ঢাকা, শনিবার 14 January 2017, ১ মাঘ ১৪২৩, ১৫ রবিউস সানি ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

শাহরাস্তিতে জেলা পরিষদ নির্বাচনের প্রার্থীদের হালখাতা

শাহরাস্তি (চাঁদপুর) সংবাদদাতা: গত ২৮ ডিসেম্বর সারা দেশের ন্যায় শাহরাস্তিতে জেলা পরিষদ নির্বাচন সুষ্ঠ ও শান্তিপূর্ণভাবে সমাপ্ত হয়েছে। উক্ত নির্বাচনে পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদ মেয়র চেয়ারম্যান ও সদস্যগণ ভোট প্রয়োগ করেন। নির্বাচনের সময় ব্যাপক অর্থ বিনিময়ের গুঞ্জন ছিল উপজেলা জুড়ে। নির্বাচনের আগ মুহূর্তে  এ ব্যাপারে মুখ না খুললে ও নির্বাচন শেষে তা প্রকাশ্যে বের হয়ে আসে স্বয়ং প্রার্থীরাই ভোটারদের খোঁজ করে টাকা আদায় করেছেন। স্থানীয়রা একে অভিহিত করেছেন হালখাতা হিসেবে। 
নির্বাচনের পর থেকে কয়েক জন প্রার্থী ভোট না পাওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে টাকা ফেরৎ নেন। বর্তমানে উপজেলা জুড়ে এ বিষয়টি আলোচনার কেন্দ্র বিন্দুতে পরিণত হয়েছে। সকলের মুখে মুখে এ বিষয়েই আলোচনা চলছে। এ ব্যাপারে সদস্য প্রার্থী রেজাউল করিম মিন্টুকে মুঠোফোনে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন আমি কাউকে চাপ দেই নাই, তবে দু’জন ভোটার আমাকে টাকা দিয়ে গেছে। তারা আমাকে ভোট দিতে পারে নাই বিধায় টাকা ফেরত দিয়েছে।
১৩ নং ওয়ার্ডের নব-নির্বাচিত সদস্য তুহিন খান জানান এ বিষয়টি আমি জানতে পেরে থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে অবহিত করেছি। আমার কোন সদস্য যাতে হয়রানীর শিকার না হয় সে বিষয়ে অবগত করেছি। যদি কেউ টাকা দিয়ে থাকে তা হলে তা যেন গোপনে সেরে ফেলে। আমি টাকা ছাড়া নির্বাচন করেছি। কোন ভোট ক্রয় করিনি।
সূচীপাড়া দক্ষিণ ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দুর রশিদ জানান, আমরা পরিষদে ডেকে সকল মেম্বারদের বলে দিয়েছি প্রার্থীদের টাকা ফিরিয়ে দিতে এ ব্যাপারে চিতোষী দক্ষিণ ইউনিয়ন চেয়ারম্যান জুবায়েদ কবির বাহাদুর একই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। উপজেলা আওয়ামী লীগ সাংগঠনিক সম্পাদক জাহাঙ্গীর মোহাম্মদ আদেল বলেন, আমাদের নীতি নৈতিকতার অবক্ষয় ঘটেছে। যারা সমাজে বিচার শালীস করেন তারাই ভোট ক্রয় বিক্রয় করছেন।
এদিকে গত ৩০ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় চিতোষী পূর্ব ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ড মেম্বার গরীবে নেওয়াজকে টাকা ফিরিয়ে দিতে আটক করা হয়। পরাজিত সদস্য প্রার্থী নজরুল ইসলামসহ বেশকয়েকজন তাকে আয়নাতলী বাজারে আটক করে মারধর করে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম। রাশ্রয়ী উত্তর আওয়ামী লীগের সভাপতি মোশারফ হোসেন মুশু জানান, প্রার্থীরা টাকা আদায় করার বিষয়টি আমি জেনেছি এক জন পরাজিত প্রার্থী ১০ জন থেকে টাকা আদায় করেছেন।
বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে একজন ভোটার কয়েক জন প্রার্থী থেকে টাকা গ্রহণ করেছেন এবং সবাইকেই ভোট দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন এতে করে নির্বাচনের দিন সকল প্রার্থীকেই হাসি খুশি ভাবে অবস্থান করতে দেখা গেছে। উক্ত নির্বাচনে দল ও যোগ্যতার পরাজয় ঘঠেছে আর বিজয়ী হয়েছে অর্থ। বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে ১৩ নং ওয়ার্ডের ৬ টি ইউনিয়নে ৪ টিতেই বিএনপির সমর্থিত চেয়ারম্যান রয়েছে সাধারণ সদস্যদের ক্ষেত্রে বিএনপির প্রাধান্যই বেশি। উক্ত ওয়ার্ড বিএনপি’র একক প্রার্থী থাকা সত্বেও তাদের পরাজয় ঘটে। উক্ত ইউনিয়নে জেলা আওয়ামীলীগ সমর্থীত প্রার্থী পেয়েছেন মাত্র ১০ ভোট, এ ওয়ার্ডে বিএনপি’র একক প্রার্থী হলেও আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের প্রার্থী ছিল ৫ জন এখানে সবাইকে তাক লাগিয়ে বিজয়ী হয়েছেন সাবেক ছাত্রলীগ নেতা তুহিন খান। ১২ নং ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগ থেকে ৫ জন প্রার্থী নির্বাচন করলেও বিএনপির ছিল ১ জন ফলাফলে তিনি পেয়েছেন মাত্র ৬ ভোট।
 জেলা আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী পেয়েছেন ২১ ভোট। প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতা হুমায়ুন কবীর মজুমদার ২৬ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। ১২ নং ওয়ার্ডে মহিলা সদস্য পদে শাহরাস্তি থেকে প্রার্থী হয়েছে শাহিন আক্তার। তিনি এ কেন্দ্রে ৮৪ ভোটের মধ্যে পেয়েছেন ৩২ ভোট, ১৩ নং ওয়ার্ডে মহিলা সদস্য পদে শাহরাস্তি থেকে প্রার্থী হয়েছে আয়শা আক্তার শিমু তিনি এ কেন্দ্রে ৭৩ ভোটের মধ্যে পান ৪০ ভোট। এ নির্বাচনে অর্থের কাছে আঞ্চলিকতার ও হার মেনেছে। অভিজ্ঞ মহলের মতে যারা সমাজ পরিচালনা করেন তারা যদি তাদের বিবেক এ ভাবে বিক্রয় করেন তা হলে আমরা কোথায় গিয়ে দাঁড়াবো?  সময় এসেছে তাদের চিনে রাখার।
বর্তমানে ভোটারদের মাঝে ভয় আতংক বিরাজ করতে দেখা গেছে। এ নিয়ে তাদের মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা গেছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ