ঢাকা, শনিবার 14 January 2017, ১ মাঘ ১৪২৩, ১৫ রবিউস সানি ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

বাগমারায় আলুর জমিতে মড়কে কৃষক দিশেহারা

বাগমারায় একটি মাঠে সবুজ আলু ক্ষেতে কৃষককের ছত্রানাশক স্প্রে করার দৃশ্য -সংগ্রাম

বাগমারা (রাজশাহী) সংবাদদাতা : রাজশাহীর বাগমারায় রবি মওসুমের এলাকার প্রধান অর্থকরী ফসল আলু। অন্যান্য ফসলের চেয়ে এই এলাকায় আলু বেশী পরিমাণ হওয়ায় এই অঞ্চলের মওসুমের জনপ্রিয় ফসল আলু। বর্তমানে আলুচাষের এক দেড় মাসে আলুর গাছ মাঠ ভরে উঠেছে। তবে হঠাৎ করে গত কয়েক দিনে ঘনকুয়াশায় আলুর গাছে মড়ক লেগেছে। গত এক সপ্তাহ ধরে অতিরিক্ত ঘন কুয়াশায় আলুর গাছ পচন থেকে রক্ষা পেতে এলাকার কৃষকরা গাছে ছত্রানাশক স্প্রে করতে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। আলুর গাছ ৯০ দিনে টিকাতে পারলেই আশানুরূপ ফলন মিলবে। এতে করে আবারো অতিরিক্ত গাছে ছত্রানাশক স্প্রে করতে হচ্ছে। গাছ টিকাতে বিভিন্ন ধরনের বালাইনাশক স্প্রে করে কোন লাভ হচ্ছে না এমনটি নিয়ে এলাকার কৃষকরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন।

জানা গেছে, বাগমারা ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকায় আলুচাষের মাটি উপযোগী। উর্Ÿর মাটি ও অনুকূল আবহাওয়ায় এলাকায় প্রচুর পরিমাণে আলু চাষ হয়। বিগত বছরগুলোতে আলুর ভালো ফলন ও দাম পেয়ে বেশী লাভের আসায় অধিক আলু চাষে কৃষকরা ঝুঁকে। কিন্তু গত ৩ বছর ধরে আলুচাষিরা স্টোরজাত আলুর দাম কম, শ্রমিক সংকটসহ হিমাগারের বেশী ভাড়ায় আলুচাষিরা লোকশান গুনছেন। মওসুমের শুরু থেকে আলুর মূল্য হ্রাস ও হিমাগার ভিত্তিক চক্রের কারণে কৃষকরা আলু নিয়ে গত ৩ বছর বিপাকে পড়ে। এ বছর উপজেলায় ১৭ হাজার হেক্টর জমিতে আলু চাষ করা হয়। বালানগর, গোপালপুর, নন্দনপুরসহ বিভিন্ন এলাকার কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, মওসুমে আলু বিক্রির পর অতিরিক্ত আলু এলাকার কৃষকরা স্টোরজাত করে। এলাকায় যে পরিমাণ স্টোর রয়েছে তা প্রয়োজনের তুলনায় কম সংরক্ষণ ক্ষমতা। উপজেলার ১৬টি ইউনিয়ন ও ২টি পৌর সভা মিলে ৪টি স্টোরে ৮ লক্ষ বস্তা রাখা যায়। স্টোরগুলোর ধারণ ক্ষমতার অতিরিক্ত আলু হওয়ার কারণে এলাকার আলু চাষিরা আলুর স্টোরগুলোর (হিমাগার) মধ্যস্বত্ব ভোগী সিন্ডিকেটের হাতে ধরাশাহী হয়ে পড়ে। এতে বেশী রেটে কৃষকদের কাছ স্থানীয় এজেন্টরা অতিরিক্ত টাকা হাতিয়ে নিয়ে স্টোরে জায়গা দেয়।

একই ভাবে প্রতিবারের ন্যায় এবারে মাঠে মাঠে আলুর তরতজা গাছে মাঠ ভরে গেছে। ইতোমধ্যে আগাম জাতের আলু উত্তোলন শুরু হয়েছে। তবে বর্তমানে বাজারে মন ৪০০/- টাকা দরে কেজিতে ১০/- টাকায় আলু বিক্রি চলছে। আলুর ফলন ভালো পেলেও দাম কমে উৎপাদন খরচ জুটছে না। এতে করে আবারো এবারে আলুর দাম কম হবে এমনটি ভেবে এলাকার কৃষকরা হতাশ হয়ে পড়েছেন। বালানগর গ্রামের কৃষক আব্দুল মান্নান জানান, অতিরিক্ত দামে সার ওষুুধ, শ্রমিকসহ বিভিন্ন উপকরণ ক্রয়ে আলুচাষে বেশী খরচ পড়েছে। যে হারে জমিতে আলু চাষে খরচ হয়েছে সে হারে মূল্য না বাড়াই তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। মহম্মাদপুর গ্রামের আলুচাষি জাহেদুর জানান, জমির আলু এখন মাঠে মাঠে এক থেকে দেড় ফুট আকারের আলুর গাছ বড় হয়েছে। পুরো আলু উঠতে এখনো এক থেকে দেড় মাস সময় লাগবে। পুরা আলুর সময়ে মড়ক দেখা দিয়েছে ওষুধ স্প্রে করে কোন কাজ হচ্ছে না। তার মত সগুনা, দেউলিয়া, গোপালপুরসহ এলাকার একাধিক গ্রামের কৃষকরা আলুর গাছ টিকাতে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন বলে এই প্রতিবেদককে জানিয়েছেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ