ঢাকা, শনিবার 14 January 2017, ১ মাঘ ১৪২৩, ১৫ রবিউস সানি ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

মাস্টারপ্ল্যান প্রস্তুত ॥ খুলনা মহানগরীর ছয়টি সড়ক প্রশস্তকরণ হচ্ছে

খুলনা অফিস : খুলনা মহানগরীর জনগুরুত্বপূর্ণ ছয়টি সড়ক প্রশস্ত করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এ জন্য একটি মাস্টার প্ল্যানও তৈরি করা হয়েছে। দ্রুত এ উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হবে। বৃহস্পতিবার রাতে খুলনা সার্কিট হাউজ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত ‘খুলনা শহরের রাস্তাঘাট প্রশস্তকরণ, সৌন্দর্যবর্ধন এবং যানজট নিরসন সংক্রান্ত মতবিনিময় সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। খুলনা বিভাগীয় কমিশনার মো. আবদুস সামাদ সভায় সভাপতিত্ব করেন।
সভায় কেডিএ’র চেয়ারম্যান ব্রি. জেনারেল মো. আহ্সানুল হক মিয়া গুরুত্বপূর্ণ সড়কসমূহ প্রশস্ত করার বিষয়ে একটি মাস্টারপ্ল্যান পাওয়ার পয়েন্টে উপস্থাপন করেন। এ পরিকল্পনায় নগরীর জব্বার স্মরণি ৮০ ফুট, শের-এ বাংলা রোড ১০০ ফুট, শিপইয়ার্ড সড়ক ৬০ ফুট, খানজাহান আলী রোড ৮০ ফুট, শামসুর রহমান সড়ক ৫০ ফুট এবং গগণবাবু রোড ৫০ ফুট করার প্রস্তাব করা হয়।
সভায় বিভাগীয় কমিশনার মো. আবদুস সামাদ বলেন, পদ্মা সেতু নির্মিত হলে এ অঞ্চলের অর্থনীতি, জীবনযাত্রা বদলে যাবে। এতদাঞ্চলে মানুষের গমনাগমন এবং যানচলাচলে যে ব্যাপক চাপ সৃষ্টি হবে এখনই প্রস্তুতি নিতে না পারলে বড় ধরণের সমস্যা মোকাবিলা করতে হবে। তাই খুলনা শহরকে মানুষের বসবাস উপযোগী করতে জরুরি পদক্ষেপ হিসেবে এ সভার আয়োজন। এতে বিশেষভাবে যে বিষয়গুলো বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত হয় তারমধ্যে ফুটপাথ অবৈধ দখলমুক্ত করে ভ্রাম্যমাণ হকারদের ফেরিঘাটের খোলা স্থানে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত হয়। যানজট নিরসনে আগামী এক মাসের মধ্যে ইজিবাইকের সংখ্যা ৫ হাজারে সীমাবদ্ধ রাখা হবে এবং নির্ধারিত রুটে ইজিবাইকের চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হবে। সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে নগরীর ৯৬টি স্থানে সিসি ক্যামেরা বসানো হবে।
সভায় প্রাথমিকভাবে নগরীর শিপইয়ার্ড সড়ক, মিনাবাজার-ময়লাপোতা-জিরো পয়েন্ট, শামসুর রহমান রোড, খানজাহান আলী রোড এবং লোয়ার যশোর রোড প্রশস্ত করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। একই সাথে রাস্তার মোড়গুলোও প্রশস্ত করা হবে।
স্থানীয় সংসদ সদস্য মিজানুর রহমান মিজান বলেন, খুলনার প্রধান প্রধান সড়কের অবৈধভাবে দখলকৃত জায়গা যদি পুনরুদ্ধার করা যায় তাহলে রাস্তা প্রশস্ত করা সম্ভব। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য খুলনা শহরকে চলাচলের যোগ্য, সৌন্দর্যম-িত ও বাস উপযোগী করতে জরুরিভাবে পদক্ষেপ নিতে হবে এবং এটি বাস্তবায়নে আমাদের আন্তরিক সহযোগিতা থাকবে।
সিটি মেয়র মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান বলেন, ফুটপাথ মানুষের চলাচলের উপযোগী করা, রোড সাইন স্থাপন, ড্রেনেজ সিস্টেমের আধুনিকায়নে সড়ক ও জনপথ এবং সিটি করপোরেশনকে দায়িত্ব নির্দিষ্ট করে দিতে হবে, যাতে ফুটপাথ নির্মাণে এবং রাস্তার সৌন্দর্য বর্ধনে নিজ নিজ বিভাগ দায়িত্ব পালন করতে পারে। তিনি স্বল্প খরচে এবং দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছাতে ঢাকার আদলে বাস-র‌্যাপিড ট্রানজিট ব্যবস্থা চালু করতে কেডিএ’র দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
সভায় পুলিশ কমিশনার নিবাস চন্দ্র মাঝি, অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার, র‌্যাব-৬ এর অধিনায়ক, গণপূর্ত বিভাগের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী, খুলনা জেলা প্রশাসকসহ বিভিন্ন দফতরের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ