ঢাকা, শনিবার 14 January 2017, ১ মাঘ ১৪২৩, ১৫ রবিউস সানি ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

মাওয়া-কাওড়াকান্দি নৌ-রুট জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পারাপার

কাওড়াকান্দি লঞ্চ ঘাট -সংগ্রাম

খুলনা অফিস : মাওয়া-কাঠালবাড়ি-কাওড়াকান্দি ও মাঝিকান্দি নৌ-রুটে লঞ্চ ও স্পীড বোটে যাত্রী পারাপারে ভাড়া বেড়েছে। সেই সাথে অতিরিক্ত যাত্রী বাহনে ভোগান্তি বৃদ্ধিসহ চরম ঝুঁকি নিয়ে যাত্রীদের পারাপার করতে হচ্ছে। এসব লঞ্চ ও স্পীড বোটের নিয়ন্ত্রণকারীদের কাছে সাধারণ মানুষ জিম্মি হয়ে পড়েছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, একটি প্রভাবশালী মহল মাওয়া ও কাওড়াকান্দি ঘাট নিয়ন্ত্রণ করে।
গত ১১ জানুয়ারি মাওয়া ঘাটে গিয়ে দেখা যায়, পারাপারে লঞ্চ ভাড়া ২০ টাকার পরিবর্তে ৩৫ টাকা নেয়া হচ্ছে। আর স্পীড বোটে ১০০ টাকার পরিবর্তে দেড়শ’ টাকা নেয়া হচ্ছে। জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি না পেলেও কেন অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হচ্ছে জানতে চাইলে টিকিট কাউন্টার থেকে কোন সদুত্তর পাওয়া যায়নি।
তবে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, যাত্রী প্রতি ২ টাকার টোল ফ্রি থাকার পরও গত ১ জুলাই থেকে লঞ্চ ভাড়া ৩৩ টাকার সাথে টোলের ২ টাকা সহমোট ৩৫ টাকা ভাড়া বৃদ্ধি করা হয়েছে। এর আগে ভাড়া ছিলো মাত্র ২০ টাকা। বি.আই.ডব্লিউ.টি.এর উপ-পরিচালক শাহজাহান সিরাজ স্বাক্ষরিত একটি চিঠি গত ৩০/৬/২০১৫ইং তারিখে লঞ্চ মালিক সমিতি বরাবর আসলে ১ জুলাই সকাল থেকেই তা কার্যকর করে লঞ্চ মালিকরা।
জানা গেছে, ঘাটগুলোতে স্বার্থান্বেষী মহলের দৌরাত্ম্য হ্রাস, যাত্রীদের উপর নিপীড়ন বন্ধ, যাত্রী সাধারণের হয়রানী লাঘব এবং সরকারের রাজস্ব আদায় বৃদ্ধির লক্ষ্যে এ সকল লঞ্চঘাট সরাসরি ইজারা না দিয়ে যাত্রী পারাপারের জন্য লঞ্চের টিকিটের সাথে বি.আই.ডব্লিউ.টি.এর যাত্রীদের ঘাটে প্রবেশ ফি বাবদ দুই টাকা হারে আদায় করবে লঞ্চ মালিক সমিতি আর এ টাকা শর্ত অনুযায়ী বি.আই.ডব্লিউ.টি.কে পরিষদ করবে লঞ্চ মালিক সমিতি।
কিন্তু ঘাটগুলোতে ইজারাদারের লোকজন জেলা পরিষদের তিন টাকা টোলের স্থলে পাঁচ টাকা থেকে ১০ টাকা করে আদায় করছে এবং লঞ্চগুলোতে বি.আই.ডব্লিউ.টি.এর টোলের দুই টাকাসহ মোট ৩৫ টাকা ভাড়া কাটা হচ্ছে।
শুধুই ভাড়া বৃদ্ধি নয়; এই নৌ-রুটে যাত্রী হয়রানি চরম আকার ধারণ করেছে। প্রতিটি লঞ্চে দ্বিগুণ যাত্রী বাহন করা হচ্ছে। আর লঞ্চ বোঝাই না করা পর্যন্ত ঘাট থেকে গন্তব্যের উদ্দেশ্যে ছাড়া হচ্ছে না। ফলে পাড়াপাড়ে আড়াই থেকে পৌণে তিন ঘন্টা সময় লাগছে। এছাড়া স্পীড বোডে ভাড়া আদায় করা হচ্ছে দেড়শ’ টাকা। গত জুন মাস পর্যন্ত এ ভাড়া ছিলো ১০০ টাকা। লঞ্চ ভাড়া বাড়ার পরপরই বোর্ড মালিকরা অতিরিক্ত ৫০ টাকা ভাড়া বাড়িয়েছেন। প্রতিটি স্পীড বোটে ২০ জন যাত্রী বাহনের অনুমতি থাকলেও জোরপূর্বক ২৮ জন যাত্রী বাহন করা হচ্ছে। এক প্রকার ঠাসাঠাসি করে যাত্রীদের বসতে হচ্ছে। প্রতিটি স্পীড বোটে লাইফ জ্যাকেট দেওয়ার কথা থাকলেও তা দেওয়া হচ্ছে না। ফলে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পাড়াপাড় হতে হচ্ছে যাত্রীদের।
ঢাকা থেকে খুলনাগামী যাত্রী ঐর্ষয্য সুলতানা শারমিন জানান, এধরণের দুর্ভোগ আগে ছিলো না। তারা ইচ্ছামাফিক ভাড়া বাড়াচ্ছেন। অতিরিক্ত যাত্রী বাহন ও লাইফ জ্যাকেট না দেয়া পাড়াপাড় অনিরাপদ হয়ে উঠেছে।
মাদারিপুর থেকে আসা ঢাকাগামী লঞ্চ যাত্রী ব্যবসায়ী ইউনুস আলী জানান, ঘাটে দিয়েছি ৫ টাকা লঞ্চে দিয়েছি ৩৫ টাকা। তিনি আরো বলেন, সরকার সুন্দর একটি উদ্যোগ নেয়ার পরেও এ ঘাটগুলোতে যাত্রী হয়রানি কিছুতেই কমছে না বরং এ ক্ষেত্রে লাভবান হচ্ছে লঞ্চ মালিকরা। এভাবে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
এ ব্যাপারে শিমুলিয়া ঘাটের লঞ্চ মালিক সমিতির সুপার ভাইজার মো. হাসেম খানের সাথে কথা হলে তিনি বলেন আমাদের এ ঘাটে কোন প্রকার যাত্রী হয়রানি নেই। আমাদের এখানে লঞ্চ ভাড়ার সাথে টোলের দুই টাকাসহ মোট ৩৫ টাকা আদায় করা হয়। কোন প্রকার যাত্রী হয়রানি নেই।
বি.আই.ডব্লিউ.টি এর মাওয়া নদী বন্দরের বন্দর ও পরিবহন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, গত ২৫ জুন আন্তঃ মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত মোতাবেক বি.আই.ডব্লিউ.টি.এর সাথে লঞ্চ মালিক সমিতির মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। সে মোতাবেক দুই টাকাসহ মোট ৩৫ টাকা ভাড়া কাটা হচ্ছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ