ঢাকা, শুক্রবার 13 January 2017, ৩০ পৌষ ১৪২৩, ১৪ রবিউস সানি ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

১৩৫ পাট পণ্যের প্রদর্শন ও বিক্রয় কেন্দ্র চালু করলো মন্ত্রণালয়

স্টাফ রিপোর্টার : পাটকে বিশ্ব বাজারে তুলে ধরতে প্রায় ১৩৫ প্রকার পাটপণ্যের প্রদর্শন ও বিক্রয় কেন্দ্র নিয়ে জুট ডাইভারসিফিকেশন প্রমোশন সেন্টার (জেডিপিসি) সেন্টার চালু হয়েছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর ফার্মগেটের মনিপুরীপাড়ার পাটপণ্য প্রদর্শনী ও বিক্রয় কেন্দ্রের শুভ উদ্বোধন করেন বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী মুহাম্মদ ইমাজ উদ্দিন প্রামাণিক। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মির্জা আজম, ভারপ্রাপ্ত সচিব শুভাশীষ বসু এবং সংশ্লিষ্ট দফতরের ঊধ্বর্তন কর্মকর্তা বৃন্দ।
 ইমাজউদ্দিন বলেন, দেশের সোনালী আঁশকে আগের রূপে ফিরিয়ে আনতে সরকার সকল সহযোগিতা করে যাচ্ছে। দেশের পাট পণ্যের উদ্যোক্তাগণদের সকল প্রকার সহযোগিতার আশ্বাস দেন তিনি। মন্ত্রী বলেন, পাটের এই সকল বহুমুখী পণ্য উৎপাদন ও বিপণন দেশের ভবিষ্যত প্রজন্মকে আরও উদ্ভূত্ত করবে এবং দেশের অর্থনীতির অনেক অগ্রগতি হবে।
 প্রতিমন্ত্রী মির্জা আজম বলেন, রাজধানীতে একটি পাটজাত পণ্যের প্রদর্শনী ও বিক্রয় কেন্দ্র উদ্বোধন করা হল। খুব শিগগিরই প্রত্যেক বিভাগ ও জেলা পর্যায়ে একটি করে কেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনা হাতে নিতে যাচ্ছে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়। কারণ পাট সোনালী আঁশ নামে খ্যাত বাংলাদেশের অন্যতম অর্থকরী ফসল। বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম উৎপাদনকারী এবং প্রধান রফতানিকারক দেশ হিসাবে স্বাধীনতার পর দুই দশক ধরে বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রাণশক্তি হিসাবে পাট প্রথম স্থান ধরে রাখে। তিনি বলেন, আজ থেকে পাটপণ্য প্রদর্শনী ও বিক্রয় কেন্দ্রের উদ্বোধন হওয়ার মাধ্যমে আমরা আরও একধাপ এগিয়ে গেলাম। এরফলে দেশি-বিদেশি ক্রেতাদের জন্য একই জায়গা থেকে পছন্দমতো বহুমুখী পাটপণ্য পাওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।
তিনি বলেন, দেশের চার কোটিরও বেশি মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে পাট শিল্পের সঙ্গে জড়িত। কাঁচা পাট ও পাটজাত পণ্যের উৎপাদন ও রপ্তানি বৃদ্ধি, দেশের অভ্যন্তরের পাটপণ্যের ব্যবহার বৃদ্ধি, পাটের ন্যায্যমূল্য নির্ধারণ ও পরিবেশ রক্ষায় কাজ করছে বর্তমান সরকার। দেশী উদ্যোক্তাদের উৎপাদিত বহুমুখী পাটপণ্য এক জায়গা থেকে প্রদর্শন ও বিক্রির উদ্দেশ্যে এ কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। এ কেন্দ্রের মাধ্যমে দেশী-বিদেশী ক্রেতারা একই জায়গা থেকে পছন্দমতো বহুমুখী পাটপণ্য সম্পর্কে ধারণা নিতে এবং তা ক্রয় করতে পারবেন। পাটের হারানো গৌরব ফিরে পেতে এ বহুমুখী পাটপণ্য প্রদর্শনী ও বিক্রয়কেন্দ্র গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে বলে আশা করা যায়।
তিনি আরও বলেন, করিম জুট মিলে নতুন নতুন মেশিন চালু করা হয়েছে। এই মেশিনের মাধ্যমে উন্নত মানের ফ্রেব্রিক্স তৈরি করা যাবে। দেশি-বিদেশী বাজারে পাটপণ্য টিকে থাকবে। এজন্য নতুন প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। কৃষকরা পাটের ন্যায্যমূল না পেয়ে পাটে আগুন দিয়েছে। পাটের দঁড়ি গলায় দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় এসে পাটের ন্যায্যমূল দিয়ে সেই দৃশ্য পাল্টে দিয়েছে।
দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ব্যক্তিগত উদ্যোগে পাটজাত পণ্যের নানামুখী উৎপাদন ও বিপণন হচ্ছে। ফলে এসব পণ্য সম্পর্কে খুব বেশি জানতে পারছেন না দেশি-বিদেশি ক্রেতারা। এ কারণে এসব পণ্যের একটি নির্দিষ্ট স্থানে বিপণনের ব্যবস্থা করেছে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের জুট ডাইভারসিফিকেশন প্রমোশন সেন্টার (জেডিপিসি)।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ