ঢাকা, রোববার 15 January 2017, ২ মাঘ ১৪২৩, ১৬ রবিউস সানি ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

শীতের পরিবেশ

বাতেন বাহার : বিশ্বায়ন ও অবাধ তথ্য প্রযুক্তির যুগে ভ্রাতৃত্ববোধ ও বন্ধুসুলভ আচরণ দিন দিন উল্লেখযোগ্য হারে বেড়ে চলছে। ফলে ভাব, ভাষা ও উন্নয়নের কৌশল এবং তথ্য উপাত্ত দ্রুত পৃথিবীর এক প্রান্ত হতে অন্য প্রান্তে ছড়িয়ে পড়ছে। আর এ কারণে এক দেশের সঙ্গে অন্য দেশের, এক জনগোষ্ঠীর সঙ্গে অন্য জনগোষ্ঠীর ভাব, ভাষা ও তথ্য প্রযুক্তির আদান-প্রদানসহ বন্ধুত্ব ও সহযোগিতামূলক আচরণ ক্রমাগতভাবে বেড়েই চলেছে।
তাছাড়া বিজ্ঞানের প্রসার, প্রচার এবং আধুনিক তথ্য প্রযুক্তির কল্যাণে দিন দিন রুচি ও দৃষ্টিভঙ্গির দ্রুত পরিবর্তন হচ্ছে। ফলশ্রুতিতে ভাব, ভাষা এমনকি খাদ্যাভ্যাস, খাদ্য তালিকা ও রসনা বিলাসের পালে হাওয়া লেগেছে- লাগছে। যে কারণে ক্রমান্বয়ে ছোট হয়ে আসা পৃথিবীর মানুষে মানুষে ভাব, ভাষা ও প্রযুক্তির আদান উল্লেখযোগ্য হারে বেড়ে চলছে। এর ফলে তথ্য ও তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার দিন দিন সহজতর হচ্ছে। সহজতর ভাবের আদান-প্রদানের কারণে দিন দিন খাদ্যাভ্যাস, রুচি, খাদ্য তালিকা এবং রসনা বিলাসে বৈপ্লবিক পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। আর চাহিদার সঙ্গে সরবরাহের সামঞ্জস্য বিধানে কৃষি, কৃষিজাত শিল্প এবং আনুষঙ্গিক শিল্পের প্রসারতা দিন দিন বেড়ে চলেছে। তাই কৃষিকাজে আগের দিনের কাঠের লাঙ্গল ও গরুর পরিবর্তে কলের লাঙ্গল বা ট্রাক্টর যোগ হয়েছে। জমির উর্বরা শক্তি বাড়ানোর জন্য গোবর ও জৈব সারের পাশাপাশি রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের ব্যবহার বেড়েই চলেছে। ফলে, বিগত দিনে যে জমিতে একটি বা দুটি ফসল উৎপাদন সম্ভব হতো, সে জমিতে এখন দুটি বা ততোধিক ফসল উৎপাদন করা সম্ভব হচ্ছে। তাছাড়া গুণগত মানেরও পরিবর্তন পরিলক্ষিত হচ্ছে। সে কারণেই আগের দিনে যে ফসল শুধুমাত্র শীতকালে উৎপাদন করা সম্ভব হতো আজ তা সারা বছর জুড়েই উৎপাদন করা সম্ভব হচ্ছে। তবে এক্ষেত্রে উৎপাদিত ফসলের গুণগত মান ও স্বাদে তারতম্য লক্ষণীয়।
আগের দিনে সীম, কপি, টমেটো, শালগম, মূলা, ধনিয়া, পিঁয়াজ, রসুন, গোল আলু ইত্যাদি শীতকাল ছাড়া অন্য মওসুমে উৎপাদন করা দুঃসাধ্য ছিল। অথচ হালে নতুন নতুন তথ্য প্রযুক্তি এবং রসনা বিলাসে দিন দিন নতুন মাত্রা যোগ হবার কারণে শীতের ফসল গ্রীষ্মে এমনকি বর্ষাকালেও উৎপাদন করা হচ্ছে। তবে এ কথা স্বীকার্য যে, শীতকালের ফসল গ্রীষ্মকালে উৎপাদন করা হলেও ফলন গুণগত মান এবং স্বাদের তারতম্য এতে বিস্তর। একই শস্য শীতকালে উৎপাদিত হলে শীতের প্রভাব আর গ্রীষ্মকালে উৎপাদিত হলে গ্রীষ্মের প্রভাব বিদ্যমান। শীতকালে উৎপাদিত শাক সবজিতে দীর্ঘ সময় জুড়ে টাটকাভাব এবং গুণগত মান অক্ষুণ্ন থাকে। অপরদিকে গ্রীষ্মে উৎপাদিত শাকসবজি ফলমূল অতি সহজেই নষ্ট হয়ে যায় বলে স্বাদের তারতম্য ঘটে।
শীতকালে প্রচুর পরিমাণে শাক-শব্জি, ফলমূল উৎপাদিত হয়। নানা প্রকারের টাটকা ও জিয়ল মাছে গ্রামের হাট-বাজার, লঞ্চঘাট, খেয়াঘাট এবং চৌরাস্তা পরিপূর্ণ হয়ে উঠে। খেজুরের টাটকা রসের মৌ মৌ গন্ধে আনন্দানুভূতি জাগে গাঁও গেরামে এবং হাটবাজারে। কলাই শাক, মটরশুটি এবং ধনিয়া পাতার গন্ধে বিভোর হয় কৃষাণ-কৃষাণী। শীতের শাক-সবজি, খেজুরের রস, পিঠেপুলি এবং টাটকা মাছের স্বাদ নিতে শহরের মানুষ ছুটে যায় গ্রামে। বাউলের এক তারার সুরে রাতকাটে আগামী দিনের নতুন সূর্যের মুখ দেখার আনন্দে। শীতের এ আয়োজন পরিবেশ, পরিস্থিতি আর সব ঋতু থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। তাই ভোজনবিলাসীসহ সব শ্রেণি পেশার মানুষ শীতের অপেক্ষায় থাকে।
কারণ এমন টাটকা শাকসবজি, ফল-মূল, খেজুরের রস, আর তত্বকথার আসর, অন্য ঋতুতে খুব একটা হয় না। তাছাড়া শিশির এবং কুয়াশার জন্য ধুলিবালি খুব একটা উড়তে পারে না বলে শীতের পরিবেশ থাকে পরিচ্ছন্ন। ফলে, একটি কাপড় দীর্ঘসময় ব্যবহার করেও তাতে তেমন ময়লা লাগে না।
তাই শীতকে খাদ্যপ্রেমীদের অনেকেই স্বাগতম জানাতে ব্যস্ত থাকে। কারণ, এমন মজার এবং টাটকা খাবারের আয়োজন অন্য ঋতুতে নেই বললেই চলে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ