ঢাকা, বুধবার 18 January 2017, ৫ মাঘ ১৪২৩, ১৯ রবিউস সানি ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

সাত দফা প্রস্তাব খেলাফত মজলিসের

স্টাফ রিপোর্টার: একটি শক্তিশালী ও নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন গঠন, নির্বাচনী সুষ্ঠু পরিবেশ সংরক্ষণ ও নির্বাচনকালীন সরকার বিষয়ে খেলাফত মজলিসের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রপতির নিকট ৭(সাত) দফা প্রস্তাব পেশ করা হয়েছে। 

গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে বঙ্গভবনে নির্বাচন কমিশন গঠন বিষয়ে রাষ্ট্রপতির সহিত আলোচনা ও মতবিনিময়ে অংশগ্রহণ করে খেলাফত মজলিস এ সাত দফা প্রস্তাব পেশ করেন। প্রায় পৌনে এক ঘণ্টা (৪৫ মিনিটি) দীর্ঘ বৈঠকে রাষ্ট্রপতি অত্যন্ত মনোযোগসহকারে খেলাফত মজলিসের প্রস্তাবিত ৭ দফা প্রস্তাব শ্রবণ করেন।

খেলাফত মজলিসের মহাসচিব ড. আহমদ আবদুল কাদেরের নেতৃত্বে ১১ সদস্যের প্রতিনিধি দলে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সিনিয়র নায়েবে আমীর অধ্যক্ষ মাসউদ খান, নায়েবে আমীর- মাওলানা সৈয়দ মজিবর রহমান, প্রিন্সিপাল মাওলানা মজদুদ্দিন আহমদ, সিনিয়র যুগ্মমহাসচিব মাওলানা মুহাম্মদ শফিক উদ্দিন, যুগ্মমহাসচিব মাওলানা সাখাওয়াত হোসাইন, এডভোকেট মো: জাহাঙ্গীর হোসাইন, অধ্যাপক মোঃ সিরাজুল হক ও শেখ গোলাম আসগর, ড. মোস্তাফিজুর রহমান ফয়সল, মাওলানা আহমদ আলী কাসেমী।

একটি শক্তিশালী, নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন গঠন, নির্বাচনী সুষ্ঠু পরিবেশ সংরক্ষণ ও নির্বাচনকালীন সরকার বিষয়ে খেলাফত মজলিসের পক্ষ থেকে মহামান্য রাষ্ট্রপতির বিবেচনার জন্যে পেশ প্রস্তাবসমূহ হচ্ছে: 

১. আইন প্রণয়ন : নির্বাচন কমিশন গঠন করার বিষয়ে একটি সুষ্ঠু আইন প্রণয়ন করা প্রয়োজন যাতে একটি নিরপেক্ষ, দক্ষ ও শক্তিশালী নির্বাচন কমিশন গঠন করা সম্ভব হয় এবং এ সংক্রান্ত বিতর্কের অবসান ঘটে। অবশ্য এই আইনটি সব দলের অংশগ্রহণে নির্বাচিত পার্লামেন্টে প্রণয়ন করা উচিত যাতে করে আইন নিয়ে কোন সংশয় ও বিতর্ক তৈরি না হয়। 

২. অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থা : আইন প্রণয়ন না হওয়া পর্যন্ত নির্বাচন কমিশন গঠন করার জন্য প্রথমত একটি বাছাই কমিটি গঠন এবং উক্ত বাছাই কমিটির মাধ্যমে নির্বাচন কমিশনের একাধিক প্রস্তাবিত প্যানেল তৈরি। এইসব প্রস্তাবিত প্যানেল থেকে মহামান্য রাষ্ট্রপতি চূড়ান্তভাবে নির্বাচন কমিশন গঠন করবেন।

৩. বাছাই কমিটি গঠন : 

ক. রাষ্ট্রপতি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলসমূহের সাথে আলোচনা সাপেক্ষে ও তাদের ঐকমত্যের ভিত্তিতে ৫ সদস্য বিশিষ্ট বাছাই কমিটি গঠন করবেন।

খ. বাছাই কমিটির আহ্বায়ক হবেন বাংলাদেশের একজন অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি যিনি কর্মক্ষম ও অবিতর্কিত, যিনি অবসরে যাওয়ার পর সরকারের কোন লাভজনক পদে অধিষ্ঠিত নহেন বা ছিলেন না।

গ. বাছাই কমিটির অন্যান্য সদস্যের মধ্যে একজন হবেন বাংলাদেশ সরকারের একজন সৎ, দলনিরপেক্ষ, অবিতর্কিত অবসরপ্রাপ্ত সচিব, যিনি অবসর গ্রহণের পর সরকারের কোন লাভজনক পদে অধিষ্ঠিত নহেন বা ছিলেন না।

ঘ. বাছাই কমিটির অন্যতম সদস্য হবেন একজন প্রখ্যাত ও দলনিরপেক্ষ আলেম ও ইসলামি চিন্তাবিদ ।

ঙ. বাছাই কমিটির অন্যতম সদস্য হবেন অবসরপ্রাপ্ত, সৎ এবং দলনিরপেক্ষ একজন বিশ^বিদ্যালয়ের সুপরিচিত বিশিষ্ট অধ্যাপক যিনি অবসর গ্রহণের পর সরকারের কোন লাভজনক পদে অধিষ্ঠিত নহেন বা ছিলেন না।

চ. বাছাই কমিটির অন্যতম সদস্য হবেন একজন সৎ ও দলনিরপেক্ষ সাবেক সেনা প্রধান যিনি অবসরের পর সরকারি কোন লাভজনক পদে অধিষ্ঠিত নহেন বা ছিলেন না।

৪. নির্বাচন কমিশনের প্রধান ও সদস্যবৃন্দ নিয়োগ : 

ক. প্রধান নির্বাচন কমিশনার হবেন একজন সৎ, মেধাবী, দক্ষ, সাহসী, দলনিরপেক্ষ এবং প্রাজ্ঞ ও অভিজ্ঞ ব্যক্তি। তিনি আপিল বিভাগের একজন প্রাক্তন বিচারপতি অথবা সরকারের একজন অবসরপ্রাপ্ত সচিব অথবা অবসরপ্রাপ্ত জেনারেল হতে পারেন। বিচারপতি বা সচিব বা জেনারেল সরকারি পদ হতে অবসর গ্রহণের পর সরকারের কোন লাভজনক পদে অধিষ্ঠিত নহেন বা ছিলেন না এমন হতে হবে। 

খ. নির্বাচন কমিশনারবৃন্দ নিয়োগঃ একজন আলেম ও একজন নারীসহ সর্বজন শ্রদ্ধেয়, সৎ, মেধাবী, দক্ষ, প্রাজ্ঞ, সাহসী, অভিজ্ঞ, দলনিরপেক্ষ ও অবিতর্কিত চারজন কমিশনার নিযুক্ত হবেন। 

৫. নির্বাচন কমিশনকে শক্তিশালী ও নিরপেক্ষকরণ :

ক. নির্বাচন কমিশনের নিজস্ব সচিবালয় ও আর্থিক স্বাধীনতা থাকতে হবে। নির্বাচন কমিশনের কাজের ক্ষেত্রে সরকার প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ কোনভাবেই হস্তক্ষেপ করতে পারবে না এমন নিশ্চয়তা থাকতে হবে এবং এর জন্য প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা থাকতে হবে।

খ. নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর থেকে নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা ও নির্বাচনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট যাবতীয় কার্য শেষ না হওয়া পর্যন্ত জনপ্রশাসন, স্বরাষ্ট্র ও আইন মন্ত্রণালয়সহ নির্বাচনের সাথে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মন্ত্রণালয় বিশেষত মাঠ পর্যায়ের প্রশাসন যারা নির্বাচনী কার্যক্রম পরিচালনা করবেন তাদেরকে নির্বাচন কমিশনের অধীনে থাকতে হবে। নির্বাচন কমিশন চাইলে তাদের যে কাউকে বদলী করতে পারবেন, এমন বিধান থাকতে হবে। 

গ. নির্বাচনকালীন সময়ে কোন নির্বাচনী এলাকায় বা সব এলাকায় সামরিক বাহিনী মোতায়েনের প্রয়োজন বোধ হলে এবং নির্বাচন কমিশন সেনা মোতায়েনের চাহিদা পেশ করলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যথাসময়ে ও যথাযথভাবে তা বাস্তবায়ন করবেন।

নির্বাচনের পরিবেশ রক্ষা :

ক. নির্বাচনকে অর্থ ও পেশী শক্তির প্রভাব থেকে মুক্ত রাখতে হবে। সবার জন্যে সমান সুযোগ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। এর জন্য প্রয়োজনীয় নির্বাচনী আইন প্রণয়ন ও পদক্ষেপ নিতে হবে।

খ. ভোটারদের মধ্যে নিরাপত্তাবোধ জাগ্রত করা ও যে কোন অনাকাক্সিক্ষত পরিস্থিতি এড়াতে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহিত সেনাবাহিনীকে সংশ্লিষ্ট করতে হবে।

গ. সকল দলীয় প্রার্থীর ব্যক্তিগত প্রচারণা ছাড়া অন্যান্য আনুষ্ঠানিক নির্বাচনী প্রচারণার দায়িত্ব ও ব্যয় নির্বাচন কমিশন বহন করবে, এমন ব্যবস্থা করা। ব্যয়ের ক্ষেত্রে কোন গুরুতর অনিয়ম প্রমাণিত হলে প্রাথর্তিা বাতিল এমনকি নির্বাচিত হলেও তার পদ বাতিল ঘোষণা করার ব্যবস্থা থাকতে হবে।

৭. জাতীয় নির্বাচনকালীন সময়ে সরকার : 

ক. নির্বাচনকালীন সরকার নিছক “কেয়ার টেকার” হিসাবে দায়িত্ব পালন করবে অর্থাৎ শুধু সরকারের দৈনন্দিন কার্য সম্পাদন করবে। তার জন্যে প্রয়োজনীয় আইন প্রণয়ন করা যেতে পারে।

খ. নির্বাচনকালীন সময়ের জন্য সংবিধানের ভিতর থেকে একটি সর্বদলীয় জাতীয় সরকার গঠন করা যেতে পারে। সে ক্ষেত্রে মহামান্য রাষ্ট্রপতি অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে নির্বাচনকালীন সরকারের প্রধানের দায়িত্ব পালন করবেন। 

গ. বিদায়ী সংসদ ভেঙ্গে দিয়ে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠান করতে হবে। প্রয়োজনে সংবিধানের সংশোধনী আনতে হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ