ঢাকা, শনিবার 14 January 2017, ১ মাঘ ১৪২৩, ১৫ রবিউস সানি ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

ডুমুরিয়ায় অবৈধ ডাম্পার চলাচল সড়ক-সেতুর ক্ষতি

খুলনা অফিস: ডুমুরিয়া উপজেলার বিভিন্ন সড়কে অবৈধ ডাম্পার ট্রাক চলাচলে অর্ধশতাধিক ছোট-বড় গুরুত্বপূর্ণ সড়ক মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে ওইসব সড়ক দিয়ে সাধারণ যানবহন নিয়ে চলাচলে বিঘ্নিত হচ্ছে এবং প্রতি বছর সড়ক পুনঃ সংস্কারে সরকারের কোটি কোটি টাকা গচ্চা যাচ্ছে।
জানা গেছে, উপজেলার সদরসহ উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নের গ্রামীণ ও গুরুত্বপূর্ণ সড়ক এবং মহাসড়কগুলোর অবস্থা বেহাল। ডুমুরিয়া উপজেলার অভ্যন্তরে অতিরিক্ত ভারী ডাম্পার ট্রাক গুলো কার্পেটিং, পাকা, ইট বিছানো ও কাঁচা সড়কে চলাচলের ফলে সড়কগুলো হচ্ছে ক্ষতিগ্রস্ত। এরই মধ্যে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কে বড় বড় গর্ত সৃষ্টি, আর ইট বিছানো সড়ক গুলো মাটি সাথে মিশে গেছে। বিশেষ করে বর্ষার মওসুমে খুলনা-পাইকগাছা, খুলনা-দৌলতপুর, কৈয়া-শরাফপুর, খর্নিয়াসহ গ্রামীণ সড়কগুলো দিয়ে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে।
ডুমুরিয়া উপজেলার আওতায় ১৪টি ইউনিয়নে মোট সড়ক রয়েছে ১০৯০ কিলোমিটার। এর মধ্যে ১৪১ কিলোমিটার পাকা, আরসিসি (কার্পেটিং) ১ কিলোমিটার, ১৯৭ কিলোমিটার সড়ক আধাপাকা এবং ৭৫১ কিলোমিটার কাঁচা সড়ক। বর্ষা মওসুমে অধিকাংশ ইট বিছানো বা কাঁচা সড়ক দিয়ে চলাচলে একেবারই অনুপযোগী হয়ে পড়ে। ওই সময় সড়ক দিয়ে ভ্যান, মোটরসাইকেল, বাই-সাইকেলসহ অন্যান্য যানবহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
গুটুদিয়া ইউনিয়নের হারান বিশ্বাস জানান, কৈয়া-শরাফপুর সড়কের শৈলমারী সড়ক দিয়ে এখন শুকনা মওসুমেও চলাচল মুশকিল হয়ে পড়েছে। তাছাড়া লাইন্সেন বিহীন হলুদ রংঙ্গের ভারী ডাম্পার চলাচলের ফলে সড়ক চলাচলে অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। মাগুরখালী সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান কার্ত্তিক মন্ডল, কাকমারী গ্রামের নিতাই বাইন, লতা গ্রমের দেবপ্রসাদ, উত্তর বিলপাবলা গ্রামের নিমাই মন্ডল, খামারবাটি’র অনকুল বিশ্বাস জানান, তাদের ইউনিয়নে প্রচুর পরিমাণ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ ও সব্জির চাষ হয়। রাস্তা ঘাটের যোগাযোগ ব্যবস্থা ভাল না হওয়ায় তাদের উৎপাদিত মাছ ও সব্জি ন্যাষ্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হয়। অপরদিকে স্থানীয় প্রভাবশালীরা ওই সকল এলাকার নদী-খালের আড়া-আড়ি বাঁধ বা নেটপাটা দিয়ে অবৈধ মাছ চাষের ফলে নৌ-চলাচলও বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে ওই সব এলাকায় বর্ষার মওসুমে স্থায়ী জলাবদ্ধতা যেন গ্রামবাসীকে আরো ভাবিয়ে তোলে। অপারদিকে এলাকার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, ছাত্র-ছাত্রীসহ সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা কর্মচারী এবং বিশেষ করে চিকিৎসার ক্ষেত্রে ওই সকল এলাকার মানুষের সীমাহীন দুর্ভোগে পড়তে হয়।
ডুমুরিয়া উপজেলা প্রকৌশলী বিদ্যুৎ কুমার দাস জানান, এ উপজেলায় বিভিন্ন ইউনিয়নের গ্রামের অনেক সড়ক এখনো কাঁচা রয়েছে। উপজেলা সড়ক, ইউনিয়ন সড়ক, গ্রামীণ সড়ক নিয়ে এলজিইডি’র কার্যক্রম। এ উপজেলায় গড় প্রতি বছর ৮-৯ কিলোমিটার সড়ক পাকা করা হচ্ছে।
এ ব্যাপারে ডুমুরিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান মো. খান আলী মুনসুর জানান, ছোট ছোট সড়কে ভারী ডাম্পার গাড়ী চলছে সত্য। এগুলি বন্ধ করার চেষ্টা চলছে। আর নদী-খাল অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে ব্যাবস্থা নেয়া হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ