ঢাকা, রোববার 15 January 2017, ২ মাঘ ১৪২৩, ১৬ রবিউস সানি ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

ভুয়া কাগজে ক্ষুদ্রঋণ বিতরণ শাস্তির আওতায় ১৫ কর্মকর্তা

স্টাফ রিপোর্টার : কাগজপত্র যথাযথভাবে যাচাই বাছাই না করেই ঋণ দেয়ায় ক্ষুদ্র ঋণে খেলাপির সংখ্যা বাড়ছে। ইতোমধ্যে সমাজসেবা অধিদফতরে ভুয়া কাগজের বিষয়ে অভিযোগটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বেশকিছু অভিযোগের সত্যতা পেয়ে ১৫ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থাও নেয়া হয়েছে। সূত্রমতে, সমাজসেবা অধিদফতরের আওতায় এই ঋণ কার্যক্রমে (আরএসএস) খেলাপির সংখ্যা ৭৯ হাজার ১৪৬ জন। আর বিতরণকৃত মোট ২৯৪ কোটি টাকার বিপরীতে এখনো অনাদায়ী রয়েছে ৫৬ কোটি টাকা।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সমাজসেবা অধিদপ্তরের আওতাধীন পল্লী সমাজসেবা (আরএসএস) কার্যক্রমের আওতায় দেয়া সুদমুক্ত ক্ষুদ্র ঋণে গ্রাহক সংখ্যা দুই লাখ ছাড়িয়েছে। দারিদ্র্য বিমোচনের উদ্দেশ্যে ক্ষুদ্র ব্যবসা, মৎস্য চাষ প্রভৃতি কাজের জন্য দেয়া ঋণের বহুলাংশ আদায় হচ্ছে না নানা অনিয়মের কারণে। এজন্য জামানত না থাকার পাশাপাশি যাচাই-বাছাইয়ের অভাব, ভুয়া ঋণগ্রহীতা ও কর্মকর্তাদের আদায় তৎপরতার ঘাটতিকে দায়ী করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সূত্রমতে, সারা দেশে দারিদ্র্য বিমোচনে আরএসএস কার্যক্রমের মাধ্যমে সুদমুক্ত ক্ষুদ্র ঋণ প্রকল্প বাস্তবায়ন করে সমাজসেবা অধিদপ্তর। এ কার্যক্রমের আওতায় এখন পর্যন্ত বিনিয়োগ করা হয়েছে ২৯৪ কোটি টাকার বেশি, যাতে অনাদায়ীর পরিমাণ ৫৬ কোটি টাকার উপরে। ঋণখেলাপির সংখ্যা ৭৯ হাজার ১৪৬ জন। অন্যদিকে একই প্রকল্পের আওতায় ক্রমপুঞ্জিত পুনর্বিনিয়োগের পরিমাণ ৬০০ কোটি টাকার বেশি, যাতে অনাদায়ী রয়ে গেছে ৫৭ কোটি টাকারও উপরে। ঋণখেলাপির সংখ্যা ১ লাখ ২৮ হাজার ৪৩৫ জন। এ হিসাবে ১৯৭৪ সাল থেকে শুরু করে এ পর্যন্ত এ প্রকল্পে বিনিয়োগ ও ক্রমপুঞ্জিত বিনিয়োগ মিলিয়ে অনাদায়ী অর্থ ১১৩ কোটি টাকারও বেশি। একই সঙ্গে ঋণখেলাপির সংখ্যা ২ লাখ ৭ হাজারের ওপর।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আরএসএস কার্যক্রমের আওতায় পরিবার প্রতি ৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত বিনাসুদে ক্ষুদ্র ঋণ নেয়ার সুযোগ রয়েছে। কোনো প্রকার জামানত ছাড়াই সামান্য সার্ভিস চার্জের বিনিময়ে এ ঋণ নেয়া যায়। ফলে বিভিন্ন সময়ে এ ঋণ নেয়ার ক্ষেত্রে নানা অনিয়ম দেখা যায়। আবার অনেক ক্ষেত্রে গ্রহীতা আয়বর্ধনমূলক কোনো কার্যক্রমে সম্পৃক্ত হতে পারবে কিনা, তা যাচাই-বাছাই ছাড়াই ঋণ দেয়া হয়। ভুয়াগ্রহীতা সাজিয়েও ঋণ দেয়ার অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া ঋণ আদায় তৎপরতায় ঘাটতির অভিযোগ রয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে। ফলে প্রতিবছরই বড় অংকের টাকা অনাদায়ী থেকে যাচ্ছে।
সমাজসেবা অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, মূলত দরিদ্রদের জন্যই এ ঋণের সুবিধা দেয়া হয়। ফলে দেখা যায় অতীত অভিজ্ঞতা না থাকায় ঋণ নিয়ে কোনো ব্যবসা শুরুর পরও সেখান থেকে কাক্সিক্ষত আয় পাচ্ছেন না অনেকে। ফলে তাদের ঋণের কিস্তি পরিশোধেরও সামর্থ্য  তৈরি হয় না। আবার অনেকে কিস্তি পরিশোধে ব্যর্থ হলেও সেক্ষেত্রে অধিদপ্তরের কোনো আইনি ব্যবস্থা নেয়ার সুযোগ নেই। আবার অনেক কর্মকর্তা নিয়মিত তদারকিও করেন না। এ কারণেও অনেক সময় কিস্তি বকেয়া হয়ে পড়ে। কিস্তি আদায়সহ নানা বিষয়ে অনিয়মের জন্য কর্মকর্তাদের অনেকেই বিভিন্ন সময়ে শাস্তির মুখোমুখি হয়েছেন।
এরই মধ্যে কর্মসূচিতে বিভিন্ন অনিয়মের জন্য দায়ী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন সমাজসেবা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক গাজী মোহাম্মদ নুরুল কবীর। তিনি বলেন, আমি দায়িত্ব নেয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত ১৫ জনের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাকে অবশ্যই শাস্তি পেতে হবে।
তবে অনাদায়ী টাকার একটি বড় অংশ অনেক আগের হওয়ায় সংশ্লিষ্ট ঋণগ্রহীতাদের চিহ্নিত করে অর্থ আদায়ের সুযোগ তেমন একটা নেই বলে জানিয়েছেন সমাজসেবা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক। তিনি জানান, বর্তমানে দীর্ঘদিন চলমান এ কর্মসূচির সব তথ্য হালনাগাদ করে একটি ফ্রেমওয়ার্কের মধ্যে নিয়ে আসার কার্যক্রম চলছে। ডাটাবেজের কাজও এরই মধ্যে শুরু হয়েছে। ডাটাবেজ সম্পন্ন হওয়ার পরই দলছুট পরিবারগুলোকে শনাক্ত করা সম্ভব হবে। এর পর একটি বড় অংকের অর্থ অবলোপনের জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ