ঢাকা, শনিবার 14 January 2017, ১ মাঘ ১৪২৩, ১৫ রবিউস সানি ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

শ্রমিকদের মজুরি ন্যূনতম ১৬ হাজার টাকা করার দাবি

স্টাফ রিপোর্টার : আশুলিয়ায় গার্মেন্ট শ্রমিকদের ওপর দমন-পীড়ন বন্ধ ও শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ১৬ হাজার টাকা করার দাবি জানিয়েছে গার্মেন্টস শ্রমিক অধিকার আন্দোলন। গতকাল শুক্রবার  রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে সংহতি সমাবেশ থেকে এই দাবি জানানো হয়।

সমাবেশে পূর্ণ সংহতি জানিয়ে সরকারের উদ্দেশে অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেছেন, গার্মেন্টস শ্রমিকদের গ্রেফতার, রিমান্ড ও হয়রানি সম্পূর্ণ বন্ধ করেন। এটা করা মানে পোশাকশিল্প ধ্বংসের আয়োজন। সরকার ও বিজিএমইএ নিজেই পোশাকশিল্পকে ধ্বংসের প্রান্তে নিচ্ছে। ভয়-ভীতি, ত্রাসের মধ্য দিয়ে একটা শিল্প টিকতে পারে না।

বিশেষ ক্ষমতা আইন ব্যবহার করে আশুলিয়ায় ভীতিকর পরিবেশে তৈরি করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সেখানে শ্রমিকেরা যারা ঠিকমতো মজুরি পাচ্ছেন না, গায়ে-গতরে খেটে গার্মেন্ট চালু রেখেছেন, সেই শ্রমিকদের গ্রেফতার করা হচ্ছে, আটক হচ্ছে, রিমান্ডে নেওয়া হচ্ছে।

মজুরি বোর্ড গঠন ও গার্মেন্ট শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ১৬ হাজার টাকা করার দাবি জানিয়ে আনু মুহাম্মদ বলেন, পোশাকশিল্প অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করছে। আর পোশাক শ্রমিকদের মজুরি দারিদ্র্যসীমার আয়ের নিচে। কোনো শ্রমিকের মজুরি দারিদ্র্য সীমার নিচে হতে পারে না। সারা পৃথিবীর মধ্যে শ্রমিকের মজুরি বাংলাদেশে সবচেয়ে কম আর মালিকের মুনাফা সবচেয়ে বেশি।

শ্রমিকদের দাবির প্রতি সমর্থন জানিয়ে  শ্রমিক নিরাপত্তা ফোরামের আহ্বায়ক হামিদা হোসেন বলেন, সরকার খুব ভুল করছে। তারা শুধু মালিকদের সমর্থন করে, শ্রমিকের কথা না ভেবে। তাড়াতাড়ি আলোচনা করে সমস্যার সমাধান করা উচিত।

বক্তারা বলেন, আশুলিয়ার ঘটনায় বিশেষ আইনের আশ্রয় নিয়ে সরকার শ্রমিক নেতাদের ওপর নিপীড়ন করছে বলে অভিযোগ করেছেন শ্রমিক নেতা, বিশিষ্টজন ও আইনজীবীরা। তারা বলছেন বেতন নিয়ে আন্দোলন কোন ফৌজদারি অপরাধ নয়। সুপ্রীম কোর্টের নির্দেশনা উপেক্ষা করে সরকার ১৯৭৪ সালের বিশেষ আইন দিয়ে শ্রমিক এবং শ্রমিক নেতাদের হয়রানি করছে। 

সংহতি সমাবেশটি হওয়ার কথা ছিল শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে। কিন্তু সেখানে তা করতে  দেওয়া হয়নি। এর তীব্র  নিন্দা জানিয়ে গার্মেন্টস শ্রমিক সংহতির সভার প্রধান তাসলিমা আখ্তার বলেন, দেশের অর্থনীতিকে যারা সামনে রেখেছেন, সেই পোশাককর্মীরা কেন তাদের ন্যায্য দাবিতে শাহবাগে দাঁড়াতে পারবেন না?

সমাবেশ থেকে অবিলম্বে গ্রেফতার পোশাকশ্রমিকদের মুক্তি ও তাদের বিরুদ্ধে করা মামলা প্রত্যাহারের দাবি করা হয়। সমাবেশে ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়–য়া, ব্যারিস্টার সারা হোসেনসহ বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠন ও ঐক্য ফোরামের নেতা-কর্মীরা সংহতি জানিয়ে বক্তব্য দেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ