ঢাকা, বুধবার 18 January 2017, ৫ মাঘ ১৪২৩, ১৯ রবিউস সানি ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

নিলক্ষার চরে পুলিশ-ফকির ভক্তদের মধ্যে সংঘর্ষ ॥ ১০ জন আহত

নরসিংদী সংবাদদাতা: এক ফকিরের চল্লিশা উপলক্ষে বাউল গানের আয়োজনকে কেন্দ্র করে ফকির ভক্ত জনতা ও পুলিশের মধ্যে সৃষ্ট এক সংঘর্ষে কমপক্ষে ১০ ব্যক্তি আহত হয়েছে। এদের মধ্যে জালাল উদ্দিন (৪০) নামে গুলিবিদ্ধ এক ব্যক্তিকে গুরুতর অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরন করা হয়েছে। গত রোববার বিকেলে রায়পুরার নিলক্ষার চরের দড়িকান্দি দক্ষিণপাড়া হাদীর বাড়ীতে এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। অন্যান্য আহতদের মধ্যে শামসু নামে এক ব্যক্তির নাম জানা গেছে। বাকিদের নাম জানা যায়নি। এরা গোপন স্থানে চিকিৎসা নিচ্ছে বলে জানা গেছে।
নিলক্ষার চরের দড়িকান্দী গ্রামের খালেক ফকির নামে কথিত এক আধ্যাত্মিক ফকির ৪০ দিন পূর্বে মারা যান। এই খালেক ফকিরের চল্লিশা উপলক্ষে তার ভক্তরা গ্রামে হাদীর বাড়ীতে দু’দিনব্যাপী দোয়া, মিলাদ মাহফিল ও এক বাউল গানের আয়োজন করে। এতে গান পরিবেশনের কথা ছিল প্রথম দিন বাউল শিল্পী সুনীল কর্মকার ও মোঃ ক্বারী বারেক বৈদেশী। দ্বিতীয় দিন মোঃ আরিফ দেওয়ান ও মোঃ রজ্জব দেওয়ান। এই বাউল গানের ব্যাপারে থানা পুলিশের সাথে ফকির ভক্তদের একটি সমঝোতা তথা রফা দফাও হয়ে ছিল বলে জানা যায়।
যার ফলে এই কর্মসূচী উপলক্ষে খালেক ফকির ভক্তরা এলাকায় ব্যাপকভাবে পোস্টারিং করে প্রচারনা চালায় এবং হাদীর বাড়ীতে বৈঠক গানের বিশাল মঞ্চ তৈরী করে। মঞ্চের সামনে বসার জন্য বিশাল ব্যবস্থা করা হয়। ভক্তদেরকে আপ্যায়নের জন্য গরু জবাই করে খিচুড়ি পাকানোর ব্যবস্থাও করা হয়। এই উপলক্ষে আশেপাশের বহুসংখ্যক হকার সকাল থেকেই গ্রামে গিয়ে দোকান পেতে বসে। একদল দাঙ্গা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ভক্তদেরকে মারধরসহ এসব মঞ্চ, দোকানপাট, টেবিল চেয়ার ভাংচুর করতে থাকে। এ সময় ফকির ভক্তরা পুলিশকে বাধা দিলে উভয় পক্ষে সংঘর্ষ বেধে যায়। এক পর্যায়ে পুলিশ জনতাকে লক্ষ্য করে গুলি বর্ষণ করলে উল্লেখিতরা আহত হয়। এই ঘটনার সময় বাউল ভক্তরা ৩ পুলিশকে আটক করে রাখে।
পরে নরসিংদী থেকে অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে এলাকার লোকজনের সহযোগিতায় আটক পুলিশদেরকে উদ্ধার করে। এক পর্যায়ে ফকির ভক্তরা ছত্র ভঙ্গ হয়ে গেলে সংঘর্ষ থেমে যায়। তবে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা বিরাজ করছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ