ঢাকা, শনিবার 14 January 2017, ১ মাঘ ১৪২৩, ১৫ রবিউস সানি ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

রাস্তা বন্ধ করে কোথাও সমাবেশ করা হবে না -ওবায়দুল কাদের

স্টাফ রিপোর্টার : এখন থেকে রাস্তা বন্ধ করে কোথাও সমাবেশ করা হবে না বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। কর্মদিবসে রাজনৈতিক কর্মসূচি না দেয়ার বিষয়টা তার বিবেচনায় আছে। কেবল ছুটির দিন মিছিল করার বিষয়টি নিয়ে চিন্তাভাবনা করছেন তারা।

গতকাল শুক্রবার সকালে রাজধানীর রাসেল স্কয়ারে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে শীতবস্ত্র বিতরণের সময় এ কথা বলেন ওবায়দুল কাদের। সরকারের দ্বিতীয় মেয়াদের তিন বছর পূর্তি উপলক্ষে এই আয়োজন করে ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগ।

নিত্য যানজটের শহর রাজধানীতে বড় দলের রাজনৈতিক কর্মসূচি থাকলে ভোগান্তি চরমে উঠে। মিছিল বা সমাবেশ হলে সড়ক বন্ধ থাকলে যানজট কোনো একটি এলাকার বদলে ছড়িয়ে যায় পুরো শহরজুড়ে।

চলতি মাসেই ৪ জানুয়ারি ছাত্রলীগের শোভাযাত্রা, পরদিন রাজধানীর রাসেল স্কয়ার এবং বঙ্গবন্ধু এভিনিউ এবং ১০ জানুয়ারি সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আওয়ামী লীগের সমাবেশের দিন চরম ভোগান্তিতে পড়ে শহরবাসী। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এ নিয়ে সরকারি দলের তীব্র সমালোচনাও হয়।

গত ৯ জানুয়ারি রাজধানীর পান্থকুঞ্জে পাবলিক টয়লেট উদ্বোধনের সময় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র বড় রাজনৈতিক দলগুলোকে ছুটির দিন কর্মসূচি দেয়ার আহ্বান জানান।

ওবায়দুল কাদের বলেন, যানজটের কথা মাথায় রেখে সরকার বেশ কিছু সিদ্ধান্ত নিয়েছে। মাঝখানে একটু সমস্যা হয়েছে, যে কারণে প্রধানমন্ত্রীর সুস্পষ্ট নির্দেশনা যে রাস্তায় কোনো প্রোগ্রাম করা যাবে না। এ ব্যাপারে আমি সাংবাদিকদের মাধ্যমে  সারা বাংলাদেশের সকলকে প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু কন্যা, দেশনেত্রী শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে এই নির্দেশনা দিচ্ছি যে, রাস্তা বন্ধ করে কোনো সভা, সমাবেশ বা কোনো কর্মসূচি বাংলাদেশের কোথাও করা যাবে না।

ওবায়দুল কাদের যখন এই কথা বলছিলেন, তখন তার শীতবস্ত্র বিতরণকে ঘিরে জটলা মূল সড়কের কাছাকাছি পৌঁছে যায়। এ বিষয়টি নিয়েও কথা বলেন আওয়ামী লীগের এ নেতা। তিনি বলেন, ‘আমি তাদেরকে বলেছিলাম এই বস্ত্র বিতরণ আরও ভিতরে করতে। এটা নেত্রীর নির্দেশ। কিন্তু তারা এমনভাবে করেছে, যে এটা রাস্তার কাছাকাছি চলে এসেছে। তারপরও আমি পুলিশের লোকজনকে বলবো, অনুষ্ঠানের যখন ব্যবস্থা হয়ে গেছে আপনারা এমন ব্যবস্থা করুন যেন কোনোভাবে রাস্তা বন্ধ না হয়।

সরকারের দ্বিতীয় মেয়াদের তৃতীয় বর্ষপূর্তিতে জাতির উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে দেশবাসীর পাশাপাশি বিএনপির সাধারণ সমর্থকরাও খুশি হয়েছেন বলে মনে করেন ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, শুধুমাত্র বিএনপির নেতারা, যারা কর্মসূচি দিয়ে ঘরে বসে হিন্দি সিরিয়াল দেখেন, সেই নেতারা হতাশ। তিনি বলেন, সংকটে আছে বিএনপি, দেশ সংকটে নেই।’

রাজনৈতিক বিষয়ে সব সিদ্ধান্ত সংবিধানিক কাঠামোর মধ্যেই হবে জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘সমঝোতা সব কিছুই হবে সংবিধান অনুযায়ী। আমরা সংবিধানের বাইরে যাবো না। পরবর্তী নির্বাচন আমরা সংবিধানের বাইরে যাবো না। উই ক্যান নট গো বিলং কনশটিটিউশন।

এদিকে গতকাল ছাত্রলীগের পুনর্মিলনী উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি মিলনায়তনে প্রস্তুতি সভায় ওবায়দুল কাদের বলেন, 'বিএনপি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে গোটা জাতি হতাশ। অথচ সরকারের নানা অর্জনের জন্য সমগ্র দেশের মানুষ খুশি, এমনকি বিএনপির সাধারণ সমর্থকরাও খুশি।'

তিনি বলেন, 'শুধু হতাশ বিএনপির কিছু নেতা যারা কর্মসূচি দিয়ে ঘরে বসে হিন্দি সিরিয়াল দেখে। তাদের জন্য এটা হতাশা। কারণ সরকারের অর্জন ও উন্নয়নে তারা ভীত হয়ে পড়েছে। আগামী নির্বাচনে তারা জিততে পারবে কি না- সেই চিন্তায় তারা হতাশ।

সেতুমন্ত্রী বলেন, 'সরকারের দুটি মূল লক্ষ্য ছিল। একটি হচ্ছে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার এবং অন্যটি ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণ। এই দুটি প্রতিজ্ঞাই আমরা বাস্তবায়ন করেছি। বর্তমানে বাংলাদেশ পাকিস্তানের চেয়ে অনেক এগিয়ে। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে বিশ্বের বিস্ময়ে রূপ নিয়েছে আমাদের দেশ।'

ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, রাজনীতিতে হতাশ হওয়া যাবে না। মূল্যায়নের জন্য অপেক্ষা করতে হবে। মূল্যায়ন রাতারাতি পেতে হলে 'ধপ করে ঝরে খপ করে পড়ে'।

ওবায়দুল কাদের বলেন, অফিস-আদালত যেদিন খোলা থাকে, সেদিন র‌্যালি করা যাবে না। রাস্তা বন্ধ করা যাবে না। এতে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি হয়। গাড়িতে থাকা শিশু, মহিলারা ভোগান্তিতে পড়ে। অ্যাম্বুলেন্সও চলতে পারে না।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ