 

গাজীপুর জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ জানান, ইজতিমা ময়দানে মুসল্লীদের নিরাপত্তায় সার্বিক প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। বুধবার থেকে ৭ হাজার ৭শ’ পুলিশ সদস্য ২৪ঘন্টা মুসল্লীদের নিরাপত্তাদানে নিয়োজিত থাকবে। এছাড়াও সাদা পোষাকে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার পর্যাপ্ত সদস্য নিরাপত্তার কাজে নিয়োজিত থাকবে।

গাজীপুর জেলা তথ্য কর্মকর্তা জানান, কাল শুক্রবার ১৫ জানুয়ারি গাজীপুরের চান্দনা চৌরাস্তা থেকে টঙ্গী পর্যন্ত ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে বৃহত্তর জেলাগুলোর ঢাকাগামী যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকবে। এছাড়া দুই পর্বের আখেরি মোনাজাতের দিন গাজীপুরে বিভিন্ন সড়কেও যান চলাচল বন্ধ থাকবে। 

ইজতিমায় দুই ধাপের আখেরি মোনাজাতের ১৫জানুয়ারি ও ২২ জানুযারি দিন সকাল ৬টা থেকে গাজীপুরের কালীগঞ্জ-টঙ্গী মহাসড়কের মাঝুখান ব্রিজ থেকে স্টেশনরোড ওভারব্রিজ পর্যন্ত সড়ক পথে যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকবে। টঙ্গীর কামারপাড়া ব্রিজ থেকে মুন্নু টেক্সটাইল মিল গেট পর্যন্ত সড়ক পথেও থাকবে একই নির্দেশনা।

এদিকে পন্টুন ব্রিজ নির্মাণ ও মুসল্লীদের চলাচলের সুবিধার্থে কামারপাড়া ব্রিজ থেকে টঙ্গী ব্রিজ পর্যন্ত তুরাগ নদীর সকল ধরনের নৌ-যান চলাচল নোঙ্গর করা ১৩ জানুয়ারি শুক্রবার থেকে ২২ জানুয়ারি বন্ধ থাকবে। প্রয়োজনে নৌ-যানগুলো টঙ্গী ব্রিজের পূর্ব পাশে এবং কামারপাড়া সেতুর উত্তর পাশে নোঙ্গর করতে পারবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ