ঢাকা, শনিবার 14 January 2017, ১ মাঘ ১৪২৩, ১৫ রবিউস সানি ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

ফেনী শহরে ওরা রাতের রাজা!

ফেনী সংবাদদাতা : ভোর ৪টা ফেনী সদর উপজেলার ধর্মপুর আলিম মাদ্রাসার উপাধ্যক্ষ মাওলানা ছানা উল্যাহ ব্যক্তিগত কাজে ঢাকার উদ্দেশ্যে বাস কাউন্টারে রিক্সায় চড়ে যাওয়ার পথে শহরের গোডাউন কোয়ার্টার বিদ্যানিকেতন স্কুলের সামনে পৌঁছলে ৫/৬ জন যুবক রিক্সার গতিরোধ করে। ২ মিনিটের মধ্যেই টাকা, ঘড়ি, ও মোবাইল ফোনসহ মূল্যবান জিনিসপত্র ছিনিয়ে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় তিনি ফেনী মডেল থানায় সাধারণ ডায়েরি করলেও দূর্বৃত্তদের কাউকে ধরা যায়নি। 

এভাবে শহরের প্রতিটি স্পটে চুরি-ছিনতাই নিত্যনৈমিত্তিক হয়ে পড়েছে। রাত গভীর হওয়ার সাথে সাথে এসব চোর-ছিনতাইকারীরা বিভিন্ন স্পটে অবস্থান নেয়। সুযোগ বুঝেই তাদের মিশন সফল করে নেয়। অনুসন্ধানে জানা গেছে, সদর হাসপাতল মোড় হতে গোডাউন কোয়ার্টার পর্যন্ত ৩টি স্পট কলাবাগান, পানির ট্যাংক রাস্তার মাথায়, একাডেমীর আফজালের রহমানের সড়কের মাথায় ও গুদাম কোয়ার্টার বালিকা বিদ্যানিকেতনের গেইটে ছিনতাই করে থাকে। এছাড়া পুরাতন মাদিনা বাস স্ট্যান্ডের তারা নিবাসর গলির মাথায় ফেনী আলীয়া মাদরাসায় পাশের গলির মুখে, ইসলামপুর সড়কের মাথায়, পুরাতন পুলিশ কোয়ার্টার, এফ রহমান এসি মার্কেটের পাশে, সিটি কলেজের সামনে, হলি ক্রিসেন্ট স্কুল সংলগ্ন মনোহার আলী সড়কের মাথায়, পানি উন্নয়ন বোর্ডের সামনে, মহিপাল মোডে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে অবস্থান নিয়ে ছিনতাই হয়ে থাকে।

স্থানীয় একালাকাবাসী জানায়, একাডেমী ও গোডাউন কোয়ার্টার এলাকায় জনৈক কিরনের নেতৃত্বে এসব অপকর্ম চলে। গোয়েন্দা পুলিশের এক অফিসারের সোর্স হিসেবে এলাকায় পরিচয় দিয়ে কিরণ এসব কাজ বীরদর্পে করে থাকে। সে বিরিঞ্চির আনিছ পুকুরপাড় এলাকার সালেহ আহম্মদ মাস্টারের ছেলে। কলাবাগান এলাকার নেতৃত্বে রয়েছে সরোয়ার, রাব্বি ও জাহিদ নামের তিনজন। এসব ছিনতাইকারীদের দলে স্থানীয় সন্ত্রাসীরা ছাড়া জেলা, জেলার পার্শ্ববর্তী এলাকার সন্ত্রাসীরা ছাড়াও খুলনা, বাগেরহাট জেলার মোড়লগঞ্জ এলাকা হতে শ্রমজীবিরা তাদের তাদের উঠতি বয়সের ছেলেদের এই সব দলগুলোতে কাজ করতে বাধ্য করে থাকে। ভ্রাম্যমাণ কিশোররা অপকর্ম করে নিজ এলাকায় পালিয়ে যায়। কিছুদিন পর এসে নানান অপকর্মের সাথে আবার জড়িয়ে পড়ে। তারা বিভিন্ন রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় আশ্রয় নেয়ায় রাজনৈতিক নেতারা ব্যবহার করে। মহিপাল, পাঠান বাড়ির মাথা, এসি মার্কেটের সামনে ওরা তিনজন ছোরা (ক্ষুর) নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকে। রাতের বেলা পথচারীরা যাওয়ার সময় গলায় ছোরা ধরে টাকা, মোবাইল ফোন ও মহিলাদের স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে যায়।

একাধিক সূত্র জানায়, এসব ছিনতাইকারীরা সিএনজি ও টমটম চালক। রাতে যাতায়তকারী যাত্রীরা এবং ভোর বেলায় ঢাকা-চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে যাওয়ার জন্য যাত্রীদের টার্গেট করে থাকে। তবে এই ছিনতাইয়ের ঘটনা বৃহস্পতি ও শনিবার দিবাগত রাতে বেশী হয়ে থাকে বলে জানা গেছে। জীবন-জীবিকার তাগিদে যারা বাধ্য হয়ে রাতে যাতায়াত করেন তাদের নি:স্ব হয়েই ঘরে ফিরতে হয়। গত ২৯ ডিসেম্বর পুরাতন পুলিশ কোয়ার্টার থেকে অস্ত্রসহ ৬ ছিনতাইকারী গ্রেফতার করে এসআই নোমান। এদের মধ্যে বেশ কয়েকজনের বাড়ি বাগেরহাটের মোড়লগঞ্জে। ১৪ই সেপ্টেম্বর ঈদুল আযহার পরেরদিন মাদকের টাকা বাগবাটোয়ারা নিয়ে বন্ধুদের হাতে খুন হন বাগেরহাটের মোড়লগঞ্জের রকি। এ ঘটনায় তার পিতা সেন্টু বাদী হয়ে হত্যা মামলা দায়ের করে।

শহর পুলিশ ফাঁড়ির এসআই নোমান হোসেন জানান, বহিরাগত লোকেরা পুরাতন পুলিশ কোয়ার্টারসহ শহরের বিভিন্ন স্থানে ইভটিজিং, চুরি ও ছিনতাই করে থাকে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ