ঢাকা, বৃহস্পতিবার 12 January 2017, ২৯ পৌষ ১৪২৩, ১৩ রবিউস সানি ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

বিভিন্ন পণ্যের ডাম্পিং করছে ভারত

এইচ এম আকতার : বাংলাদেশে বিভিন্ন পণ্যের ডাম্পিং করছে ভারত। অথচ ডাম্পিংয়ের দায়ে বেআইনিভাবে উল্টো বাংলাদেশের পাটজাত পণ্যের উপর শুল্কারোপ করছে দেশটি। ভারতের আমদানিকারকরা বলছে বাংলাদেশ থেকে পাটপণ্য রফতানিতে কোন ডাম্পিং হয় না। ডাম্পিং মামলায় বাংলাদেশ আইনি লড়াই না করার কারণেই এন্টি ডাম্পিং শুল্কারোপ করা সহজ হয়েছে। অথচ কাপড়, মোটরসাইকেল ও ইলেকট্রিক এবং ইলেকট্রনিক্স পণ্যে ডাম্পিং করছে ভারত। কিন্তু এসব বিষয়ে মামলা তো দূরের কথা প্রতিবাদও করছে না বাংলাদেশ। এতে করে আমাদের উদ্যোক্তারা নানাভাবে লোকসানের শিকার হচ্ছে।

জানা গেছে, ভারত থেকে নিম্নমানের সূতা বাংলাদেশের একশ্রেণীর ব্যবসায়ীরা আমদানি করছে। এতে করে আমাদের স্পিনিং মালিকরা লোকসানের শিকার হচ্ছে। এ বিষয়টি একাধিকবার বাংলাদেশের মিডিয়ায় আসলেও কোন সুরাহা হয়নি। কিন্তু বাংলাদেশ সরকার ডাম্পিং এর কোন অভিযোগ আনেনি। আর এ কারণেই ডাম্পিং অব্যাহত রয়েছে।

একইভাবে কাপড়, তৈরি পোশাক বাংলাদেশের চেয়ে কম দামে আমদানি করছে ব্যবসায়ীরা। একদিকে হাজার হাজার কোটি টাকার পণ্য অবিক্রিত থাকায় ক্ষতির সম্মুখিন হচ্ছে বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরা। অন্যদিকে ভারত থেকে আসছে কম দামি ইলেকট্রিক এবং ইলেট্রনিক্স পণ্য। এসব পণ্য ব্যবহার করে একদিকে গ্রাহকরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে অন্যদিকে লোকসানের মুখে পুঁজি হারাচ্ছে ব্যবসায়ীরা। অথচ দেশীয় শিল্প বাঁচাতে ভারতীয় পণ্য রুখতে এন্টি ডাম্পিং শুল্কারোপ করছে না বাংলাদেশ। সরকারের এমন নীতিতে ক্ষুদ্ধ বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরা।

শুধু তাই নয় প্রতিনিয়তই আদা, রসুন, পেঁয়াজ মসলাসহ ক্ষুদ্র অনেক পণ্যে ডাম্পিং করছে ভারত। এতে আমাদের কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ডাম্পিং এর মাধ্যমে যুগ যুগ ধরে ক্ষতি অব্যাহত থাকলেও বাংলাদেশ তার কোন প্রতিবাদ করতে পারেনি।

জানা গেছে, বাংলাদেশের রফতানি করা পাটপণ্যে এন্টি-ডাম্পিং শুল্ক আরোপ করেছে ভারত। এন্টি ডাম্পিং রোধ করতে বাংলাদেশ কয়েক দফায় কথা বললেও তাতে কোন সমাধান হয়নি। ডাম্পিং না করেও ডাম্পিংয়ের দায়ে অভিযুক্ত হয়ে ব্যবসা হারাচ্ছে বাংলাদেশ। ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, ভারত নিজেদের বাজার সুরক্ষার অজুহাতে আন্তর্জাতিক নিয়ম লঙ্ঘন করে এ ধরনের এন্টি ডাম্পিং শুল্ক আরোপ করছে। এটা করা হলে পাটপণ্য রফতানিতে বাংলাদেশে বিরাট নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।

গত বৃহস্পতিবার থেকে পাঁচ বছরের জন্য এ শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। পণ্যভেদে টন প্রতি শুল্কারোপ করা হয়েছে ৬ দশমিক ৩০ থেকে ৩৫১ দশমিক ৭২ ডলার। পাশাপাশি ভারতের বাজারে নেপালের পাটপণ্য রফতানিতেও একই ধরনের শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার দেশটির কেন্দ্রীয় অর্থ মন্ত্রণালয়ের অধীন সেন্ট্রাল বোর্ড এক্সসাইজ এন্ড কাস্টম এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, দুই দেশের মধ্যকার শুনানি ও ভারতের এন্টি-ডাম্পিং এন্ড এলাইড ডিউটিজের (ডিজিএডি) গত অক্টোবরের সুপারিশের পরিপ্রেক্ষিতে ভারতের অর্থ মন্ত্রণালয় যেসব সিদ্ধান্তে উপনীত হয় সেগুলো : বাংলাদেশ ও নেপাল পাটপণ্য ভারতে রফতানিতে ডাম্পিং করছে। এতে ভারতের স্থানীয় শিল্পের চেয়ে কম মূল্যে পণ্য আমদানি করা হচ্ছে। এতে ভারতের স্থানীয় শিল্পগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ফলে তাদের বিনিয়োগ ঝুঁকির মুখে পড়ছে।

এর পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ ও নেপাল থেকে তিন ধরনের পাটপণ্য রফতানিতে পাঁচ বছরের জন্য এন্টি-ডাম্পিং শুল্ক আরোপ করা হচ্ছে। এগুলো হলো হেসিয়ান (চট) ফেব্রিক, জুট ইয়ার্ন (সুতা) ও পাটের বস্তা। শুল্কের অর্থ ভারতীয় মুদ্রায় রফতানিকারক প্রতিষ্ঠানকে পরিশোধ করতে হবে।

জানতে চাইলে বাংলাদেশের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব হেদায়েতুল্লাহ আল মামুন জানান, পাটপণ্য রফতানিতে ভারতের এন্টি-ডাম্পিং শুল্কারোপের বিষয়টি নিয়ে বেশ আগে থেকেই কাজ করা হচ্ছে। কিন্তু বিষয়টি রোধ করা সম্ভব হয়নি। শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত ভারত যদি চূড়ান্ত করেই থাকে, তবে সে সিদ্ধান্তের চিঠি আসার পর দ্বিপক্ষীয়ভাবে এটা নিয়ে কাজ করা হবে।

রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্যমতে, ২০১৫-১৬ অর্থবছরে বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশ থেকে পাট ও পাটজাত পণ্য রফতানির পরিমাণ ছিল ৯১৯ মিলিয়ন ডলার। আর ভারতে রফতানি হয় ৩২০ মিলিয়ন ডলার। এ হিসাবে প্রায় ৩৫ শতাংশই রফতানি করা হয় ভারতে। তাই এন্টি-ডাম্পিং শুল্কারোপের ফলে পাটজাত পণ্যের রফতানি ক্ষতিগ্রস্ত হবে মনে করেন ব্যবসায়ীরা।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ জুট গুডস এক্সপোর্টার্স এসোসিয়েশনের সহ-সভাপতি রেজাউল করিম বলেন, পাটপণ্য রফতানিতে বাংলাদেশের বড় বাজার ভারত। তাই বিষয়টি রোধে অনেক চেষ্টা করা হয়েছে। এরপর সরকারি পর্যায়ে চেষ্টা করার কথা ছিল। বাণিজ্যমন্ত্রী ও পাটমন্ত্রীর উপস্থিতিতে এ বিষয়ে আলোচনার সময় অনেক আশার বাণী শোনানো হয়। এরপরও এ শুল্কারোপ বাংলাদেশের জন্য দুঃখজনক।

সূত্রমতে, গত বছরের শেষ দিকে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ডাম্পিংয়ের অভিযোগ তোলে ভারতের জুট মিলস এসোসিয়েশন। তারা ডিজিএডি-তে এ-সংক্রান্ত অভিযোগ করে। সাধারণত বাংলাদেশ থেকে তিন ধরনের পাটপণ্য ভারতে রফতানি হয়। এগুলো হলো হেসিয়ান (চট) ফেব্রিক, জুট ইয়ার্ন (সুতা) ও পাটের বস্তা।

নিয়মানুসারে, এ-সংক্রান্ত অভিযোগের বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) এন্টি-ডাম্পিং এগ্রিমেন্ট (১৯৯৪) অনুসরণ করতে হয়। বাংলাদেশ ও ভারত উভয়েই এই চুক্তির স্বাক্ষরকারী। ওই চুক্তি অনুযায়ী, ডাম্পিংয়ের অভিযোগ তদন্তের জন্য সুনির্দিষ্ট প্রক্রিয়া রয়েছে। সে অনুযায়ী, অভিযুক্ত দেশ সত্যিই কম দামে পণ্য পাঠাচ্ছে কি না, তা প্রমাণের পাশাপাশি আমদানিকারক দেশের স্থানীয় শিল্পের ওপর এর প্রভাব কী, তা স্পষ্ট হতে হয়। তদন্তাধীন সময়ে আমদানিকারক দেশের স্থানীয় শিল্পের ক্ষতির প্রমাণ পাওয়া গেলেও তদন্তের অপর একটি ধাপ বাকি থাকে। তা হলো, কম দামে রফতানির সঙ্গে স্থানীয় পণ্যের ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার বিষয়টি সরাসরি সংযোগ প্রমাণিত হতে হবে।

নিয়মানুযায়ী তদন্তের উদ্যোগ নেয় ভারতীয় কর্তৃপক্ষ। অত্যন্ত জটিল ওই তদন্ত প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে একটি দীর্ঘ প্রশ্নমালা পূরণ করতে হয় বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের। ভারতীয় কর্তৃপক্ষ ওই বিষয়ে একটি প্রশ্নমালা বাংলাদেশী জুট স্পিনার্স, জুট মিলস, জুট গুডস এক্সপোর্টার্সসহ ১৩০টি প্রতিষ্ঠানকে পাঠায়। এ সময় বাংলাদেশে বন্ধ হয়ে যাওয়া কোম্পানিকেও ওই প্রশ্নপত্র পাঠানো হয়েছে। অনেক কোম্পানিকে পাঠানো হয়েছে, যারা ভারতে পণ্য রফতানি করেই না।

এ প্রসঙ্গে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বাংলাদেশ ট্যারিফ কমিশনের এক কর্মকর্তা জানান, পৃথিবীর মধ্যে ভারত সবচেয়ে বেশি এন্টি-ডাম্পিং শুল্ক বসায়। এ বিষয়ে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ খুবই অভিজ্ঞ ও দক্ষ। অন্যদিকে বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের এ-সংক্রান্ত প্রশ্নপত্র পাঠানো হলেও তারা যথাযথ জবাব দিতে পারেনি। সূত্রমতে, ভারতীয় কর্তৃপক্ষের কাছে এজন্য কূটনৈতিক পদক্ষেপের অংশ হিসেবে দুই দফায় সময় চেয়ে আবেদন করা হয় বাংলাদেশের তরফে। বাংলাদেশের জন্য পাট খাত গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ তার ভারত সফরের সময় বিষয়টি নিয়ে সরকারি পর্যায়ে কথা বলেন। পরে বাংলাদেশের অনুরোধে এ-সংক্রান্ত বিষয়ে পরামর্শ নেওয়ার জন্য ব্যবসায়ী প্রতিনিধি, বাংলাদেশ ট্যরিফ কমিশনের কর্মকর্তা ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধির একটি দল ভারতে যায়। চলতি বছরের ৩০ এপ্রিল কলকাতায় ভারতীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে পরামর্শ সভা হয়।

এ-সংক্রান্ত জবাব দেওয়ার জন্য নিয়মানুসারে আইনজীবী নিযুক্ত করার কথা থাকলেও বিষয়টিকে গুরুত্ব দেননি বাংলাদেশের পাট রফতানিকারকরা। ভারতীয় উৎপাদকরা এ-বিষয়ে অভিযোগ করলেও দেশটিতে বড়সংখ্যক আমদানিকারক রয়েছেন, যারা বাংলাদেশের পণ্যের ওপর শুল্ক বসানোর পক্ষে নন। তারা বাংলাদেশের রফতানিকারকদের পক্ষ হয়ে একজন আইনজীবী নিয়োগ দেন। ওই আইনজীবী বাংলাদেশে এসে পরামর্শক হিসেবে সহায়তা করেন।

বাংলাদেশ জুট মিলস এসোসিয়েশন (বিজেএমএ) সূত্রে জানা গেছে, যেসব তথ্য চাওয়া হয়েছে তা বড় একটা বইয়ের সমান। কোন দেশে কত পরিমাণ রফতানি করা হয়, কী ধরনের পণ্য রফতানি করা হয়, উৎপাদন খরচ কত, ডলারের মূল্য কত, স্থানীয় বাজারে বিক্রির পরিমাণ কত এসব তথ্যের ফিরিস্তি চাওয়া হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে একজন রফতানিকারক জানান, অনেক কনফিডেন্সিয়াল বিষয়ও জানতে চাওয়া হয়েছিল, কিন্তু এত তথ্য আমরা ভারতকে দেবো কেন? এদিকে রফতানিকারকদের কাছে তথ্য চাওয়া হলেও এ-সংক্রান্ত অভিযোগে ভারতীয় পাটকল মালিকরা কী বলেছেন, তার ‘নন-কনফিডেন্সিয়াল’ অংশ স্পষ্ট করা হয়নি। ফলে সব রফতানিকারক ওই প্রশ্নপত্রের জবাব দিতে পারেননি। মাত্র ২৬টি প্রতিষ্ঠান প্রশ্নপত্রের জবাব দিয়েছিল।

বাংলাদেশ ডাইভারসিফাইড জুট প্রডাক্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স এন্ড এক্সপোর্টার্স এসোসিয়েশনের আহ্বায়ক ও ক্রিয়েশন প্রাইভেট লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ রাশেদুল করিম মুন্না বলেন, ভারত নিজেদের বাজার সুরক্ষার অজুহাতে বিভিন্ন সময় আন্তর্জাতিক নিয়ম লঙ্ঘন করে এ ধরনের শুল্ক আরোপ করে। কয়েক মাস আগে থেকেই তারা এ বিষয়ে উদ্যোগ নেয়। বিষয়টি সরকারকে জানানোও হয়েছিল। এটা করা হলে তাৎক্ষণিকভাবে পাটপণ্য রফতানিতে বিরাট নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। কারণ পাটপণ্যের সিংহভাগ রফতানি হয় ভারতে। তবে আমরা চেষ্টা করছি ভারতনির্ভরতা কমাতে। এজন্য নতুন বাজার অনুসন্ধান করা হচ্ছে।

জানা গেছে, বাংলাদেশের অভিযুক্ত রফতানিকারকের দেওয়া ওই জবাবের পর ভারতীয় কর্তৃপক্ষের দুই সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল বাংলাদেশে আসে। তারা যে ২৬টি প্রতিষ্ঠান তথ্য দিয়েছিল, তাদের মধ্যে কয়েকটি প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করে। দুটি পাটকলও পরিদর্শন করা হয়। ওই সফরের সময় তারা বাংলাদেশ জুট গুডস এসোসিয়েশনের কার্যালয়ে দেশের রফতানিকারকদের সঙ্গে বৈঠকও করেন। তখন পর্যবেক্ষক হিসেবে বাংলাদেশ ট্যারিফ কমিশনের কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন। পরিদর্শন শেষে এ-সংক্রান্ত অভিযোগের শুনানি অনুষ্ঠিত হয় দিল্লিতে।

তখনই বিষয়টি প্রায় নিশ্চিত হয়ে গেছে, বাংলাদেশের ওপর এন্টি-ডাম্পিং শুল্ক বসানো হচ্ছে। আইনি প্রক্রিয়ায় সাফল্য না আসায় বাংলাদেশ সরকার দেশীয় রফতানিকারকদের পক্ষে কূটনৈতিকভাবে প্রচেষ্টা চালায়। এ-প্রসঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে শুনানি-পরবর্তী একটি প্রতিবেদন ভারতের সংশ্লিষ্ট অধিদফতরে পেশ করা হয়। ‘পোস্ট-হিয়ারিং সাবমিশন’ শীর্ষক ওই প্রতিবেদনের সপ্তম অনুচ্ছেদে উল্লেখ করা হয়, বাংলাদেশী উৎপাদক ও রফতানিকারকদের উপযুক্ত তথ্য সরবরাহের সক্ষমতা ছিল না।

আরও বলা হয়, এ-সংক্রান্ত অভিযোগ তদন্তের প্রক্রিয়া খুবই জটিল এবং এ-বিষয়ে বাংলাদেশের পাট খাতের ব্যবসায়ীরা অনভিজ্ঞ। এছাড়া বাংলাদেশের কোম্পানিগুলোর হাতে মানসম্পন্ন তথ্য নেই। ফলে ডাম্পিং না করেও ডাম্পিংয়ের দায়ে অভিযুক্ত হয়ে ব্যবসা হারাচ্ছে বাংলাদেশ। এ অবস্থা বিবেচনায় বাংলাদেশের পক্ষ থেকে পুনরায় তদন্তের অনুরোধ করা হলেও তা করেনি ভারতীয় কর্তৃপক্ষ।

গত ২০ অক্টোবর তদন্তের ‘চূড়ান্ত প্রতিবেদনে’ বাংলাদেশের হাসান জুট মিলের দুটি ও জনতা জুট মিলের একটি পণ্য ছাড়া সব পাটকলের পণ্যের ওপর প্রতি টনে ১৯ ডলার থেকে ৩৫১ ডলার পর্যন্ত শুল্ক বসানোর সুপারিশ করে ভারতীয় ডিজিএডি। তাতে পুরো তদন্ত প্রক্রিয়ার বর্ণনা দিয়ে বলা হয়, ‘প্রতিবেদনের প্রেক্ষিতে এর বিরুদ্ধে আপিল চলতে পারে।

মিনকো জুট মিলসের কোম্পানি সেক্রেটারি অভিরাম ভৌমিক এ বিষয়ে বলেন, ভারতে বাংলাদেশ থেকে যারা পাটপণ্য রফতানি করেন, তাদের ব্যবসায় এটা প্রভাব ফেলবে। ভারতে বাংলাদেশী পাটপণ্যের দাম বেড়ে গিয়ে সেখানকার বাজারে ব্যবসায় ঝুঁকিতে পড়বে বাংলাদেশী ব্যবসায়ীরা। খবর শেয়ার বিজ।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ