ঢাকা, বুধবার 18 January 2017, ৫ মাঘ ১৪২৩, ১৯ রবিউস সানি ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

হাইকোর্টে আসছে সাত খুন মামলার রায়ের নথি

স্টাফ রিপোর্টার : নারায়ণগঞ্জের আলোচিত সাত খুন মামলার রায়ের নথি সুপ্রিম কোর্টে আসছে। আজকালের মধ্যে সাত খুন মামলার রায়ের নথি সুপ্রিম কোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় পৌঁছবে বলে জানা গেছে। বিচারিক আদালতের রায়ের পর নিয়ম অনুযায়ী মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের জন্য হাইকোর্টের অনুমোদন নিতে হয়। এ জন্য সাত খুন মামলার নথি উচ্চ আদালতে পাঠানো হচ্ছে। 

সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের রেজিস্ট্রার সাব্বির ফয়েজ জানিয়েছেন, গতকাল বিকেলের মধ্যেই রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশ হবে বলে তাকে জানানো হয়েছে। আজ বুধবার হাইকোর্টে ডেথ রেফারেন্সর (মৃত্যুদণ্ড নিশ্চিতে হাইকোর্টের অনুমোদন) শুনানির জন্য মামলার নথি আসতে পারে। আগামী দুই মাসের ভেতরে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে মামলাটি শুনানির জন্য দ্রুত পদক্ষেপ নেয়া হবে। 

গত সোমবার বিচারিক আদালতের রায়ের পর সরকারের এটর্নি জেনারেল গণমাধ্যমকে বলেছিলেন নিম্ন আদালতের দেয়া ফাঁসির রায় কার্যকর হয় না, যতক্ষণ পর্যন্ত না হাইকোর্ট তা কনফার্ম (অনুমোদন) করেন। বিচারিক আদালতের রায় নথিসহ হাইকোর্টে আসবে। তিনি বলেন, এ মামলার শুনানি দ্রুত শুরু করার জন্য চেষ্টা করা হবে।

গত সোমবার নারায়ণগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ সৈয়দ এনায়েত হোসেন আলোচিত সাত খুন মামলায় আওয়ামী লীগ নেতা নূর হোসেন ও র‌্যাবের বরখাস্ত হওয়া কর্মকর্তা তারেক সাঈদ মোহাম্মদসহ ২৬ জনকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেন। এ ছাড়া নয়জনকে বিভিন্ন মেয়াদে সশ্রম কারাদণ্ড দেন

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ২৬ জন হলেন- নূর হোসেন, চাকরিচ্যুত লেফটেন্যান্ট কর্নেল তারেক সাঈদ মোহাম্মদ, চাকরিচ্যুত মেজর মো. আরিফ হোসেন, চাকরিচ্যুত লেফটেন্যান্ট কমান্ডার এম এম রানা, মো. মিজানুর রহমান দীপু, মো. মোখলেছুর রহমান, মো. মহিউদ্দিন মুন্সী, ল্যান্স নায়েক হিরা মিয়া, সিপাহী আবু তৈয়ব, সেলিম, সানাউল্লাহ সানা, শাহ জাহান, জামাল উদ্দিন, আসাদুজ্জামান নূর, পুর্ণেন্দু বালা, আরওজি আরিফ হোসেন, সৈনিক আল আমিন, তাজুল ইসলাম, সার্জেন্ট এনামুল কবির, বেলাল হোসেন, শিহাব উদ্দিন, মোর্তুজা জামান চার্চিল, আলী মোহাম্মদ, আবুল বাশার, রহম আলী ও এমদাদুল হক।

এদের মধ্যে প্রধান আসামী নূর হোসেন সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সাবেক সহসভাপতি ও নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের ওয়ার্ড কাউন্সিলর ছিলেন।

২০১৪ সালের ২৭ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জ-ঢাকা লিংক রোডের খানসাহেব ওসমান আলী স্টেডিয়ামের সামনে থেকে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের তৎকালীন কাউন্সিলর নজরুল ইসলাম, তার সহযোগী সিরাজুল ইসলাম লিটন, মনিরুজ্জামান স্বপন, তাজুল ইসলাম ও গাড়িচালক জাহাঙ্গীর আলম এবং নারায়ণগঞ্জের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী চন্দন কুমার সরকার ও তার গাড়িচালক ইব্রাহিমকে অপহরণ করে র‌্যাব-১১। পরে ৩০ এপ্রিল শীতলক্ষ্যা নদী থেকে ছয়জনের এবং ১ মে একজনের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় নিহত কাউন্সিলর নজরুল ইসলামের স্ত্রী সেলিনা ইসলাম বিউটি এবং চন্দন সরকারের জামাতা বিজয় কুমার পাল দুটি মামলা করেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ