ঢাকা, বুধবার 18 January 2017, ৫ মাঘ ১৪২৩, ১৯ রবিউস সানি ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

গাইবান্ধা সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয় শতবর্ষে প্রাণের উচ্ছ্বাস

গাইবান্ধা সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের শতবর্ষ উদযাপনে ছাত্রীরা

গাইবান্ধা সংবাদদাতা: গাইবান্ধা সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের ছাত্রী মাহাবুব আরা বেগম এখন জাতীয় সংসদের হুইপ। তিনিই প্রধান অতিথি হিসেবে গত শনিবার সকাল সাড়ে নয়টায় বেলুন উড়িয়ে বিদ্যালয়ের শতবর্ষ অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন।
হুইপ মাহাবুব আরা বেগমের কাছে নিজের বিদ্যালয়ের শতবর্ষ অনুষ্ঠানের উদ্বোধনের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি এই বিদ্যালয়ের ছাত্রী ছিলাম। সেই বিদ্যালয়ের ১০০ বছর পূর্তি হচ্ছে। সেখানে আমি জাতীয় সংসদের হুইপ হয়ে উদ্বোধন করব, এটা কখনো ভাবিনি। এটা আমার জীবনে পরম পাওয়া।’
এই বিদ্যালয়ে যাঁরা ছাত্রী ছিলেন, বর্তমানে তাঁরা দেশ-বিদেশে নানা ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত। বিশেষত, দেশের বিভিন্ন জেলা ছাড়াও কানাডা, উগান্ডা থেকে প্রাক্তন ছাত্রীরা ছুটে এসেছেন জেলার অন্যতম বিদ্যাপীঠ গাইবান্ধা সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের শতবর্ষের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে। শতবর্ষ উদ্যাপন উপলক্ষে শনিবার দিনভর নানা কর্মসূচি পালিত হয়। সকালে বিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস থেকে আনন্দ শোভাযাত্রা বের হয়।
এতে নানা সাজে প্রাক্তন ও বর্তমান সহস্রাধিক ছাত্রী নেচে- গেয়ে আনন্দ উল্লাস করেন। শোভাযাত্রাটি শহর প্রদক্ষিণ শেষে গাইবান্ধা স্টেডিয়াম মাঠে গিয়ে শেষ হয়।
সেখানে প্রাক্তন ও বর্তমান ছাত্রীরা মিলনমেলায় যোগ দেন। দুপুরে স্টেডিয়াম মাঠে ‘স্মৃতির আঙিনায় মিলি সবে একসাথে’ শীর্ষক এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক মো. আবদুস সামাদ।
বক্তব্য দেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. শামছুল আজম, পৌর মেয়র শাহ্ মাসুদ জাহাঙ্গীর কবীর, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আলিয়া ফেরদৌস জাহান, প্রাক্তন ছাত্রী আফরোজাবেগমপ্রমুখ।
এই বিদ্যালয়ের ছাত্রী প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পরিচালক নীলিমা আক্তার বলেন, ‘অনুষ্ঠানে এসে ভালো লাগছে। বিশেষ করে, পুরোনো বান্ধবীদের সঙ্গে দেখা হওয়ায় বেশি ভালো লেগেছে।’
অনুষ্ঠানে যোগ দিতে কানাডা থেকে আসা মেহবুবা সুলতানা বলেন, ‘যে বিদ্যালয়ে পাঁচ বছর লেখাপড়া করেছি, সেই বিদ্যালয়ের শতবর্ষ অনুষ্ঠান হচ্ছে। শুনে বিদেশে থাকতে পারিনি। বিদ্যালয়ে এসে মনে হলো কিছু সময়ের জন্য হলেও ছাত্রীজীবন ফিরে পেলাম। ভালো লাগল।’
বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক আবুল কালাম আজাদ বলেন, ১৯১৬ সালের ৩১ জুলাই বিদ্যালয়টি স্থাপিত হয়।
সে হিসাবে ২০১৬ সালের ৩১ জুলাই শতবর্ষের অনুষ্ঠান হওয়ার কথা।
কিন্তু নানা কারণে তা করা সম্ভব হয়নি। সেই অনুষ্ঠান ।
এই অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের নয়জন গুণী শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়। তাঁদের ক্রেস্ট, ফুলের তোড়া ও উত্তরীয় পরানো হয়।
অনুষ্ঠান শেষে এক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে সংগীত পরিবেশন করেন বিদ্যালয়টির প্রাক্তন ছাত্রী পপি, সাবিনা, মালা, মিথীলা প্রমুখ। নৃত্য পরিবেশন করেন পিনাকি, কাক্সিক্ষতা, শান্তা, শিল্পী প্রমুখ। কবিতা আবৃত্তি করেন নীলিমা আক্তার, অদ্বিত্ব শাপলা, লুবনা ইয়াসমিন, খোদেজা রুমি প্রমুখ।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ