ঢাকা, বুধবার 18 January 2017, ৫ মাঘ ১৪২৩, ১৯ রবিউস সানি ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

দিঘলিয়ায় চায়ের স্টলগুলোতে দিনরাত চলছে অশ্লীল ছবি ও জুয়া

খুলনা অফিস : খুলনার দিঘলিয়া উপজেলার সদরসহ প্রত্যন্ত অঞ্চলে চলছে কেরাম বোর্ডের নামে জুয়া খেলা। আর হাট বাজার ও স্কুল কলেজের পাশে প্রতিষ্ঠিত চায়ের স্টলগুলোতে দিনরাত টিভিতে অশ্লীল ছবি প্রদর্শন হচ্ছে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে স্কুল কলেজের ছাত্র ও এলাকার যুব সমাজ। কেরাম বোর্ডের নামে জুয়া খেলা বন্ধের দাবিতে এলাকাবাসী উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নিকট লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
অভিযোগে জানা যায়, উপজেলার পথের বাজার প্রাচীন ও বড় বাজার। এখানে রয়েছে পাঁচ শতাধিক বিভিন্ন ধরণের দোকান। একটি স্বার্থান্বেষী মহল দীর্ঘদিন যাবৎ এখানে কেরাম বোর্ড খেলার নামে জুয়া চালাচ্ছে। অথচ এই বাজারের পাশেই একটি মহিলা কলেজসহ তিনটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। অনেক শিক্ষার্থী ক্লাস টাইমে লেখাপড়ার পরিবর্তে কেরাম বোর্ডের নামে জুয়া খেলায় মেতে ওঠে। ছাত্রদের লেখাপড়ার ক্ষতির পাশাপাশি কেরাম বোর্ডের জুয়ার টাকা জোগাড় করতে গিয়ে তারা বিভিন্ন ধরণের অপরাধের সাথে জড়িয়ে পড়ছে। এ কারণে প্রায়ই বাজারে চুরির ঘটনা ঘটছে।
এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, উপজেলার সেনহাটী স্টার ২নং গেট বাজারে দু’টি স্থানে, চন্দনীমহল বাজারে, সেনহাটী বাজারে, দিঘলিয়ার সোনালী জুট মিলস্ খেয়াঘাট সংলগ্ন, বারাকপুর, লাখোহাটি, নন্দনপ্রতাপ, গাজীরহাট বাজার, কামারগাতী খেয়াঘাটসহ উপজেলার সর্বত্র সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চায়ের স্টলে টিভিতে অশ্লীল ছবি এবং কেরাম বোর্ডের আসর বসে। এর নেশায় আসক্ত হয়ে স্কুল-কলেজে যাওয়ার পথে ছাত্ররা চায়ের স্টল ও কেরাম বোর্ডের ঘরে ভিড়ে যায়। এতে অনেক দরিদ্র মেধাবী ছাত্রের লেখাপড়া ধ্বংসের পাশাপাশি চিরতরে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।
একদিকে যুব সমাজ ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে যাচ্ছে। আর এগুলো হচ্ছে সবই প্রশাসনের চোখের সামনে। অপরদিকে সামাজিক অবক্ষয় অন্যদিকে জুয়ার টাকা জোগাড় করতে গিয়ে চুরি, ডাকাতি, ছিনতাইসহ নানা অপরাধ কর্মকান্ডে জড়িয়ে পড়ছে।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকগণ জানান, ছাত্র ও যুবকেরা এসব অশ্লীল ছবি দেখে দিন দিন অবক্ষয়ের দিকে যাচ্ছে। আর এ কারণে ইভটিজিং বা যৌন হয়রানির মত অপরাধ বৃদ্ধি পাচ্ছে। অতিদ্রুত চায়ের স্টলের অশ্লীল ছবি প্রদর্শন বন্ধ করার জন্য সমাজের সকলকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। গ্রামাঞ্চলে যত্রতত্র দোকান গড়ে ওঠায় এবং এসব দোকানের ভিতর টিভি প্রদর্শন ও দোকানের সাথে মিশিয়ে কেরাম বোর্ডের নামে জুয়ার আসর বসানোর কারণে শিক্ষার্থীদের লেখাপড়া হুমকির মুখে পড়ছে। যুব সমাজ ও শিক্ষার্থী মাদকাসক্ত ও জুয়া খেলায় আসক্ত হচ্ছে।
এ ব্যাপারে উপজেলার পথের বাজার বণিক সমিতির পক্ষ থেকে উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর লিখিত অভিযোগ দেয়া হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার আব্দুর রহমান জানান, কেরাম বোর্ডের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে অভিযান শুরু করেছি। খুব দ্রুত উপজেলার সর্বত্র চায়ের স্টল থেকে অশ্লীল ছবি বন্ধের ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ