ঢাকা, বৃহস্পতিবার 12 January 2017, ২৯ পৌষ ১৪২৩, ১৩ রবিউস সানি ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

১/১১ এর কুশীলব ও ফল ভোগকারীদের বিচার হবে 

গতকাল বুধবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনে বাংলাদেশ সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদের উদ্যোগে মঈনউদ্দীন-ফখরুদ্দিনের অসাংবিধানিক ক্ষমতা দখলের প্রতিবাদে আয়োজিত প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তব্য পেশ করেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান -সংগ্রাম

স্টাফ রিপোর্টার : বর্তমান সরকার ফখরুদ্দিন ও মঈন উদ্দিনের যড়যন্ত্রের ফসল উল্লেখ করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেছেন, ওয়ান ইলেভেনের কুশীলব এবং এর ফল ভোগকারীদের একদিন বিচার হবে। ওই সরকারকে বৈধতা দেয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়ার ফলেই বর্তমান সরকার তখন ক্ষমতায় আসে। এরপর থেকে তারা সমস্ত গণতান্ত্রিক পথরুদ্ধ করে জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করে ক্ষমতা আঁকড়ে ধরে আছে। বাংলাদেশ সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদের (বিএসপিপি) উদ্যোগে আয়োজিত ‘মঈন উদ্দিন ফখরুদ্দিনের অসাংবিধানিক ক্ষমতা দখলের প্রতিবাদ’ শীর্ষক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে গতকাল বুধবার দুপুরে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। বিএসপিপি’র ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও বিএফইউজের সাবেক সভাপতি রুহুল আমিন গাজী সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন। বিশেষ অতিথি ছিলেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব এডভোকেট রুহুল কবীর রিজভী আহমেদ।

বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা ও বিএসপিপির সদস্য সচিব ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন- প্রফেসর ড. মোস্তাফিজুর রহমান, অধ্যাপক সিরাজ উদ্দিন আহমেদ, সৈয়দ শাহীন সৈকত, হাসান জাফির তুহিন, প্রফেসর ড. নুরুল ইসলাম, কাদের গণি চৌধুরী, অধ্যাপক ড. এম এ কুদ্দুস, ইঞ্জিনিয়ার হাসিনুর রহমান, অধ্যাপক ড. আমিরুল ইসলাম, রফিকুল ইসলাম বাচ্চু, চৌধুরী আবদুল্লাহ আল ফারুক, প্রকৌশলী ফখরুল ইসলাম সাখাওয়াত ইবনে মঈন চৌধুরী, জাহানারা বেগম প্রমুখ। 

নজরুল ইসলাম খান বলেন, বর্তমান ক্ষমতাসীনরা গণতন্ত্র বিরোধী দল। জরুরী অবস্থা, বিশেষ ক্ষমতা আইন তৈরি, বিশেষ বাহিনী তাদের সময়েই চালু হয়েছে। সিরাজ সিকদারকে হত্যার মাধ্যমে দেশে ক্রসফায়ারের নামে হত্যা এই ফ্যাসিবাদী সরকারই প্রথম চালু করেছে। ফখরুদ্দিন-মঈন উদ্দিন সরকারকে তাদের আন্দোলনেরই ফসল বলে স্বীকার করে তাদের বৈধতা দিয়েছিল। তিনি বলেন, ফখরুদ্দিন মঈন উদ্দিনকে যেমন ক্ষমা করা হবে না তেমনি জাতি এই সরকারকেও ক্ষমা করবে না। তিনি বলেন, ২০০৯ সালের প্রহসনের ওই নির্বাচনেও কোথাও কোথাও শতভাগ ভোট পড়েছে। কিভাবে শতভাগ, নব্বই ভাগ ভোট কাস্ট হয় উল্লেখ করে নজরুল ইসলাম খান প্রশ্ন রাখেন, এটা কী করে হয়? তিনি বলেন, ক্ষমতার লোভে যারা হত্যা, গুম অপহরণ করে যাচ্ছে তাদের বিচার অবশ্যই হবে। নির্বাচন কমিশন নিয়ে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে আলোচনা প্রসঙ্গ নজরুল ইসলাম খান বলেন, আওয়ামী লীগের সঙ্গে আলোচনা শেষ হবার আগ পর্যন্ত আমরা মন্তব্য করবো না। তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন গঠন নিয়ে আলোচনার প্রস্তাব বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়াই দিয়েছিলেন। এ কারণেই আজ রাষ্ট্রপতি বিভিন্ন দলের সঙ্গে আলোচনা করছেন। তিনি বলেন, আমাদের প্রস্তাবগুলো মেনে নিয়ে রাষ্ট্রপতি তার দল আওয়ামী লীগ নেত্রীকে বোঝাতে সক্ষম হবেন, জনগণ নিরপেক্ষ নির্বাচন ব্যবস্থা চায়। এতে ব্যর্থ হলে পরবর্তী পদক্ষেপ নিবে বিএনবি। 

সভাপতির বক্তব্যে রুহুল আমিন গাজী বলেন, নব্বইয়ের গণঅভুত্থ্যানের পর ৬ দিন পত্রিকা বন্ধ রেখে আমরা দেশে গণতন্ত্র এনেছিলাম। দেশ থেকে আজ সেই গণতন্ত্র বিলীন হয়ে গেছে। মঈন উদ্দিন-ফখরুদ্দিনরা গণতন্ত্রকে ভূলুন্ঠিত করে। এরপর ২০০৮ সালে প্রহসনের নির্বাচনের নামে একটি সরকার গঠন করা হয়। সেই সরকারই ২০১৪ সালে একই পথ ধরে আরেকটি ভোটারবিহীন নির্বাচন করে গণতন্ত্র হত্যার পথ পাকাপোক্ত করে। তিনি বলেন, ওয়ান ইলেভেনের সরকারের মাধ্যমে দেশে যে ষড়যন্ত্র শুরু হয় আসলে তা শুরু হয়েছিল আরো ৬ মাস আগে। এ কারণে ২৮ অক্টোবর লগি-বৈঠার মাধ্যমে প্রকাশ্যে নির্মমভাবে গণতান্ত্রিক আন্দোলনে অংশ নেয়া মানুষকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। 

রুহুল আমিন গাজী বলেন, একটি দেশ এভাবে চলতে পারে না। দেশে গণতন্ত্র ফিরে আসলে এসব জুলুম অত্যাচারীদের বিচার হবে। ফখরুদ্দিন মঈন উদ্দিনকেও বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে বলে হুশিয়ারি উচ্চারণ করেন এই সাংবাদিক নেতা। 

রুহুল কবির রিজভী আহমেদ বলেন, কিছু দিবস আছে মনকে আন্দোলিত করে আর কিছু দিবস আছে কালো দিবস যা মানুষকে বেদনা দেয়। ওয়ান ইলেভেনের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ’৯০-এ এরশাদের পতনের পর গণতন্ত্র এসেছিল। সেই গণতন্ত্রকে কালিমা লেপন করেদিল মঈন উদ্দিন ফখরুদ্দিনের কুশীলবরা। তিনি বলেন, রাজনীতিবিদদের দুর্নীতিবাজ বলে যে সরকার তখন গঠন করা হয়েছিল তারা বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে ১৫টি ও বিএনপি চেয়ারপার্সনের নামে চারটি মিথ্যা মামলা দেয়। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী দুর্নীতির তালিকায় এগিয়ে থাকার পরও আওয়ামী লীগ নেত্রীকে তারা ক্ষমতার মসনদে বসায়। তাদের নিজেদের পিঠ রক্ষার জন্য আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় বসিয়ে পার পাওয়ার পাঁয়তারা চালায়। বিএনপি নামে এই দলটিকে নিঃশেষ করতে বেগম জিয়ার দুই সন্তানকেও নির্মমভাবে নির্যাতন চালায়। তিনি বলেন, জাতি এই ঘাপটি মেরে থাকা বিশ্বাসঘাতকদের কোনো দিন ভুলবে না। তিনি বলেন, এই সরকার বাংলাদশের উপর ট্রানজিট সুবিধাসহ ভারত যা চেয়েছি সবকিছু দিয়েছে। তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের হাতে দেশ আজ বিলীন হতে চলেছে। গণতন্ত্র ভূলুন্ঠিত করা এই সরকারকে হঠাতে সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে আন্দোলনে অংশ নেয়ার আহ্বান জানান রিজভী। 

রিজভী আহমেদ বলেন, মানুষ আজ এক রুদ্ধশ্বাস নিয়ে বাস করছে। স্বাধীনভাবে নিঃশ্বাস নিতে পারছে না, মুখ খুলে কথা বলতে পারছে না। তিনি বলেন, বাংলাদেশ এখন এক পুলিশী রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে। তাদের নেতারাই আজ বলেন, বিএনপির সঙ্গে জনগণ আছে। সেই ভয়ে তারা নিরপেক্ষ নির্বাচন দিতে সাহস পাচ্ছে না। তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও আজ মন্ত্রী, এমপিকেও তোয়াক্কা করছে না। র‌্যাব-পুলিশ, বিজিবির কর্মকর্তারা সরাসরি একজনের নির্দেশে চলে বলে মন্তব্য করেন রিজভী।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ