ঢাকা, শনিবার 14 January 2017, ১ মাঘ ১৪২৩, ১৫ রবিউস সানি ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

এবারও অর্জিত হচ্ছে না মুদ্রানীতির লক্ষ্যমাত্রা

এইচ এম আকতার : এবারও অর্জিত হচ্ছে না মুদ্রানীতির লক্ষ্যমাত্রা। বেসরকারিখাতের উদ্যোক্তারা ঋণ নিয়েছেন  দেড় শতাংশ কম। অন্যদিকে, সরকারি ঋণ প্রবৃদ্ধিও নেতিবাচক। তাই বাংলাদেশ ব্যাংক মনে করছে এই ঋণের প্রবাহ কমে গেলেও জিডিপি প্রবৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত হবে না। বেসরকারি খাতে ব্যক্তি-বিনিয়োগ বাড়ানোর নতুন কৌশলে আগামী ২৪ জানুয়ারি ঘোষিত হতে যাচ্ছে নতুন মুদ্রানীতি।

 দেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি বেসরকারিখাত। এক সময় এই বেসরকারিখাতের ঋণের লাগাম টানতে বেশ হিমশিম খেতে হতো বাংলাদেশ ব্যাংককে। তবে গত কয়েক বছরে বেসরকারিখাতের ঋণের যোগান বাড়ানোর চেষ্টা করেও তেমন ফল পাচ্ছে না কেন্দ্রীয় ব্যাংক। বাংলাদেশ ব্যাংকের জুলাই থেকে নবেম্বর পর্যন্ত মুদ্রানীতির পর্যালোচনায় দেখা গেছে বেসরকারিখাতে ঋণের প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১৫ শতাংশ। যেখানে লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১৬ দশমিক ৬ শতাংশ।

ব্যাংক থেকে সরকার ঋণ নেয়ার পরিবর্তে উল্টো পরিশোধ করেছে। সরকারের ঋণের প্রবৃদ্ধি হয়েছে মাইনাস ১ দশমিক ৩ শতাংশ। অথচ সরকারের ঋণের প্রবৃদ্ধি ধরা হয়েছিল ১০ দশমিক ৮ শতাংশ । এই দুইয়ের প্রভাবে কমেছে মোট অভ্যন্তরীণ ঋণ প্রবাহও। এক্ষেত্রে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১২ দশমিক ৩ শতাংশ। গত মুদ্রানীতিতে যা লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ১৫ দশমিক ৭ শতাংশ।

ব্যাংকখাত থেকে সরকারের ঋণ না নেয়াটাকে অর্থ প্রতিমন্ত্রী দেখছেন সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে। তিনি মনে করেন, সমাজের কিছু মানুষের জীবনমানের কথা বিবেচনা করে সরকার সঞ্চয়পত্রকেই ঋণের জন্য বেছে নিয়েছে। তারা মনে করেন, মূল্যস্ফীতি সহনীয় থাকায় ঋণের যোগান কম হলেও দুঃশ্চিন্তার কিছু নেই। স্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিবেশেও মন্দা রয়েছে ব্যক্তি বিনিয়োগে। নিয়মিত সুদহার কমলেও গতি আসছে না নতুন বিনিয়োগে। আর দেশের বিনিয়োগ না বাড়লে প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা অর্জন হয়ে পড়বে দুরূহ। যে কারণে এবারের মুদ্রানীতিতে সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়া হতে পারে ব্যক্তি-বিনিয়োগ বাড়ানোর নতুন কৌশলে।

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, সবকিছু ঠিক থাকলে ২৪ জানুয়ারি ঘোষণা করা হবে চলতি অর্থবছরের দ্বিতীয়ার্ধের (জানুয়ারি-জুন) মুদ্রানীতি। গবর্নর ফজলে কবির এ মুদ্রানীতি ঘোষণা করবেন।

জানা গেছে, দেশে স্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিবেশে ব্যবসায়ীদের দাবি অনুযায়ী ঋণের সুদহার কমছে ধারাবাহিকভাবে। রাজস্ব আদায় বাড়া ও অস্বাভাবিক গতিতে সঞ্চয়পত্র বিক্রি বাড়ায় ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে সরকারের ঋণ নেওয়ার পরিমাণ কমে গেছে। এতে করে সহজ হয়েছে বেসরকারি খাতের ঋণপ্রাপ্তি। এত কিছুর পরও ব্যাংক ঋণে চাহিদা কম উদ্যোক্তাদের। বিনিয়োগে ভাটার কারণেই এমন অবস্থার তৈরি হয়েছে। যে কারণে ব্যাংকগুলোর কাছে প্রায় এক লাখ ২৬ হাজার কোটি টাকার অলস তারল্য জমে রয়েছে।

বিনিয়োগ পরিস্থিতি চাঙা করতে না পারলে চলতি অর্থবছরে সরকারের লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী প্রবৃদ্ধির সাত দশমিক দুই শতাংশ লক্ষ্যমাত্রা অর্জন দুরূহ হয়ে পড়বে বলে মনে করা হচ্ছে। আর এ পরিস্থিতি অনুযায়ী নতুন মুদ্রানীতি প্রণয়নের কাজ শুরু করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। যেখানে স্থিতিশীল পরিস্থিতিতে কীভাবে বিনিয়োগে গতি ফেরানো যায়, সে বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়েই মুদ্রানীতি প্রণয়নের কাজ চলছে বলে জানা গেছে।

এবারের মুদ্রানীতি কেমন হওয়া উচিত জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গবর্নর ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, মূল্যস্ফীতি যেহেতু নিচের দিকে রয়েছে, সেহেতু কেন্দ্রীয় ব্যাংকের উচিত হবে সম্প্রসারণমূলক মুদ্রানীতি প্রণয়ন করা। এতে করে মূল্যস্ফীতি কিছুটা বাড়লেও ক্রয়ক্ষমতা বাড়বে মানুষের। এতে করে বিনিয়োগও উৎসাহিত হবে। যেটা এ মুহূর্তে খুবই দরকার। এটি সরকারের প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সহজ করে তুলবে।

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, নতুন মুদ্রানীতি প্রণয়নের আগে এবারও ব্যাংকার, অর্থনীতিবিদ, সাবেক গবর্নর, ব্যবসায়ী ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের (স্টেকহোল্ডার) মতামত নেয়া হচ্ছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ