ঢাকা, রোববার 15 January 2017, ২ মাঘ ১৪২৩, ১৬ রবিউস সানি ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

সিরাজগঞ্জে সরকারের ভিজিডি কার্ডের সঞ্চয় টাকা কম দেয়ার অভিযোগ

সিরাজগঞ্জ সংবাদদাতা: সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলার ঝাঐল ইউনিয়নে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ভিজিডি কর্মসূচির সদস্যদের সঞ্চয় টাকা কম দেয়ার অভিযোগ উঠেছে এনডিপি’র বিরুদ্ধে। ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম এনডিপি এই কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। ভিজিডি কর্মসূচির আওতায় সদস্যদের চাল বরাদ্দ দেয়ার পাশাপাশি প্রতিমাসে ৪০ টাকা করে সঞ্চয় আদায় করা হতো। ২ বছরে এই সঞ্চয়ের পরিমান দাঁড়ায় ৯৬০ টাকা। কিন্তু ৪৪৯ জন কার্ডধারী সদস্যকে তাদের জমানো সঞ্চয় টাকা কম দেয়া হয়েছে। ১১ জানুয়ারী  বুধবার সকালে ২নং ঝাঐল ইউনিয়ন পরিষদ থেকে এ টাকা বিতরণ করা হয়।
সরেজমিন ঘুরে ও কার্ডধারীদের অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সরকারের মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ভিজিডি কর্মসূচির আওতায় গরীব অসহায় মানুষদের চাল দেয়ার পাশাপাশি তাদের নিকট থেকে সঞ্চয় হিসেবে প্রতিমাসে ৪০ টাকা আদায় করা হতো। দু’বছর শেষে কার্ডধারী সদস্যরা সঞ্চয়ের টাকা ফেরত দেয়ার কথা ছিলো। সেই মোতাবেক ১১ জানুয়ারী বুধবার সকাল থেকে ২নং ঝাঐল ইউনিয়ন পরিষদ থেকে কার্ডধারীদের সঞ্চয়ের টাকা ফেরত দিতে শুরু করে এনডিপি। কিন্তু প্রত্যেক কার্ডধারী অভিযোগ করেন তাদের জমানো সঞ্চয় টাকা কম দেয়া হচ্ছে।
এবিষয়ে অভিযোগ করেও লাভ হচ্ছে না। প্রতি কার্ডধারীকে ২শ’ থেকে ৩শ’ টাকা কম দেয়া হচ্ছে। অনেকে অভিযোগ করে বলেন সঞ্চয়ের টাকা সঠিকভাবে কার্ডে  লেখা হয়নি। যে টাকা জমা দেয়া হয়েছে তার অর্ধেক টাকা কার্ডে উল্লেখ করা হয়েছে। অবশ্য এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সিরাজগঞ্জ এনডিপি’র কর্মকর্তরা। ১২২ কার্ডধারী আব্দুল মমিনের স্ত্রী ফাতেমা খাতুন বলেন, কামলা বেচা টাকায় সঞ্চয় জমিয়েছি। আমার সঞ্চয় ৯৬০ টাকা। অথচ আমার কার্ডে উল্লেখ করা হয়েছে ৭শ’ টাকা। ২ নং ওয়ার্ডের কোনাবাড়ী গ্রামের জাহাঙ্গীর আলমের স্ত্রী নাজমা খাতুন বলেন, আমার সঞ্চয় টাকা জমা হয়েছে ৫৬০ টাকা। অথচ আমার কার্ডে লেখা হয়েছে ৩৬০ টাকা। আমাকে ২শ’ টাকা কম দেয়া হচ্ছে। এর আগে প্রথমে ১২০ টাকা জমা দেয়া হয়েছিলো।
এছাড়া ৪৫৭ কার্ডধারী রেশমা, ২নং ওয়ার্ডের ৫২৮ কার্ডধারী চায়না, ৭নং ওয়ার্ডের ২০৯নং কার্ডধারী আমিনা, ১নং ওয়ার্ডের ৩০নং কার্ডধারী রিনা খাতুন, ৯নং ওয়ার্ডের ৪৪১ নং কার্ডধারী ইসমোতারা জমানো টাকার চেয়ে কম দেয়ার অভিযোগ করেন। ১নং ওয়ার্ডের ৩০নং কার্ডধারী রিনা খাতুন বলেন, এনডিপি’র শিখা ম্যাডাম (ভিজিডি প্রশিক্ষক, ঝাঐল ইউপি) টাকা নিয়ে গেলেও তা কার্ডে উত্তোলন করেনি। আমাদের জমানো টাকা তিনি আত্মসাৎ করছেন। এমন কি গত কয়েকদিন আগে সে আমাদের সকলের কার্ড অফিসে নিয়ে গিয়েছিলেন। ২নং ঝাঐল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলতাফ হোসেন ঠান্ডু বলেন, কার্ডধারীরা ভালো না। তারা চাউল বিক্রি করে কার্ড ব্যাপারীদের কাছে রেখে এখন বলছে টাকা কম দেয়া হচ্ছে। টাকার লেনদেন করছে সিরাজগঞ্জ এনডিপি’র কর্মকর্তারা। আমরা শুধু তাদের সহযোগিতা করছি।
সিরাজগঞ্জ এনডিপি’র সহকারী ব্যবস্থাপক শিপন চন্দ্রনাথ বলেন, কার্ডে যে টাকার কথা উল্লেখ করা হয়েছে তাই দেয়া হচ্ছে। এখানে কম দেয়ার প্রশ্নই আসে না। জমা না দিলে কার্ডে লেখা হবে কিভাবে। তারা টাকা জমা না দিয়ে এখন বলছে টাকা কম দেয়া হচ্ছে। এ ব্যাপারে কামারখন্দ উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা। আফরোজা আক্তার শিমুর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিষয়টি জানেন না বলে জানান। তবে তিনি বলেন এখনই এনডিপি’র সাথে যোগযোগ করে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়া হবে । তিনি আরো জানান  সঞ্চয় বইয়ে যে টাকা উল্লেখ আছে তার বাহিরে টাকা কম দেয়ার কোন অবকাশ নেই।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ