ঢাকা, বুধবার 18 January 2017, ৫ মাঘ ১৪২৩, ১৯ রবিউস সানি ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

ট্রাম্পের টুইট জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি -জন ব্রেনান

১৭ জানুয়ারি, দ্য গাডিয়ান/ফক্স নিউজ/দ্য হিল/এবিসি নিউজ : নবনির্বাচিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে দেশটির জাতীয় নিরাপত্তা নিয়ে সতর্কতা বজায় রাখতে অসাবধানী কথা ও ট্ইুট করা থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিয়েছেন  দেশটির  কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ’র বিদায়ী পরিচালক জন ব্রেনান।
ট্রাম্প রাশিয়ার হুমকির বিষয় নিয়ে না বুঝেই মন্তব্য করছেন বলে অভিযোগ করেন ব্রেনান। মঙ্গলবার ব্রিটিশ পত্রিকা দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে এ খবরটি জানানো হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর প্রতি ট্রাম্প অবিচার করছেন বলে অভিযোগ করেছেন ব্রেনান।
সম্প্রতি ট্রাম্পের প্রচারণা শিবিরের সঙ্গে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সংযোগ থাকা নিয়ে খবর প্রকাশের পর গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর বিরুদ্ধে চড়াও হন তিনি। গত সপ্তাহে তিনি অভিযোগ করেন ভুয়া খবর জনগণের কাছে প্রকাশের ক্ষেত্রে গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর ভূমিকা রয়েছে। এ নিয়ে কয়েকটি টুইটও করেছিলেন ট্রাম্প। বলেন, ভুয়া খবর জনগণের কাছে গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর প্রকাশ করা উচিত হয়নি। টুইটে তিনি প্রশ্ন করেন, ‘আমরা কি নাৎসি জার্মানিতে বসবাস করছি? নাৎসি বাহিনী এই ধরনের অপরাধের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছিল।’
এই প্রেক্ষাপটে স্থানীয় সময় গত রোববার ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জন ব্রেনান উল্টো ট্রাম্পের সমালোচনা করেন। বলেন, গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকে নিয়ে ট্রাম্পের সাম্প্রতিক সমালোচনা আক্রমণাত্মক ছিল। তার টুইটগুলো জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি।
সিআইএ এর বিদায়ী পরিচালক আরও বলেন, ‘ট্রাম্প এখন আমাদের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য কিছু করার সুযোগ পেতে যাচ্ছেন। অথচ তিনি যা বলে কিংবা টুইট করেন তা তার উল্টো।’ যুক্তরাষ্ট্র ও জাতীয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত স্বার্থের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে তার অনেক দায়িত্ব থাকবে বলে ব্রেনান তার বক্তব্যে যোগ করেন। তাই ট্রাম্পকে আরও সতকর্তার সঙ্গে কথা বলার আহবান জানান তিনি।
এদিকে ম্যাসাচুয়েসটের সিনেটর ও ডেমোক্রেট নেত্রী এলিজাবেথ ওয়ারেন ট্রাম্পকে কঠোর ভাষায় সমালোচনা করলেন। কারণ, এর আগে ট্রাম্প মানবাধিকার কর্মী মার্কিন নাগরিক অধিকারের আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃত জন লুইসকে বাজে কথা বলেছিলেন। জন লুইস অবশ্য তার আগেই ট্রাম্প সম্পর্কে তিক্ত সমালোচনা করেছিলেন।
এই চলছে আমেরিকায় এখন। দুদিন পর ট্রাম্পকে ঘিরে একেকজনের আক্রমণ পাল্টা আক্রমণ। জন লুইসের দৃৃষ্টিতে ট্রাম্প একজন অবৈধ প্রেসিডেন্ট। রাশিয়ার হ্যাকাররাই তাকে অবৈধভাবে জয়ী করেছে। তাই ২০ জানুয়ারি  ট্রাম্পের অভিষেক অনুষ্ঠানেও তিনি অংশগ্রহণ করবেন না বলে জানিয়েছেন। জন লুইস বলেছেন, যাকে আপনি অপছন্দ করেন তার সঙ্গে আপনি একঘরে থাকতে পারেন না।
ট্রাম্প সেই কথার জবাব দিয়ে কড়া ভাষায় টুইট করেন। ট্রাম্প বলেছিলেন, নিজের তল্পি সামলান। খালি কথা কথা আর কথা। কাজ নাই মিনসের আকামের ঢেকি! ব্যস, তারপরই ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ফেটে পড়েছে ডেমোক্রেটের নেতা-কর্মীরা। অনেকেই তীব্র ভাষায় প্রতিবাদ করছেন। এর সঙ্গে যুক্ত হলেন এলিজাবেথ ওয়ারেন।
ওয়ারেন বলেন, জন লুইস যদি কাজ না করে থাকেন তাহলে কাজ করেছে কে! মানুষের অধিকার আদায়ের জন্য কে রাস্তায় পড়ে মার খেয়েছে? জন লুইসের সমালোচান করা মানে হচ্ছে এমন কারো সমালোচনা করা যে মানুষটি তার জীবনের চেয়ে বড়। তিনি নিজের জীবন বিলিয়ে দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের মানুষের সেবায়। এখন আমাদের সময় এসেছে সবাই একসাথে দাঁড়িয়ে এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করার।
জন লুইসের সমালোচনা করা মানে হচ্ছে আমাদের সবার অধিকারের উপর সমালোচনা করা। ভবিষ্যতে সুন্দর দেশ গড়ে তুলছে আমাদের এক্ষুণি প্রেসিডেন্টের হুমকির বিরুদ্ধে এক হতে হওয়ার আহবান জানান ওয়ারেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ